খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

রামেক হাসপাতাল: পোড়া এক্স-রে মেশিন পকেট কাটছে সিন্ডিকেট

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রামেক হাসপাতাল: পোড়া এক্স-রে মেশিন পকেট কাটছে সিন্ডিকেট

রামেক হাসপাতাল: পোড়া এক্স-রে মেশিন পকেট কাটছে সিন্ডিকেট

অপরাধ ডেস্ক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন পুড়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে সেটি মেরামত বা নতুন মেশিন স্থাপন করা হয়নি। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়া রোগীদের জিম্মি করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অতিরিক্ত অর্থে বাইরে থেকে মেশিন এনে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারির শেষ দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে রাখা সচল পোর্টেবল এক্স-রে মেশিনটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে মুহূর্তেই মূল্যবান মেশিনটি সম্পূর্ণ পুড়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

ঘটনার পরপরই হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একজন অধ্যাপককে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তারা নির্দিষ্ট সময়েই প্রতিবেদন জমা দেন। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তিকে আগুন দিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত তাকে শনাক্ত করতে পারেনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, কাউকে চিহ্নিত করতে না পারায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এদিকে মেশিন পুড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মনে।

জরুরি প্রয়োজনে ওয়ার্ডের ভেতরে এক্স-রে করার সুবিধা বন্ধ থাকায় রোগীদের এখন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বাইরের সিন্ডিকেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। হাসপাতালের নিজস্ব রেডিওলজি বিভাগে নামমাত্র খরচে এই পরীক্ষা করা গেলেও বাইরে থেকে আনা মেশিনে রোগীদের গুনতে হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের দেয়ালে গোপনে এই সেবার প্রচারপত্রও সাঁটানো হয়েছে এবং ছুটির দিনেও চড়া মূল্যে এক্স-রে করার অফার দেওয়া হচ্ছে। এতে দরিদ্র রোগীরা আর্থিক দিক থেকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পুড়ে যাওয়া মেশিনটি মেরামতের জন্য জাতীয় ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট রক্ষণাবেক্ষণ কর্মশালায় একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নতুন মেশিন ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং তারা দ্রুত সংকট সমাধানের আশা প্রকাশ করছেন। ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও প্রশাসনিক পালাবদলের এই সময়ে সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি এখনো কমাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

advertisement
advertisement

জমির নিবন্ধনে ‘মান্ধাতা-প্রীতি’ আর কতদিন, এতে কার লাভ?

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জমির নিবন্ধনে ‘মান্ধাতা-প্রীতি’ আর কতদিন, এতে কার লাভ?

জমির নিবন্ধনে ‘মান্ধাতা-প্রীতি’ আর কতদিন, এতে কার লাভ?

জাতীয় ডেস্ক: দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় নামজারি প্রক্রিয়া এখনো বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ রয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একজন সাধারণ নাগরিক জমি কেনার পর দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন করলেই আইনগতভাবে মালিকানা লাভ করেন। তবে সরকারি রেকর্ডপত্রে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হলে তাকে আলাদাভাবে নামজারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ মানুষকে প্রায়ই নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, নামজারির জন্য আবেদন করার পর সেই নথি চলে যায় সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার বা ভূমি কার্যালয়ে। সেখান থেকে আবেদনটি মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। এই স্তরগুলো পার হতে বেশ কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়, যা সেবাগ্রহীতাদের জন্য নানা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ডিজিটাল যুগের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আসার পরও ভূমি খাতের অনেক প্রক্রিয়ায় পুরনো পদ্ধতি বজায় থাকায় জনদুর্ভোগ পুরোপুরি কমছে না। ভূমি মালিকদের রেকর্ড হালনাগাদ করার এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করার তাগিদ দীর্ঘদিন ধরে অনুভব করছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা দূর করার বিকল্প নেই।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে পুরো নামজারি প্রক্রিয়াটি আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন মানুষের সময় বাঁচবে, অন্যদিকে অহেতুক ভোগান্তি ও দুর্নীতিও অনেকাংশে কমে আসবে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

লুলার জয় লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
লুলার জয় লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা

লুলার জয় লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রাজিলের সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা এক অভাবনীয় রাজনৈতিক বিজয় অর্জন করেছেন। নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর তুলনায় পিছিয়ে পড়ায় লুলার সমর্থকদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে চমকপ্রদ জয় তুলে নেন তিনি। তার এই বিজয় আগের সব জনমত জরিপকে ভুল প্রমাণ করে রাজনীতিতে তার নাটকীয় পুনরুত্থান ঘটিয়েছে।

লুলার এই ঐতিহাসিক জয় লাতিন আমেরিকা জুড়ে ডানপন্থিদের ধারাবাহিক নির্বাচনি জয়ের ধারাকে জোরালোভাবে প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে এটি পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপমূলক এজেন্ডার ওপরও বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে লুলার সরকারের আমলে দেশটির অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করে এবং বেকারত্বের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এছাড়া আমাজন অঞ্চলে বন উজাড়ের হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশটি জাতিসংঘের ক্ষুধা মানচিত্র থেকেও নিজেদের মুক্ত করতে সক্ষম হয়।

নির্বাচনের প্রচারণায় ভোটারদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছিল। লাখ লাখ ব্রাজিলীয় চড়া সুদের ঋণ ও অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় সমাজে একধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এর জবাবে লুলা ঋণ মওকুফ, সামাজিক সুবিধার পরিধি বৃদ্ধি এবং কাজের সময় কমানোর মতো সাহসী কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে তার প্রতিপক্ষ ফ্লাভিও বলসোনারো সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োগের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন।

এই নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে আন্তর্জাতিক প্রভাবের বিষয়টিও বেশ আলোচনায় ছিল। বিদেশি শক্তির নানা ধরনের প্রকাশ্য সমর্থন ও হস্তক্ষেপের মুখেও ব্রাজিলের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষেই রায় দিয়েছেন। লুলার এই পুনর্নির্বাচন লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশে ডানপন্থি শক্তির অগ্রযাত্রাকে স্তিমিত করে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে এই ফলাফল ব্রাজিলের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে আরও সুদৃঢ় করবে।

মানুষ কি মাংস খাওয়ার জন্যই তৈরি, নাকি নিরামিষেই সুস্থ থাকা সম্ভব

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মানুষ কি মাংস খাওয়ার জন্যই তৈরি, নাকি নিরামিষেই সুস্থ থাকা সম্ভব

মানুষ কি মাংস খাওয়ার জন্যই তৈরি, নাকি নিরামিষেই সুস্থ থাকা সম্ভব

স্বাস্থ্য ডেস্ক: মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সমাজে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিতর্ক দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। কেউ কেউ মনে করেন মানুষ প্রকৃতিগতভাবে মাংস খাওয়ার জন্যই তৈরি, আবার অনেকের মতে নিরামিষ খাবারই মানব শরীরের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। পুষ্টিবিদ ও গবেষকরা এই বিষয়টির গভীরে গিয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেছেন। আমাদের দাঁতের গঠন, পরিপাকতন্ত্র এবং শরীরের অন্যান্য জৈবিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তর খোঁড়ার চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, শারীরবৃত্তীয় গঠনের দিক থেকে মানুষ সর্বভুক বা অম্নিভোরস প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ আমাদের শরীর উদ্ভিদ এবং প্রাণী—উভয় উৎস থেকেই পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে সক্ষম। মানুষের চোয়াল এবং দাঁতের গঠনে তীক্ষ্ণ মাংস কাটার দাঁতের পাশাপাশি শস্য বা শাকসবজি চিবানোর মতো চ্যাপ্টা দাঁতও রয়েছে। এছাড়া আমাদের পরিপাকতন্ত্র এমনভাবে বিবর্তিত হয়েছে যা আমিষ এবং নিরামিষ উভয় ধরনের খাবারই সহজে হজম করতে পারে।

স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি। মাংস বা উদ্ভিজ্জ খাবার যাই খাওয়া হোক না কেন, শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল এবং ফাইবার সরবরাহ হচ্ছে কি না সেটাই মূল বিষয়। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়ার ফলে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে সুষম ও পরিকল্পিত নিরামিষ ডায়েট অনুসরণ করেও শরীরের সমস্ত পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

সব মিলিয়ে কোনো একটি বিশেষ খাদ্যপদ্ধতিকেই একমাত্র সঠিক বলে দাবি করা বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক নয়। ব্যক্তির শারীরিক চাহিদা, বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করা উচিত। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমেই কেবল দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও সবল থাকা সম্ভব।