খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

সংস্কার লংমার্চে নয়, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সংস্কার লংমার্চে নয়, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংস্কার লংমার্চে নয়, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক: রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি বাস্তবায়নের জন্য রাজপথে লংমার্চ না করে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমতগুলো শিথিল করতে হলে আলোচনার মাধ্যমেই তা করতে হবে এবং এর জন্য বিরোধী দলকে নির্দিষ্ট ফোরামে আসতে হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট এবং বাকশাল বিষয়ক ওই সেমিনারে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সনদের সরাসরি কোনো আইনি ভিত্তি না থাকলেও এর পেছনে থাকা রাজনৈতিক সমঝোতা যেকোনো আইনি ভিত্তির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের শেষ পর্যায়ে যখন এই সনদের আইনি বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তখন সব পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমেই বিষয়টির একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান। ভবিষ্যতে দেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচারী শাসন বা জুলাই জাদুঘর তৈরির পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান তিনি।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সংবাদমাধ্যম, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও তারুণ্যের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য তিনি বিরোধী দলসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার করা সম্ভব হলে তা জাতির জন্য কল্যাণকর হবে এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পথ চিরতরে বন্ধ করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংসদীয় কমিটির প্রধান পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার সুপারিশ করার পাশাপাশি উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য দ্রুত নিরপেক্ষ আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান। এ ছাড়া বাকশাল ও চতুর্থ সংশোধনীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই সময় এক ব্যক্তির হাতে সর্বময় ক্ষমতা অর্পণের মাধ্যমে মূলত সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করা হয়েছিল, যা পরবর্তী সকল সাংবিধানিক বিপর্যয়ের মূল কারণ ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে আরও অনেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।

advertisement
advertisement

সিংগাইরে জমি জরিপে ঘুষ-বাণিজ্য, কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছেন সার্ভেয়াররা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিংগাইরে জমি জরিপে ঘুষ-বাণিজ্য, কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছেন সার্ভেয়াররা

সিংগাইরে জমি জরিপে ঘুষ-বাণিজ্য, কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছেন সার্ভেয়াররা

অপরাধ ডেস্ক: মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে বা বিডিএস কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জমির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পাশাপাশি টাকা না দিলে জমির রেকর্ড না দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে একজনের জমি অন্য ব্যক্তির নামে রেকর্ড করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। সম্প্রতি জরিপের কাজ সম্পূর্ণ না করেই সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়াররা হঠাৎ এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উপজেলার চন্দহর ইউনিয়নের ফতেহপুর মৌজা এবং সিংগাইর পৌরসভার বিনোদপুর বড়খণ্ড মৌজায় এই জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। জমির সঠিক পরিমাপ ও মালিকানা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ের অনিয়মের কারণে পুরো প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জমি নিজেদের দখলে থাকা সত্ত্বেও এবং বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনের পরেও সার্ভেয়ারদের দাবি করা টাকা দিতে না পারায় তাদের নাম রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বার্তা গ্রামের মোড়ল বাড়ির মো. সিরাজের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর পরিবারের আড়াই বিঘা জমি রেকর্ডভুক্ত করার জন্য দায়িত্বরত সার্ভেয়ার প্রতি শতাংশের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। জমিসমূহ নিজেদের দখলে থাকা সত্ত্বেও এই বিশাল অঙ্কের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর জমি রেকর্ডের বাইরে রাখা হয়। একই গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, তাঁর নিজের ১০ শতাংশ জমি রেকর্ড করতে নয় হাজার টাকা দিতে বাধ্য হলেও, একই দাগে তাঁর ভাবির সমপরিমাণ জমি রেকর্ড করার জন্য দালালের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। চাহিদামতো অর্থ প্রদান করতে না পারায় সেই জমির রেকর্ড সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জরিপের কাজে অনিয়মের ফলে সৃষ্ট ভুলের কারণে অনেক জমির মালিক এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলে জানা গেছে। ফতেহপুর গ্রামের রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি জানান, বৈধ দলিল ও নিজেদের দখল থাকা সত্ত্বেও তাঁর প্রায় ছয় শতাংশ জমি অন্য এক ব্যক্তির নামে রেকর্ড করে দেওয়া হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এই জালিয়াতি করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি জানান, এই ভুল সংশোধনের জন্য তিনি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও সংশ্লিষ্ট কাউকে পাচ্ছেন না। কারণ হিসেবে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ের নির্ধারিত কাজ অসমাপ্ত রেখেই সার্ভেয়াররা এলাকা ত্যাগ করেছেন। পলি নামের অপর এক জমির মালিক জানান, এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অসম্পূর্ণ জরিপ কাজ এবং সার্ভেয়ারদের হঠাৎ প্রস্থান এলাকার জমির মালিকদের গভীর আইনি ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সার্ভেয়ার আলাউদ্দিন দাবি করেছেন যে তাঁদের নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে এবং কিছুদিন পর আবার জরিপ কার্যক্রম শুরু হবে। মাঠপর্যায়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ঘুষ নেওয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন যে তাঁর দপ্তরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ এখনো জমা পড়েনি। সুনির্দিষ্ট তথ্য বা লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুন্নাহার পপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে জমি জরিপ বা রেকর্ড করার কার্যক্রমে অর্থ লেনদেনের কোনো বৈধ সুযোগ নেই। এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়া জরিপের সময় অনিচ্ছাকৃত বা অসদুপায়ে কোনো ভুল হয়ে কারও জমি অন্যের নামে রেকর্ড হয়ে থাকলে প্রচলিত আইনি বিধান অনুযায়ী তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসে ভুক্তভোগী মানুষেরা কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।

পৃথিবীর ৮টি বিখ্যাত ভুতুড়ে প্রাসাদ, যেখানে আজও ঘুরে বেড়ায় অশরীরীর গল্প

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পৃথিবীর ৮টি বিখ্যাত ভুতুড়ে প্রাসাদ, যেখানে আজও ঘুরে বেড়ায় অশরীরীর গল্প

পৃথিবীর ৮টি বিখ্যাত ভুতুড়ে প্রাসাদ, যেখানে আজও ঘুরে বেড়ায় অশরীরীর গল্প

ফিচার ডেস্ক: পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন রাজপ্রাসাদ, ঐতিহাসিক দুর্গ ও সুউচ্চ টাওয়ারগুলো বরাবরই সাধারণ মানুষের মধ্যে এক অন্যরকম রহস্যের জন্ম দিয়ে আসছে। রূপকথার বই কিংবা রুপালি পর্দার সিনেমায় আমরা যে ধরনের ভৌতিক কাহিনি দেখে থাকি, তার অনেকগুলোর বাস্তব রূপ লুকিয়ে রয়েছে এসব সুপ্রাচীন স্থাপত্যের অন্দরে। শত শত বছর ধরে টিকে থাকা এই রাজকীয় ভবনগুলোর একেকটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা ধরনের রোমাঞ্চকর ও লোমহর্ষক ইতিহাস। যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও এসব স্থানের গায়ে লেগে থাকা অতীতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার দাগগুলো আজও ফিকে হয়ে যায়নি।

ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে এসব দুর্গে সংঘটিত ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এই স্থানগুলোকে কালক্রমে ভৌতিক আস্তানায় পরিণত করেছে। অনেক রাজা, রানি, সেনাপতি কিংবা সাধারণ প্রজা তাদের জীবনের শেষ সময়গুলো কাটিয়েছেন অত্যন্ত বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আজও যেন ওই পরিবেশের মধ্যে রয়ে গেছে। ঐতিহাসিক এসব ভবনের একেকটি অন্ধকার কক্ষ, দীর্ঘ করিডোর কিংবা গোপন সুরঙ্গ যেন অতীত জীবনের সেই দুঃখজনক অধ্যায়গুলোর নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক এবং গবেষক এসব স্থানে ঘুরে বেড়ানোর সময় প্রায়ই নানা ধরনের অদ্ভুত ও অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানান। কেউ গভীর রাতে করিডোরে পায়ের আওয়াজ শোনার দাবি করেন, তো কেউ আবার ফাঁকা কামরায় হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার মতো ভৌতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। মাঝেমধ্যে রাতের অন্ধকারে এসব প্রাসাদের জানালা দিয়ে রহস্যময় আলো জ্বলতে দেখা যায় কিংবা শূন্যে মিলিয়ে যাওয়া কোনো ছায়ার অবয়ব চোখে পড়ে। এসব অশরীরী উপস্থিতির গল্পগুলো স্থানগুলোকে আরও বেশি রহস্যময় ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে ভ্রমণপিপাসী মানুষের কাছে।

বিজ্ঞান ও যুক্তির আলোয় এসব ঘটনার পুরোপুরি ব্যাখ্যা মেলেনি আজও, যা এসব প্রাসাদের রহস্যকে টিকিয়ে রেখেছে আরও জোরালোভাবে। ইতিহাসের অমীমাংসিত অধ্যায় আর মানুষের অন্তহীন কৌতূহলের মিশ্রণে এই প্রাচীন প্রাসাদগুলো আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে ভিন্‌জাগতিক এক ঘেরাটোপে। দিনবদলের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে অগণিত সাহসী পর্যটক এই রহস্যময় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে ছুটে আসেন, যার ফলে এই ভৌতিক কাহিনিগুলো আজও বিশ্বজুড়ে সমানভাবে জীবন্ত ও জনপ্রিয় হয়ে রয়েছে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই হাত হারানো সীতাকুণ্ডের রাব্বি এবারও পেলেন জিপিএ-৫

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই হাত হারানো সীতাকুণ্ডের রাব্বি এবারও পেলেন জিপিএ-৫

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই হাত হারানো সীতাকুণ্ডের রাব্বি এবারও পেলেন জিপিএ-৫

শিক্ষা ডেস্ক: অদম্য মনোবল ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রফিকুল ইসলাম রাব্বি। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। এর আগে একই শিক্ষার্থী পা দিয়ে লিখে মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন। তার এই ধারাবাহিক সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাব্বির এই জয়যাত্রা এখন অনেকের জন্যই এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

রাব্বির এই জীবন সংগ্রাম শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে, যখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী ফুটওভার ব্রিজের ওপর একটি ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে মারাত্মকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তার শরীরের দুই হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায় এবং চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি হাতই কেটে ফেলতে বাধ্য হন। এত বড় একটি ট্র্যাজেডির পর দরিদ্র পরিবারের এই কিশোরের জীবন ও ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু রাব্বি কোনো অবস্থাতেই হার না মেনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।

প্রাথমিকভাবে লেখার জন্য মুখ ব্যবহার করলেও পড়াশোনার গতি বাড়াতে তিনি পা দিয়ে লেখার কৌশল রপ্ত করেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুখ দিয়ে লেখার পর পরবর্তী সময়ে পা দিয়েই সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সফল হতে থাকেন তিনি। তার এই দীর্ঘ পথচলায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক এবং বিভিন্ন দাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাশে দাঁড়িয়েছে। গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌসী কাদরী রাব্বির পড়াশোনার আর্থিক খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ওসমান নামের এক শিক্ষক তাকে বিনামূল্যে কোচিং করিয়েছেন। বাবা-মায়ের দিনমজুরির সামান্য আয়ের সংসার আর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়েও রাব্বি তার পড়াশোনা সফলভাবে চালিয়ে গেছেন।

ভবিষ্যতে একজন বিজ্ঞানী হওয়ার সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন রয়েছে রাব্বির এবং তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে স্থানীয় বিশিষ্টজনেরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, মনের জোর থাকলে যে কোনো বাধা পেরিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। রাব্বির এই সংগ্রাম ও সাফল্য কেবল তার নিজের পরিবারকেই নয়, বরং পুরো সমাজকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাচ্ছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে তার এই সাহসিকতা ও অধ্যবসায় এক অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।