খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

জনগণ শুধু ভোটার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর অংশীদার: জেএসডি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জনগণ শুধু ভোটার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর অংশীদার: জেএসডি

জনগণ শুধু ভোটার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর অংশীদার: জেএসডি

রাজনীতি ডেস্ক: শুধুমাত্র শাসক কিংবা সরকারের পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের ক্ষমতার উৎস, কাঠামো ও চরিত্রের মৌলিক পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। দলটির মতে, পুরোনো ক্ষমতা কাঠামোর বিলোপ সাধন করে অংশীদারত্বমূলক গণতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে নতুনভাবে রূপান্তর করতে হবে। রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন এবং সাধারণ মানুষকে কেবল ভোটদাতা হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার তাগিদ দেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক সোহরাব হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, শোষণহীন সমাজ গঠনের দীর্ঘ লড়াইয়ের অঙ্গীকার নিয়ে এই দলের পথচলা শুরু হয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে কেবল রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচিকে সামনে নিয়ে আসা আদর্শিক অবস্থান থেকে এক ধরনের বিচ্যুতি। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া উল্লেখ করেন যে, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও সরকার কাঙ্ক্ষিত পথে এগোচ্ছে না। ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত রূপ পরিবর্তন করে একে বিকেন্দ্রীভূত না করলে রাষ্ট্র পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।

দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা রাষ্ট্র সংস্কার এখন আর কোনো একক রাজনৈতিক দলের দাবি নয়, এটি আজ সর্বস্তরের জনগণের জোরালো দাবিতে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত কোনো সংগ্রামের স্বপ্নই পুরোপুরি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি, তবুও সমাজ বদলের এই লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমদ মনে করেন, সংসদের উচ্চকক্ষে বিভিন্ন সামাজিক শক্তির সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠিত হবে।

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন জানান, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার ক্ষমতার হাতবদল ঘটলেও কাঠামোগত কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ মানুষের কার্যকর অংশগ্রহণ আজও নিশ্চিত করা যায়নি। সভাপতির বক্তব্যে তানিয়া রব জুলাই সনদের অঙ্গীকার ও গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

advertisement
advertisement

সংবিধান না মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি গায়ের জোরের শামিল: রিজভী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সংবিধান না মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি গায়ের জোরের শামিল: রিজভী

সংবিধান না মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি গায়ের জোরের শামিল: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক: রাজনৈতিক অঙ্গনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশের বিদ্যমান সংবিধান লঙ্ঘন করে এই সনদ কার্যকর করার জোর প্রচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ। তাদের মতে, কোনো ধরনের জাতীয় ঐকমত্য বা আলোচনা ছাড়া একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

এই বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সম্প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, প্রস্তাবিত জুলাই সনদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধারার সঙ্গে বিএনপির পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দ্বিমত বা আপত্তি রয়েছে। এই মতপার্থক্যগুলোকে পাশ কাটিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যেকোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সব অংশীজনের মতামতকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আপত্তি থাকা বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও গণতান্ত্রিক সমাধানে পৌঁছানো জরুরি। গায়ের জোরে কোনো কিছু বাস্তবায়ন করার মানসিকতা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিলে তা দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমেই কেবল একটি গ্রহণযোগ্য পথ বের করা সম্ভব বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণকারীরা।

কামিন্দুর সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বড় পুঁজি, পাকিস্তানের লক্ষ্য ৩২৬

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কামিন্দুর সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বড় পুঁজি, পাকিস্তানের লক্ষ্য ৩২৬

কামিন্দুর সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বড় পুঁজি, পাকিস্তানের লক্ষ্য ৩২৬

খেলা ডেস্ক: লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে আট উইকেট হারিয়ে তিনশ ২৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছে শ্রীলঙ্কান দল। ফলে শিরোপা নিজেদের করে নিতে হলে স্বাগতিক পাকিস্তানকে তিনশ ২৬ রানের লক্ষ্য টপকাতে হবে। শুরু দিকে পাকিস্তানি বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের মুখে কিছুটা বিপাকে পড়লেও শেষ পর্যন্ত দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রের এই দলটি।

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সতর্ক সূচনা করেছিল শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার। আভিষ্কা ফার্নান্ডো ও কামিন্দু মেন্ডিসের উদ্বোধনী জুটি স্কোরবোর্ডে ফিফটি পার করে দেয়। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে জোড়া উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় তারা। আভিষ্কা ৩৮ এবং কুশল মেন্ডিস মাত্র আট রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের গতি মন্থর হয়ে আসে।

তবে সেই প্রাথমিক চাপ কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেন কামিন্দু মেন্ডিস ও পাভান রত্নায়েকে। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন মিলে একশ ছেচল্লিশ রানের এক দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলকে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে যান। এই চমৎকার ইনিংস খেলার পথে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক তুলে নেন কামিন্দু। তিনি একশ একত্রিশ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে আউট হন। অন্যদিকে পাভান রত্নায়েকে সচল রাখেন রান তোলার গতি এবং খেলেন সাতাত্তর রানের দায়িত্বশীল একটি ইনিংস।

জুটি ভাঙার পর পাকিস্তানের পেসাররা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার রান তোলায় কিছুটা লাগাম টানেন। দলটির সংগ্রহ একসময় দুই উইকেটে দুইশ পঞ্চান্ন থেকে হঠাৎ আট উইকেটে তিনশ সাতে নেমে আসে। তা সত্ত্বেও শেষ দিকের ব্যাটারদের কল্যাণে নির্ধারিত ওভার শেষে তিনশ পঁচিশ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয় দলটি। পাকিস্তানের পক্ষে সফল বোলারদের মধ্যে শাহীন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, সালমান আগা ও হারিস রউফ প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু

জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু

রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের ইসলামি রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াতে ইসলামী এবং কওমিপন্থী আলেমদের মধ্যকার সম্পর্ক বরাবরই বেশ জটিল ও সংঘাতপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে এই দুই ধারার মধ্যকার আদর্শগত ও কৌশলগত দূরত্ব সবসময়ই একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তাদের এই সম্পর্কের টানাপোড়েন বিভিন্ন সময়ে নানা রূপ নিয়েছে এবং তা জাতীয় রাজনীতিকেও প্রভাবিত করেছে।

এই বিরোধের সূচনা হুট করে হয়নি, এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী ঐতিহাসিক ও মতাদর্শিক প্রেক্ষাপট। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লড়াইয়ে এই দুটি পক্ষ প্রায়শই বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মধ্যকার এই দূরত্বের মূল কারণ লুকিয়ে আছে ধর্মীয় ব্যাখ্যা, রাজনৈতিক দর্শন এবং ক্ষমতা দখলের কৌশলের মৌলিক পার্থক্যের মধ্যে।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর আধুনিক সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে কওমি মাদরাসাভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী ধারার চিন্তাধারার মেলবন্ধন সবসময়ই কঠিন ছিল। কওমি আলেমরা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও সমাজ ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেন, যা অনেক সময় জামায়াতের রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সময়ের পরিক্রমায় এই দুই শক্তির বিরোধ কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা আদর্শগত দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের পালায় এই দুই ধারার মধ্যকার সম্পর্ক নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। বিভিন্ন জাতীয় সংকটে তাদের একত্রে দেখা গেলেও মৌলিক ইস্যুতে তাদের অনমনীয় অবস্থান এখনো বজায় রয়েছে। ইসলামি রাজনীতির এই দুই প্রধান শিবিরের পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে আগামী দিনের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ।