খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার

জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তীব্র তাপপ্রবাহ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে প্রতিবছর বিশাল অঙ্কের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বেসরকারি গবেষণা সংস্থা নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে এই alarming তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্যখাতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তার আর্থিক মূল্য প্রায় দুই হাজার ৭০ কোটি ডলার বা দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। এই বিশাল পরিমাণ অর্থ দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির চার দশমিক ছয় শতাংশের সমান। মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাস, অকালমৃত্যু এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করেই মূলত এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে। তবে জলবায়ুজনিত এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য দেশের স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গবেষণার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্ট গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মূলত বিগত দশকের তুলনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে অসহনীয় তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হৃদ্রোগ, কিডনি জটিলতা এবং শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর বিস্তার লাভের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

গবেষণার হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছর অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে দেশে প্রায় দুই হাজার ৯৩০ কোটি সম্ভাব্য কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। কেবল এই নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টার অর্থনৈতিক মূল্যই প্রায় এক হাজার ৫৭০ কোটি ডলারের সমান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের কৃষি খাত, যেখানে মোট হারানো কর্মঘণ্টার প্রায় চৌষট্টি শতাংশ ব্যয় হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে কেবল কৃষিশ্রমিকরাই নন, বরং নির্মাণশ্রমিক এবং খোলা আকাশের নিচে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করা পেশাজীবীরাও প্রতিনিয়ত নিজেদের কর্মক্ষমতা ও আয় হারাচ্ছেন। তবে এই হিসাবের মধ্যে বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রাণঘাতী নয় এমন অন্যান্য অসুস্থতার চিকিৎসা ব্যয় যুক্ত করা হয়নি। ফলে বাস্তব ক্ষেত্রে অর্থনীতির ওপর সামগ্রিক ক্ষতির বোঝা আরও অনেক বেশি ভারী হবে বলে গবেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। মডেলভিত্তিক বিভিন্ন হিসাবের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কেবল উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত নানা জটিলতার কারণে এক বছরে দেশে প্রায় ১৬ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বন্যায় নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকট তৈরি হওয়া, সামগ্রিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর ঝুঁকিগুলোও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের সাধারণ মানুষ তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিজেদের পকেট থেকেই ব্যয়ের সিংহভাগ বহন করছে, যা দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আরও বড় চাপ তৈরি করছে।

গবেষণায় ডেঙ্গু সংক্রমণের সঙ্গে তাপমাত্রার একটি স্পষ্ট যোগসূত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে পরবর্তীতে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তির হার বহুগুণ বেড়ে যায়। কেবল একটি নির্দিষ্ট বছরেই ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, যার সঙ্গে বহির্বিভাগের চিকিৎসার খরচ যুক্ত নেই। তাছাড়া গত কয়েক বছরে আকস্মিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বায়ুদূষণের কারণে বহু মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁkinর শিকার হয়েছে। অথচ এমন একটি জটিল পরিস্থিতিতেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বরাদ্দকৃত বাজেট যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট একটি অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জলবায়ুসংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ অর্থের খুব সামান্য অংশই সঠিকভাবে ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছে। এই বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যখাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরাও মনে করছেন যে, বর্তমান জনস্বাস্থ্য সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক স্বাস্থ্যগত প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী সুপারিশমালা পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমের আগেই একটি কার্যকর জাতীয় তাপ ও স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যখাতের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলোকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন গবেষকরা। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে। মহিলা, শিশু ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বিশেষ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

advertisement
advertisement

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. তাহের

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. তাহের

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. তাহের

রাজনীতি ডেস্ক: বিদেশি একটি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন করে অবশেষে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিমানযোগে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। দীর্ঘদিন বাইরে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে নেতাকর্মীদের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট ওই ফ্লাইটে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে তার সহধর্মিণী প্রফেসর ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইটও সফরসঙ্গী হিসেবে দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ করার পর তারা দুজনেই সুস্থ অবস্থায় বিমানবন্দর টার্মিনালে এসে পৌঁছান। ভ্রমণ ক্লান্তি সত্ত্বেও বিমানবন্দরে উপস্থিত শুভানুধ্যায়ী ও দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন।

বিমানবন্দর এলাকায় তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বিমানবন্দর চত্বর।

উল্লেখ্য, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে তাকে দেশের বাইরে অবস্থান করতে হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে তিনি আবারও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি নিজ বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

নোয়াখালীতে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ, তদন্ত চায় জামায়াত

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নোয়াখালীতে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ, তদন্ত চায় জামায়াত

নোয়াখালীতে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ, তদন্ত চায় জামায়াত

জাতীয় ডেস্ক: নোয়াখালী জেলায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলে ধরে দলটির পক্ষ থেকে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানানো হয়েছে। জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার সংবাদ সম্মেলনে সশরীরে উপস্থিত থেকে এই গুরুতর অভিযোগগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সারের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা নিয়মকানুন সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। যাদের সার ব্যবসার কোনো পূর্বঅভিজ্ঞতা নেই, নিজস্ব দোকান কিংবা নির্ধারিত গুদাম নেই—এমন অযোগ্য ব্যক্তিদেরও রাজনৈতিক বিবেচনায় ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কোথাও কোথাও কৃষি কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়কে ডিলারশিপ দেওয়ার মতো অনৈতিক ঘটনার তথ্যও পাওয়া গেছে। পক্ষান্তরে, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন এবং যাদের নিজস্ব অবকাঠামোগত সক্ষমতা রয়েছে, এমন বহু প্রকৃত ব্যবসায়ী ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

অভিজ্ঞতাহীন ও অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে সারের মতো কৃষিপণ্যের ডিলারশিপ তুলে দেওয়ায় সার সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াত নেতারা। তাঁদের আশঙ্কা, এই অব্যবস্থাপনার সুযোগ নিয়ে অতীতে ভারতের পাশাপাশি এবার মিয়ানমারেও সার পাচার হওয়ার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার এভাবে দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেলে স্থানীয় বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখা দিতে পারে। শুধু তাই নয়, পাচারের এই চোরাৈপথ ব্যবহার করে দেশে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য প্রবেশের আশঙ্কাও রয়েছে, যা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।

ডিলার নিয়োগের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বারবার লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন ইসহাক খন্দকার। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রকৃত ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের হাতে ডিলারশিপ পুনর্বহাল এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এই জামায়াত নেতা।

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে পণ্য সরবরাহ বন্ধ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৫:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে পণ্য সরবরাহ বন্ধ

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে পণ্য সরবরাহ বন্ধ

অর্থনীতি ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে সব ধরনের পণ্য সরবরাহ স্থগিত রেখেছে ভারতীয় পক্ষ। ভারতীয় ট্রাকচালক ও তাঁদের সহকারীদের রাতের বেলা বন্দরের ভেতরে অবস্থানের নিয়ম নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই পরিস্থিতিতে সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার আমদানি ও বাণিজ্য কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন জানান, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে ট্রাকগুলো বন্দরে আসার পর খালাসের অপেক্ষায় না থেকে চালকেরা রাতে ভারতে চলে যেতেন। এরপর পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য বহন করার অভিযোগ উঠত। এর আগে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন চালক ও সহায়ক আটকও হয়েছিলেন।

এই ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধ রোধ করতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও বন্দর পরিচালনা পর্ষদ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, পণ্য পুরোপুরি খালাস না হওয়া পর্যন্ত চালক ও তাঁদের সহকারীদের বন্দরের ভেতরেই রাতে অবস্থান করতে হবে। কিন্তু এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে ভারতীয় পক্ষ ক্ষুব্ধ হয় এবং কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই পণ্যবাহী ট্রাক পাঠানো বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে এই জটিল পরিস্থিতি নিরসনের জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক ও প্রশাসনিক পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে।

সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা টিপু সুলতান এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ভারতীয় চালকেরা সাধারণত পানামা বন্দরে ট্রাক রেখে অন্য একটি ট্রাকে চড়ে ভারতে ফিরে যেতেন। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এই নিয়মের তীব্র আপত্তি জানায় এবং নতুন নির্দেশনা জারি করে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পণ্য নিয়ে বন্দরে প্রবেশের পর খালাস শেষ করে ট্রাকসহ ভারতে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে বন্দরের ভেতরেই পণ্য খালাস সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এই নির্দেশনার পরই ভারতীয় পক্ষ পণ্য সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।