খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

সিয়াং মেগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প: অরুণাচলে আদিবাসীদের তীব্র অসন্তোষ ও দিল্লি-বেইজিং সংঘাতের সমীকরণ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিয়াং মেগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প: অরুণাচলে আদিবাসীদের তীব্র অসন্তোষ ও দিল্লি-বেইজিং সংঘাতের সমীকরণ

জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ঘিরে অরুণাচল প্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং উপত্যকার উগেং-কমকার এলাকায় মাসখানেক আগে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মূলত প্রস্তাবিত ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট’-এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পূর্ববর্তী ড্রিলিং ও জরিপ কাজের সুরক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। তবে ব্যাপক প্রস্তুতি ও কড়া নজরদারি সত্ত্বেও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অসন্তোষ প্রশমিত হয়নি। বিরোধিতার জেরে গত ১৪ অক্টোবর ২০১৪ সালের রাজ্য বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের আওতায় চার আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে আপার সিয়াংয়ের গেকু অঞ্চলে নতুন করে রাজপথে নামে জনতা। একই সঙ্গে সিয়াং আদিবাসী কৃষক ফোরামের (এসআইএফএফ) যুব শাখা সরকারের সঙ্গে যে কোনো ধরনের আলোচনা বর্জনের ডাক দিয়েছে।

হিমালয়ের কৈলাস পর্বতের অদূরে মানস সরোবরের জিমা ইয়ংজং হিমবাহ থেকে জন্ম নেওয়া খরস্রোতা এই নদী তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নামে পরিচিত। অরুণাচলে প্রবেশের পর এর নাম হয় সিয়াং, যা আসাম হয়ে বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র নদ হিসেবে সাগরে মিশেছে। স্থানীয় আদি জনগোষ্ঠীর আশঙ্কা, মেগা বাঁধটি রূপায়িত হলে তাদের আদিপুরুষের ভিটেমাটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খানডুর সফরের সময় স্থানীয় বিধায়কের বাসভবনে হামলা ও পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ৪ অক্টোবরের সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগ ও যৌথবাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৮ অক্টোবর অরুণাচলের ভূমিপুত্র তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজেজু প্রবীণ আদি নেতাদের সাথে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমাদের কথা বলতে হবে। সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

নদীকেন্দ্রিক এই সংঘাতের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০১০ সালের আগস্টে রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে বাঁধবিরোধী জোট সিয়াং পিপলস ফোরামের তৎকালীন নেতা ওজিং তাসিংয়ের ইটানগরের বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তাসিং পরে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশের কাছে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানান। গুয়াহাটিতে শুনানির পর রমেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে লেখা চিঠিতে স্বীকার করেন যে বাঁধের কৌশলগত যুক্তি স্থানীয়দের আশ্বস্ত করতে পারছে না। সেখানে তিনি বিভিন্ন এনজিওর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, চীন ও ভারতের রেষারেষিতে অরুণাচলকে দাবার ঘুঁটি বানানো উচিত হবে না। এমনকি ২০১২ সালের মে মাসে বিজেপির তৎকালীন রাজ্যসভার সাংসদ তরুণ বিজয়ও প্রশ্ন তুলেছিলেন, আন্দোলনকারীদের চীনা মদদপুষ্ট আখ্যা না দিয়ে তাদের কাছে দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পাঠানো উচিত। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে পাসিঘাটে গিয়ে নরেন্দ্র মোদিও বড় বাঁধের ঝুঁকি মেনে নিয়ে পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র প্রকল্পের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

বর্তমানে রাজনৈতিক মেরুকরণ সম্পূর্ণ নতুন রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বসিরাম সিরাম এক স্মারকলিপিতে জানান, উজানে চীনের পানি প্রত্যাহারের যুক্তিতে স্থানীয় আদিবাসীদের পূর্বস্বত্ব ও অধিকার খর্ব করা অনুচিত। সেপ্টেম্বরে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তারহ জনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার আদিবাসীদের দাবির মুখে স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ করছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খানডু প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়নে অনড় থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর বাঁধ বিরোধিতাকারী সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সবচেয়ে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে ওজিং তাসিংয়ের ক্ষেত্রে; যিনি একসময় বাঁধের কট্টর বিরোধী ছিলেন, তিনি এখন খানডু মন্ত্রিসভার গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রী। নিজের আগের অবস্থান বদলে তাসিং এখন বলছেন, ‘আমরা যদি নিজেদের বাঁধ নির্মাণ না করি, আর চীন যদি তাদের বাঁধকে আমাদের বিরুদ্ধে “পানিবোমা” হিসেবে ব্যবহার করে; আমাদের ওপর তার প্রভাব কেমন হবে?’

এই প্রকল্পের মূলে রয়েছে ভারত ও চীনের সুদীর্ঘ ভূকৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ১৯৮২ সালে সিয়াং ও সুবনসিরি নদীর পানি নিয়ে ভারতের প্রথম পরিকল্পনায় চীন কোনো মুখ্য কারণ ছিল না। পরবর্তীতে ২০০২ সালে বেইজিংয়ের সাথে বর্ষাকালের জলতাত্ত্বিক তথ্য বিনিময়ের সমঝোতা হয়। ২০০৩ সালে ভারত ৫০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় পরিকল্পনা হাতে নেয়, যার ২৭ হাজার মেগাওয়াটই অরুণাচলে হওয়ার কথা ছিল। ২০১১ সালে সংসদে চীন কর্তৃক নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাঁধ নির্মাণের খবর আসার পর এবং ২০১৩ সালে চীনের বাড়তি প্রকল্পের বিপরীতে ভাটির দেশের অধিকার নিয়ে দিল্লি সরব হয়। ২০১৭ সালে নীতি আয়োগের পরামর্শে প্রস্তাবিত সিয়াং আপার স্টেজ-১ ও ২ একত্র করে ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের একক বহুমুখী জলাধারের রূপ দেওয়া হয়। বিপরীতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিব্বতের ভাটি অঞ্চলে ৬০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার এক বিশাল প্রকল্পের ছাড়পত্র দেয় বেইজিং। ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে নদীর ২ হাজার মিটার খাড়া ঢালকে কাজে লাগিয়ে পাঁচটি ধাপে এই কেন্দ্র বানাবে চীন। এর ফলে ভাটিতে পানিপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা হঠাৎ বিপুল পানি ছেড়ে কৃত্রিম প্লাবনের আশঙ্কায় পাল্টা প্রতিরোধক হিসেবে ভারত সিয়াংয়ে বড় জলাধার গড়তে চাইছে।

তবে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ড্যামস, রিভার্স অ্যান্ড পিপলসের সমন্বয়ক হিমাংশু ঠাক্করের মতে, আন্তর্জাতিক আইনে তথাকথিত ‘প্রথম ব্যবহারকারীর অধিকার’-এর কার্যকর ভিত্তি নেই। তাঁর প্রস্তাব, স্থানীয়দের ওপর বাঁধ না চাপিয়ে ভারতের উচিত চীনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা এবং যৌথ পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের অধিকার দাবি করা। এদিকে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ বিচারব্যবস্থা ‘কেবাং’-এর ঊর্ধ্বে থাকা সর্বোচ্চ সামাজিক পরিষদ ‘বোগুম বোকাং কেবাং’ দীর্ঘ ২৫ বছর পর ২০২৫ সালের আগস্টে আপার সিয়াংয়ের গেকুতে এক বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে। এসআইএফএফ-এর মতে, এই বাঁধ হলে ২৭টি গ্রাম সম্পূর্ণ বিলীন হবে, বহু বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বাস্তুহারা হবেন এক থেকে দেড় লাখ মানুষ। পূর্বপুরুষ ‘আবো তানি’র পুণ্যভূমি ও ‘আনে সিয়াং’ (মা) হিসেবে পূজিত এই নদী আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের প্রতীক। গুয়াহাটি থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী আদি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের এক সাবেক প্রতিনিধির তোলা প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে—জাতীয় নিরাপত্তার দায় কাদের বহন করতে হবে, উন্নয়ন কারা নির্ধারণ করবে এবং নদীপাড়ের মানুষদের সংস্কৃতি জলাঞ্জলি না দিয়ে নদীকে কাজে লাগানো যায় কি না।

advertisement
advertisement

জার্মানির ফুলডা ইউনিভার্সিটিতে বিএসআইএফের নবীনবরণ ‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’ সম্পন্ন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জার্মানির ফুলডা ইউনিভার্সিটিতে বিএসআইএফের নবীনবরণ ‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’ সম্পন্ন

‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’-এ আগত নতুন শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই ও আয়োজকেরা

জার্মানির ফুলডা ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসে অধ্যয়নরত প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশি স্টুডেন্ট ইন ফুলডা’ (বিএসআইএফ)-এর উদ্যোগে উদযাপিত হয়েছে ‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’। গত ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগে সদ্য ভর্তি হওয়া প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়। উল্লেখ্য, নবাগত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিএসআইএফ প্রতিবছর গ্রীষ্ম ও শীত—এই দুই সেশনেই নিয়মিত ওরিয়েন্টেশন সভার আয়োজন করে থাকে।

দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকাল ১১টায় নিবন্ধন এবং আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা জানানোর মাধ্যমে। আয়োজনের শুরুতেই নতুন শিক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়। মূল পর্বে বিএসআইএফের পরিচিতি, লক্ষ্য ও বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি জার্মানিতে দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা সংক্রান্ত নানা জরুরি দিকনির্দেশনা নবাগতদের সামনে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ক্যারিয়ার বিষয়ক একটি অধিবেশন। এতে ফুলডা ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করে বর্তমানে জার্মানিতে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত চারজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী অনলাইন ও সরাসরি উপস্থিত হয়ে অংশ নেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণার পাশাপাশি জার্মানিতে পড়াশোনা শেষে পেশাগত জীবনের নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন।

আলোচনা পর্ব শেষে শিঙাড়া, সমুচা, চা, কুকিজ ও জুস সহযোগে একটি আড্ডা ও স্ন্যাক্স পর্বের আয়োজন করা হয়। এই নেটওয়ার্কিং সেশনে নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তনদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাববিনিময় ঘটে। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি টানা হয়। বিএসআইএফের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয় যে, প্রবাসে স্বদেশি সংস্কৃতির সেতুবন্ধন রক্ষা করা এবং নবাগত শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করতে সংগঠনটি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।

না ফেরার দেশে সাবেক বিসিবি পরিচালক ও ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদ জামাল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
না ফেরার দেশে সাবেক বিসিবি পরিচালক ও ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদ জামাল

মাহমুদ জামাল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদ জামাল আর নেই। শনিবার রাজশাহীতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। গত কয়েক বছর যাবৎ তিনি বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ মাহমুদ জামাল চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্রীড়া উন্নয়ন ও প্রসারে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) নির্বাহী সদস্য হিসেবেও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাহমুদ জামাল ২০০৫ ও ২০০৮ সালে দুই মেয়াদে বিসিবির পরিচালকের দায়িত্ব সামলান। সে সময় তাঁর সহকর্মী হিসেবে কাজ করা বর্তমান বিসিবি নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছেন। অনেক ভালো ভালো কাজ করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য উনার অনেক অবদান আছে। এককথায় বললে উনি অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। রাজশাহীর ক্রিকেটের জন্যও অনেক কাজ করেছেন। আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসীব করেন।’ বর্ষীয়ান এই ক্রীড়া সংগঠকের মৃত্যুতে বিসিবি গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। এদিকে ক্যানসারে আক্রান্ত পেসার হৃদয়ও মারা গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকির মুখে রণকৌশল বদলাচ্ছে ইরান, নতুন সংঘাতের শঙ্কা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকির মুখে রণকৌশল বদলাচ্ছে ইরান, নতুন সংঘাতের শঙ্কা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির প্রতিকৃতির নিচে দাঁড়িয়ে যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ইরানের রাজধানী তেহরান, ২১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালালে শুধু পাল্টা জবাব দিয়েই শান্ত থাকবে না তেহরান; বরং প্রয়োজনে আশপাশের দেশগুলোতে অভিযান পরিচালনা এবং মার্কিন অভিযানে ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোতেও আক্রমণ করা হবে। নিজেদের প্রতিরক্ষানীতি পরিবর্তনের কথা জানিয়ে এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। গত বুধবার ঘোষিত এই নতুন নীতিকে তারা ‘আক্রমণাত্মক ও অসমতাভিত্তিক’ আখ্যা দিয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি জানান, অতীতে তাদের নীতি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক ছিল এবং আক্রমণের শিকার হলেই কেবল জবাব দেওয়া হতো। তবে বর্তমান নীতি অনুযায়ী তারা শুধু জবাবই দেবে না, পাল্টা আক্রমণও শুরু করবে। মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সংখ্যা প্রকাশ না করলেও তা দেড় গুণ বাড়ানো হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পরিধি, বিধ্বংসী ক্ষমতা এবং নির্ভুলতা বহুলাংশে বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘ফাদার অব অল বম্বস’ বা সব বোমার জনক নামের অভিনব এক মারণাস্ত্র প্রকাশ্যে আনার প্রস্তুতিও চলছে।

এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এল, যখন সংঘাত নিরসনে আট মাসব্যাপী কূটনৈতিক উদ্যোগ থমকে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে ফের আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন খবরে জানা যাচ্ছে। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জাহাজে হামলার ঘটনা নতুন করে তীব্র হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আইআরজিসির নৌবাহিনী দাবি করে, উত্তর পারস্য উপসাগরে অবৈধভাবে জ্বালানি স্থানান্তরে লিপ্ত চারটি জাহাজে আঘাত হানা হলে সেগুলোতে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া হরমুজের পশ্চিমে আরও তিনটি জাহাজ সামুদ্রিক মাইনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর জানায় তারা। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। পরে বিকল্প উপায়ে তা যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরলেও সাম্প্রতিক সহিংসতায় নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর লড়াই এবং সৌদি আরবে হুতিদের অব্যাহত হামলা।

চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত বুধবার সৌদি আরবে কর্মরত তাদের অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কর্মী ও তাঁদের স্বজনদের দেশটি ত্যাগের নির্দেশ জারি করে। মুখপাত্র টমি পিগট স্পষ্ট করেন যে এটি উপসাগরীয় সব অঞ্চলের জন্য নয়, কেবল সৌদি আরবের মিশনের জন্য প্রযোজ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাউথ ক্যারোলাইনার এক নির্বাচনী জমায়েতে সাংবাদিকদের জানান, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রয়েছে এবং খুব দ্রুত কোনো না কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না করার বিষয়ে আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, হরমুজে বাণিজ্যিক নৌযানে হামলা বন্ধ না হলে চুক্তি অসম্ভব এবং উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথ করে দেয়, এমন কোনো সমঝোতা ওয়াশিংটন মানবে না। বিপরীত পক্ষে এনপিটি চুক্তির আওতায় সমৃদ্ধকরণের অধিকার দাবি করে সাত দিনের একটি জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকীকরণ পরিকল্পনা দিয়েছে ইরান, যার বিনিময়ে মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ অর্থ ছাড়ের শর্ত রাখা হয়েছে। এদিকে আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের মুখে থাকা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রোববার ইরানের সরকার পতনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি ও ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

বিশ্লেষকদের অভিমত, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে তেহরান নিশ্চিত করতে চাইছে যেন যেকোনো আক্রমণের জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে চরম মূল্য দিতে হয়। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোর্তাজাভি জানান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও হরমুজের ভূকৌশলগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে অসম যুদ্ধের মাধ্যমে ইরান মার্কিন প্রশাসনের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে চায়, যা ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর কারণ হতে পারে। আরব সেন্টারের ফেলো রামি খুরি মন্তব্য করেন, ইরান এই সংঘাতের বিস্তার নিজ সীমানার বাইরে নিয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ও সহযোগী দেশগুলোকেও ক্ষতির অংশীদার করতে চায়, যার আঁচ পড়বে জ্বালানি, পরিবহন ও বিশ্ব অর্থনীতিতে। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ি স্পষ্ট করে বলেছেন, যেকোনো পদক্ষেপের চড়া মূল্য দিতে হবে; তবে তেহরান কূটনীতিকে প্রাধান্য দিলেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।