খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

সিয়াং মেগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প: অরুণাচলে আদিবাসীদের তীব্র অসন্তোষ ও দিল্লি-বেইজিং সংঘাতের সমীকরণ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিয়াং মেগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প: অরুণাচলে আদিবাসীদের তীব্র অসন্তোষ ও দিল্লি-বেইজিং সংঘাতের সমীকরণ

জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ঘিরে অরুণাচল প্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং উপত্যকার উগেং-কমকার এলাকায় মাসখানেক আগে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মূলত প্রস্তাবিত ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট’-এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পূর্ববর্তী ড্রিলিং ও জরিপ কাজের সুরক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। তবে ব্যাপক প্রস্তুতি ও কড়া নজরদারি সত্ত্বেও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অসন্তোষ প্রশমিত হয়নি। বিরোধিতার জেরে গত ১৪ অক্টোবর ২০১৪ সালের রাজ্য বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের আওতায় চার আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে আপার সিয়াংয়ের গেকু অঞ্চলে নতুন করে রাজপথে নামে জনতা। একই সঙ্গে সিয়াং আদিবাসী কৃষক ফোরামের (এসআইএফএফ) যুব শাখা সরকারের সঙ্গে যে কোনো ধরনের আলোচনা বর্জনের ডাক দিয়েছে।

হিমালয়ের কৈলাস পর্বতের অদূরে মানস সরোবরের জিমা ইয়ংজং হিমবাহ থেকে জন্ম নেওয়া খরস্রোতা এই নদী তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নামে পরিচিত। অরুণাচলে প্রবেশের পর এর নাম হয় সিয়াং, যা আসাম হয়ে বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র নদ হিসেবে সাগরে মিশেছে। স্থানীয় আদি জনগোষ্ঠীর আশঙ্কা, মেগা বাঁধটি রূপায়িত হলে তাদের আদিপুরুষের ভিটেমাটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খানডুর সফরের সময় স্থানীয় বিধায়কের বাসভবনে হামলা ও পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ৪ অক্টোবরের সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগ ও যৌথবাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৮ অক্টোবর অরুণাচলের ভূমিপুত্র তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজেজু প্রবীণ আদি নেতাদের সাথে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমাদের কথা বলতে হবে। সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

নদীকেন্দ্রিক এই সংঘাতের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০১০ সালের আগস্টে রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে বাঁধবিরোধী জোট সিয়াং পিপলস ফোরামের তৎকালীন নেতা ওজিং তাসিংয়ের ইটানগরের বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তাসিং পরে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশের কাছে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানান। গুয়াহাটিতে শুনানির পর রমেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে লেখা চিঠিতে স্বীকার করেন যে বাঁধের কৌশলগত যুক্তি স্থানীয়দের আশ্বস্ত করতে পারছে না। সেখানে তিনি বিভিন্ন এনজিওর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, চীন ও ভারতের রেষারেষিতে অরুণাচলকে দাবার ঘুঁটি বানানো উচিত হবে না। এমনকি ২০১২ সালের মে মাসে বিজেপির তৎকালীন রাজ্যসভার সাংসদ তরুণ বিজয়ও প্রশ্ন তুলেছিলেন, আন্দোলনকারীদের চীনা মদদপুষ্ট আখ্যা না দিয়ে তাদের কাছে দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পাঠানো উচিত। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে পাসিঘাটে গিয়ে নরেন্দ্র মোদিও বড় বাঁধের ঝুঁকি মেনে নিয়ে পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র প্রকল্পের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

বর্তমানে রাজনৈতিক মেরুকরণ সম্পূর্ণ নতুন রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বসিরাম সিরাম এক স্মারকলিপিতে জানান, উজানে চীনের পানি প্রত্যাহারের যুক্তিতে স্থানীয় আদিবাসীদের পূর্বস্বত্ব ও অধিকার খর্ব করা অনুচিত। সেপ্টেম্বরে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তারহ জনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার আদিবাসীদের দাবির মুখে স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ করছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খানডু প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়নে অনড় থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর বাঁধ বিরোধিতাকারী সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সবচেয়ে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে ওজিং তাসিংয়ের ক্ষেত্রে; যিনি একসময় বাঁধের কট্টর বিরোধী ছিলেন, তিনি এখন খানডু মন্ত্রিসভার গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রী। নিজের আগের অবস্থান বদলে তাসিং এখন বলছেন, ‘আমরা যদি নিজেদের বাঁধ নির্মাণ না করি, আর চীন যদি তাদের বাঁধকে আমাদের বিরুদ্ধে “পানিবোমা” হিসেবে ব্যবহার করে; আমাদের ওপর তার প্রভাব কেমন হবে?’

এই প্রকল্পের মূলে রয়েছে ভারত ও চীনের সুদীর্ঘ ভূকৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ১৯৮২ সালে সিয়াং ও সুবনসিরি নদীর পানি নিয়ে ভারতের প্রথম পরিকল্পনায় চীন কোনো মুখ্য কারণ ছিল না। পরবর্তীতে ২০০২ সালে বেইজিংয়ের সাথে বর্ষাকালের জলতাত্ত্বিক তথ্য বিনিময়ের সমঝোতা হয়। ২০০৩ সালে ভারত ৫০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় পরিকল্পনা হাতে নেয়, যার ২৭ হাজার মেগাওয়াটই অরুণাচলে হওয়ার কথা ছিল। ২০১১ সালে সংসদে চীন কর্তৃক নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাঁধ নির্মাণের খবর আসার পর এবং ২০১৩ সালে চীনের বাড়তি প্রকল্পের বিপরীতে ভাটির দেশের অধিকার নিয়ে দিল্লি সরব হয়। ২০১৭ সালে নীতি আয়োগের পরামর্শে প্রস্তাবিত সিয়াং আপার স্টেজ-১ ও ২ একত্র করে ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের একক বহুমুখী জলাধারের রূপ দেওয়া হয়। বিপরীতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিব্বতের ভাটি অঞ্চলে ৬০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার এক বিশাল প্রকল্পের ছাড়পত্র দেয় বেইজিং। ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে নদীর ২ হাজার মিটার খাড়া ঢালকে কাজে লাগিয়ে পাঁচটি ধাপে এই কেন্দ্র বানাবে চীন। এর ফলে ভাটিতে পানিপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা হঠাৎ বিপুল পানি ছেড়ে কৃত্রিম প্লাবনের আশঙ্কায় পাল্টা প্রতিরোধক হিসেবে ভারত সিয়াংয়ে বড় জলাধার গড়তে চাইছে।

তবে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ড্যামস, রিভার্স অ্যান্ড পিপলসের সমন্বয়ক হিমাংশু ঠাক্করের মতে, আন্তর্জাতিক আইনে তথাকথিত ‘প্রথম ব্যবহারকারীর অধিকার’-এর কার্যকর ভিত্তি নেই। তাঁর প্রস্তাব, স্থানীয়দের ওপর বাঁধ না চাপিয়ে ভারতের উচিত চীনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা এবং যৌথ পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের অধিকার দাবি করা। এদিকে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ বিচারব্যবস্থা ‘কেবাং’-এর ঊর্ধ্বে থাকা সর্বোচ্চ সামাজিক পরিষদ ‘বোগুম বোকাং কেবাং’ দীর্ঘ ২৫ বছর পর ২০২৫ সালের আগস্টে আপার সিয়াংয়ের গেকুতে এক বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে। এসআইএফএফ-এর মতে, এই বাঁধ হলে ২৭টি গ্রাম সম্পূর্ণ বিলীন হবে, বহু বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বাস্তুহারা হবেন এক থেকে দেড় লাখ মানুষ। পূর্বপুরুষ ‘আবো তানি’র পুণ্যভূমি ও ‘আনে সিয়াং’ (মা) হিসেবে পূজিত এই নদী আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের প্রতীক। গুয়াহাটি থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী আদি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের এক সাবেক প্রতিনিধির তোলা প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে—জাতীয় নিরাপত্তার দায় কাদের বহন করতে হবে, উন্নয়ন কারা নির্ধারণ করবে এবং নদীপাড়ের মানুষদের সংস্কৃতি জলাঞ্জলি না দিয়ে নদীকে কাজে লাগানো যায় কি না।

advertisement
advertisement

আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ১৭ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করে ওয়ানডে বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করেছেন আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান। তার রেটিং পয়েন্ট ৭১৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪২-এ। বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের আবরার আহমেদের চেয়ে তিনি ৮০ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। শুধু বোলিং নয়, একদিনের ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও দুই ধাপ উন্নতি করে ষষ্ঠ স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন এই আফগান তারকা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও বিশ্বের এক নম্বর বোলার হিসেবে থাকা রশিদের মুখোমুখি হয়েই আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল।

এদিকে আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামার পূর্বে সুখবর এসেছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ থেকেও। আইসিসির হালনাগাদ করা ওয়ানডে বোলিং তালিকায় দুই ধাপ উন্নতি ঘটিয়ে ১১ নম্বরে উঠে এসেছেন বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম। অন্যদিকে এক লাফে ৯ ধাপ এগিয়ে ১২তম স্থান দখল করেছেন তাসকিন আহমেদ। এটিই এই দুই টাইগার বোলারের ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থান।

ব্যাটসম্যানদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে আফগানিস্তানের উদীয়মান ব্যাটার সেদিকউল্লাহ আতালের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত পরশু ১১০ বলে খেলা ১০২ রানের ইনিংসটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর সুবাদে র‍্যাঙ্কিংয়ের ৩২তম অবস্থান থেকে এক লাফে ২০ নম্বরে পৌঁছে গেছেন তিনি। এ ছাড়া রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচের পর পাকিস্তানের সালমান আগা এক ধাপ এগিয়ে ১২ নম্বরে এবং ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট দুই ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বরে জায়গা পেয়েছেন।

ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রভাব পড়েছে কুড়ি ওভারের র‍্যাঙ্কিংয়েও। সেখানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা। টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলনেতা শাই হোপ। পাশাপাশি তাঁর সতীর্থ শেরফান রাদারফোর্ড ছয় ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ১৮ নম্বরে।

সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

গ্রেভিলিয়ার ফুল ও ফল

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের এক সকালে ঢাকার সাভারের বরিশাল নার্সারিতে দেখা মেলে এক ব্যতিক্রমী ফুলের, যাতে প্রচলিত কোনো পাপড়ির অস্তিত্ব নেই। মাকড়সার পায়ের বিন্যাসের মতো সাজানো পুষ্পমঞ্জরি দেখে নার্সারির ব্যবস্থাপক এটিকে ‘বোতলব্রাশ’ বলে উল্লেখ করলেও চেনা বোতলব্রাশের সঙ্গে এর মিল ছিল না। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, এটি প্রোটিয়েসি গোত্রের অন্তর্গত ‘গ্রেভিলিয়া’ গণের উদ্ভিদ। উল্লেখ্য, এই গোত্রে প্রায় ৮০টি গণ এবং ২ হাজার প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত। প্রোটিয়েসি গোত্রের উদ্ভিদে স্বতন্ত্র কোনো বৃতি বা পাপড়ি থাকে না; বরং টেপাল নামের চারটি পাপড়িসদৃশ অংশের একটিমাত্র চক্র গঠিত হয়।

বরিশাল নার্সারির মালিক মো. ইব্রাহিমের ভাষ্যমতে, থাইল্যান্ড থেকে আনা স্বল্প কিছু চারা মাতৃগাছ হিসেবে সেখানে বড় করা হচ্ছে। অদ্ভুত গড়নের কারণে আকৃষ্ট হয়ে তিনি গ্রেভিলিয়ার একাধিক জাত সংগ্রহ করেন, যেগুলোতে প্রায় সারা বছরই ফুল ফুটতে দেখা যায়। মূলত গ্রেভিলিয়া গণে ৩৮০টি প্রজাতি রয়েছে, যেগুলো পরিচিত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’ নামে। আঠারো শতকের বিশিষ্ট উদ্ভিদবিদ এবং রয়্যাল হর্টিকালচার সোসাইটির সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লস ফ্রান্সিস গ্রেভিলির নামানুসারে এই গণের নামকরণ করা হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে সাভারের গাছটির পুষ্পমঞ্জরি ‘Grevillea acanthifolia’ প্রজাতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যার তিনটি উপপ্রজাতি বিদ্যমান এবং পাতার গঠনে সেগুলোর ভিন্নতা স্পষ্ট।

ইংরেজিতে ‘অ্যাকান্থাস-লিভড গ্রেভিলিয়া’ নামে পরিচিত বহুবর্ষজীবী এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের বাংলা কোনো নাম পাওয়া যায়নি। ১৮১৭ সালে পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অভিযানকালে ইংরেজ উদ্ভিদবিজ্ঞানী অ্যালান কানিংহাম (১৭৯১-১৮৩৯) নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্লু মাউন্টেনস অঞ্চলের পিটযুক্ত জলাভূমি ও কক্স নদীর তীরে এর সন্ধান পান। পরবর্তীতে ব্যারন ফিল্ড সম্পাদিত ‘জিওগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার্স অন নিউ সাউথ ওয়েলস’ (১৮২৫) গ্রন্থে তিনি এর প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করেন। নার্সারিতে দেখা যায়, সোয়া মিটারের মতো দীর্ঘ দুটি গাছের কাণ্ড সোজা হলেও ডালপালা এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। উজ্জ্বল সবুজ, শক্ত ও কাঁটাযুক্ত পাতার ফলক ৯ থেকে ১৪টি খণ্ডে গভীরভাবে বিভক্ত। প্রতিটি পাতা ৪ থেকে ৯ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ও ৩ থেকে ৭ সেন্টিমিটার চওড়া; উপখণ্ডের অগ্রভাগ সূচালো ও রৈখিক, কীলকাকার বা ত্রিভুজাকৃতির।

গোলাপি থেকে বেগুনি রঙের ফুলগুলো একপাশে বিন্যস্ত হয়ে টুথব্রাশের মতো রূপ নেয়, যার মঞ্জরির দৈর্ঘ্য ৩ থেকে ১০ সেন্টিমিটার। এর ক্ষুদ্র বৃত্যংশ বা পাপড়ি হালকা সবুজ থেকে ধূসর রঙের, যা বাইরে রোমশ এবং ভেতরে মসৃণ। লাল রঙের দীর্ঘ গর্ভদণ্ডের শীর্ষে থাকে সবুজ পরাগ ধারণকারী অংশ। মূলত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে বেশি ফুটলেও সারা বছরই ফুল ফোটে এবং ফুল ঝরে যাওয়ার পর তৈরি হয় লালচে দাগযুক্ত রোমশ ফল বা ফলিকল। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের জলাভূমি ও উঁচু স্থানের এই স্থানীয় উদ্ভিদটি বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে বাগানের শোভাবর্ধক হিসেবে রোপণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সরকারিভাবে এর নথিভুক্ত তথ্য না থাকলেও পূর্বে ‘সিলভার ওক’ (Grevillea robusta)-এর উপস্থিতির তথ্য রয়েছে এবং সাম্প্রতিককালে এই প্রজাতির বিস্তারও ঘটছে।

হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা: কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা?

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা: কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা?

হোয়াটসঅ্যাপ কি তথ্য সংগ্রহ করে?

মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান ও ভয়েস-ভিডিও কলে ব্যবহৃত হয় ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ প্রযুক্তি। এই বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থার ফলে প্রেরক ও প্রাপক ব্যতীত তৃতীয় কোনো পক্ষ, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ বা মূল প্রতিষ্ঠান মেটাও যোগাযোগের মূল বিষয়বস্তু জানতে পারে না। তবুও প্ল্যাটফর্মটি বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের কিছু ব্যক্তিগত ও কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। তাছাড়া মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনেও নির্দিষ্ট কিছু ডেটা আদান-প্রদান করা হয়। তবে ডেটা সংগ্রহ বা শেয়ার করার অর্থ এই নয় যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করছে।

অ্যাপ সচল রাখা ও সার্বিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপ মূলত তিনটি মাধ্যম থেকে তথ্য পায়। প্রথমত, ব্যবহারকারী নিজে যখন অ্যাকাউন্ট খোলেন, তখন ফোন নম্বর ও নামের মতো তথ্য প্রদান করেন। দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে অ্যাপটি ব্যবহারের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশ কিছু কারিগরি উপাত্ত সংগৃহীত হয়। তৃতীয়ত, অন্যান্য ব্যবহারকারীর মাধ্যমেও তথ্য আসে; যেমন পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কারও মুঠোফোনের কন্ট্যাক্ট তালিকায় আপনার নম্বর সেভ থাকলে তা পৌঁছায়। তবে এসব উপাত্ত জমা হলেও এনক্রিপশন প্রযুক্তির কারণে ব্যক্তিগত টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও কিংবা সংযুক্ত নথির ভেতরের অংশে কারো প্রবেশাধিকার থাকে না। মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সাথে হোয়াটসঅ্যাপের ফিচার যুক্ত করলে—যেমন হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস ফেসবুকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে—কিছু তথ্য উভয় সেবার মধ্যে আদান-প্রদান হতে পারে।

নিজস্ব তথ্যের সুরক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ সুবিধা রয়েছে, যার সাহায্যে সেটিংস পর্যালোচনা ও পরিবর্তন করা যায়। সেটিংসের প্রাইভেসি বিভাগে গিয়ে প্রোফাইল ছবি কিংবা ‘লাস্ট সিন’ বা সর্বশেষ সক্রিয় থাকার সময় কারা দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণের বিকল্প মেলে। সেখানে ‘সবাই’, ‘সংরক্ষিত পরিচিতি’, ‘নির্দিষ্ট কিছু পরিচিতি’ অথবা ‘কেউ নন’—পছন্দমাফিক অপশন বেছে নেওয়া যায়। পাশাপাশি কে গ্রুপে যোগ করতে পারবে তা নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেসেজ মুছে যাওয়া, বিশেষ আলাপের গোপনীয়তায় ‘চ্যাট লক’ এবং সম্পূর্ণ অ্যাপ সুরক্ষায় ‘অ্যাপ লক’ ব্যবহারের সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।

মুঠোফোন পরিবর্তন বা হারিয়ে যাওয়ার পর পুরোনো বার্তা ফিরে পেতে চ্যাট ব্যাকআপ খুবই সহায়ক। গুগল অ্যাকাউন্ট অথবা আইক্লাউডে সংরক্ষিত এই ব্যাকআপকে নিরাপদ রাখতে আলাদাভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সক্রিয় করার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড কিংবা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি (key) ব্যবহার করে ব্যাকআপ সুরক্ষিত রাখা হয়। তবে কোনো কারণে এই কোড বা পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে সংরক্ষিত আলাপ উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, কারণ হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও তা ফিরিয়ে দিতে পারে না। তাই ব্যক্তিগত তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখতে ব্যাকআপের সুরক্ষাসহ সার্বিক প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত তদারকি করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে।