খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

জার্মানির ফুলডা ইউনিভার্সিটিতে বিএসআইএফের নবীনবরণ ‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’ সম্পন্ন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জার্মানির ফুলডা ইউনিভার্সিটিতে বিএসআইএফের নবীনবরণ ‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’ সম্পন্ন

‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’-এ আগত নতুন শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই ও আয়োজকেরা

জার্মানির ফুলডা ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসে অধ্যয়নরত প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশি স্টুডেন্ট ইন ফুলডা’ (বিএসআইএফ)-এর উদ্যোগে উদযাপিত হয়েছে ‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’। গত ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগে সদ্য ভর্তি হওয়া প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়। উল্লেখ্য, নবাগত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিএসআইএফ প্রতিবছর গ্রীষ্ম ও শীত—এই দুই সেশনেই নিয়মিত ওরিয়েন্টেশন সভার আয়োজন করে থাকে।

দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকাল ১১টায় নিবন্ধন এবং আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা জানানোর মাধ্যমে। আয়োজনের শুরুতেই নতুন শিক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়। মূল পর্বে বিএসআইএফের পরিচিতি, লক্ষ্য ও বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি জার্মানিতে দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা সংক্রান্ত নানা জরুরি দিকনির্দেশনা নবাগতদের সামনে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ক্যারিয়ার বিষয়ক একটি অধিবেশন। এতে ফুলডা ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করে বর্তমানে জার্মানিতে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত চারজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী অনলাইন ও সরাসরি উপস্থিত হয়ে অংশ নেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণার পাশাপাশি জার্মানিতে পড়াশোনা শেষে পেশাগত জীবনের নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন।

আলোচনা পর্ব শেষে শিঙাড়া, সমুচা, চা, কুকিজ ও জুস সহযোগে একটি আড্ডা ও স্ন্যাক্স পর্বের আয়োজন করা হয়। এই নেটওয়ার্কিং সেশনে নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তনদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাববিনিময় ঘটে। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি টানা হয়। বিএসআইএফের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয় যে, প্রবাসে স্বদেশি সংস্কৃতির সেতুবন্ধন রক্ষা করা এবং নবাগত শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করতে সংগঠনটি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।

advertisement
advertisement

না ফেরার দেশে সাবেক বিসিবি পরিচালক ও ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদ জামাল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
না ফেরার দেশে সাবেক বিসিবি পরিচালক ও ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদ জামাল

মাহমুদ জামাল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদ জামাল আর নেই। শনিবার রাজশাহীতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। গত কয়েক বছর যাবৎ তিনি বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ মাহমুদ জামাল চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্রীড়া উন্নয়ন ও প্রসারে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) নির্বাহী সদস্য হিসেবেও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাহমুদ জামাল ২০০৫ ও ২০০৮ সালে দুই মেয়াদে বিসিবির পরিচালকের দায়িত্ব সামলান। সে সময় তাঁর সহকর্মী হিসেবে কাজ করা বর্তমান বিসিবি নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছেন। অনেক ভালো ভালো কাজ করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য উনার অনেক অবদান আছে। এককথায় বললে উনি অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। রাজশাহীর ক্রিকেটের জন্যও অনেক কাজ করেছেন। আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসীব করেন।’ বর্ষীয়ান এই ক্রীড়া সংগঠকের মৃত্যুতে বিসিবি গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। এদিকে ক্যানসারে আক্রান্ত পেসার হৃদয়ও মারা গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকির মুখে রণকৌশল বদলাচ্ছে ইরান, নতুন সংঘাতের শঙ্কা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকির মুখে রণকৌশল বদলাচ্ছে ইরান, নতুন সংঘাতের শঙ্কা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির প্রতিকৃতির নিচে দাঁড়িয়ে যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ইরানের রাজধানী তেহরান, ২১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালালে শুধু পাল্টা জবাব দিয়েই শান্ত থাকবে না তেহরান; বরং প্রয়োজনে আশপাশের দেশগুলোতে অভিযান পরিচালনা এবং মার্কিন অভিযানে ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোতেও আক্রমণ করা হবে। নিজেদের প্রতিরক্ষানীতি পরিবর্তনের কথা জানিয়ে এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। গত বুধবার ঘোষিত এই নতুন নীতিকে তারা ‘আক্রমণাত্মক ও অসমতাভিত্তিক’ আখ্যা দিয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি জানান, অতীতে তাদের নীতি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক ছিল এবং আক্রমণের শিকার হলেই কেবল জবাব দেওয়া হতো। তবে বর্তমান নীতি অনুযায়ী তারা শুধু জবাবই দেবে না, পাল্টা আক্রমণও শুরু করবে। মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সংখ্যা প্রকাশ না করলেও তা দেড় গুণ বাড়ানো হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পরিধি, বিধ্বংসী ক্ষমতা এবং নির্ভুলতা বহুলাংশে বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘ফাদার অব অল বম্বস’ বা সব বোমার জনক নামের অভিনব এক মারণাস্ত্র প্রকাশ্যে আনার প্রস্তুতিও চলছে।

এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এল, যখন সংঘাত নিরসনে আট মাসব্যাপী কূটনৈতিক উদ্যোগ থমকে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে ফের আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন খবরে জানা যাচ্ছে। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জাহাজে হামলার ঘটনা নতুন করে তীব্র হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আইআরজিসির নৌবাহিনী দাবি করে, উত্তর পারস্য উপসাগরে অবৈধভাবে জ্বালানি স্থানান্তরে লিপ্ত চারটি জাহাজে আঘাত হানা হলে সেগুলোতে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া হরমুজের পশ্চিমে আরও তিনটি জাহাজ সামুদ্রিক মাইনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর জানায় তারা। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। পরে বিকল্প উপায়ে তা যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরলেও সাম্প্রতিক সহিংসতায় নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর লড়াই এবং সৌদি আরবে হুতিদের অব্যাহত হামলা।

চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত বুধবার সৌদি আরবে কর্মরত তাদের অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কর্মী ও তাঁদের স্বজনদের দেশটি ত্যাগের নির্দেশ জারি করে। মুখপাত্র টমি পিগট স্পষ্ট করেন যে এটি উপসাগরীয় সব অঞ্চলের জন্য নয়, কেবল সৌদি আরবের মিশনের জন্য প্রযোজ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাউথ ক্যারোলাইনার এক নির্বাচনী জমায়েতে সাংবাদিকদের জানান, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রয়েছে এবং খুব দ্রুত কোনো না কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না করার বিষয়ে আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, হরমুজে বাণিজ্যিক নৌযানে হামলা বন্ধ না হলে চুক্তি অসম্ভব এবং উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথ করে দেয়, এমন কোনো সমঝোতা ওয়াশিংটন মানবে না। বিপরীত পক্ষে এনপিটি চুক্তির আওতায় সমৃদ্ধকরণের অধিকার দাবি করে সাত দিনের একটি জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকীকরণ পরিকল্পনা দিয়েছে ইরান, যার বিনিময়ে মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ অর্থ ছাড়ের শর্ত রাখা হয়েছে। এদিকে আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের মুখে থাকা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রোববার ইরানের সরকার পতনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি ও ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

বিশ্লেষকদের অভিমত, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে তেহরান নিশ্চিত করতে চাইছে যেন যেকোনো আক্রমণের জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে চরম মূল্য দিতে হয়। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোর্তাজাভি জানান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও হরমুজের ভূকৌশলগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে অসম যুদ্ধের মাধ্যমে ইরান মার্কিন প্রশাসনের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে চায়, যা ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর কারণ হতে পারে। আরব সেন্টারের ফেলো রামি খুরি মন্তব্য করেন, ইরান এই সংঘাতের বিস্তার নিজ সীমানার বাইরে নিয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ও সহযোগী দেশগুলোকেও ক্ষতির অংশীদার করতে চায়, যার আঁচ পড়বে জ্বালানি, পরিবহন ও বিশ্ব অর্থনীতিতে। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ি স্পষ্ট করে বলেছেন, যেকোনো পদক্ষেপের চড়া মূল্য দিতে হবে; তবে তেহরান কূটনীতিকে প্রাধান্য দিলেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

শৈশবের যে ১০টি ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তোলে সফলতার ভিত্তি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শৈশবের যে ১০টি ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তোলে সফলতার ভিত্তি

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস

বিজ্ঞানী, ক্রীড়াবিদ, সাহিত্যিক কিংবা বিত্তবান উদ্যোক্তা—সফল ব্যক্তিদের জীবনধারা ভিন্ন হলেও তাঁদের শৈশবে গড়ে ওঠা কিছু সাধারণ অভ্যাস পরবর্তী জীবনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। নিয়মিত অধ্যয়ন, অনুসন্ধিৎসু মন, নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলন আর প্রতিকূলতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার মতো অভ্যাসগুলো জীবনের শুরু থেকেই তৈরি করা সম্ভব। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকে এমন ১০টি তাৎপর্যপূর্ণ অভ্যাসের চিত্র পাওয়া যায়।

১. ব্যাপক পড়াশোনা: বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক বলেছিলেন, ‘পড়ার বাইরে আমার তিনটে উপদেশ আছে—পড়ো, পড়ো এবং পড়ো।’ নতুন তথ্য আবিষ্কার, কল্পনাশক্তির বিস্তার ও ভিন্নভাবে ভাবতে বইয়ের ভূমিকা অপরিসীম। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের শৈশবে পড়াশোনার গভীর প্রভাব ছিল; একইভাবে বিল গেটসও অল্প বয়স থেকেই বিচিত্র বিষয়ে বই পড়তেন। সফল বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটও অবিরাম পাঠাভ্যাসের কথা গুরুত্ব দিয়ে বলেন। ইতিহাস, বিজ্ঞান, রূপকথা বা জীবনীপাঠ যেকোনো শিশুর চিন্তার পরিধিকে সমৃদ্ধ করতে পারে।

২. জিজ্ঞাসা ও অনুসন্ধিৎসা: প্রচলিত ছড়ার চরণে রয়েছে—‘মাথায় কত প্রশ্ন আসে, দিচ্ছে না কেউ জবাব তার, সবাই বলে মিথ্যে বাজে বকিস নে আর খবরদার।’ আকাশের নীল রং, পিঁপড়ার সুশৃঙ্খল চলন কিংবা চুম্বকের লোহা টানার মতো বিস্ময় থেকেই অনুসন্ধানের শুরু। পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন ছোটবেলায় তাঁর বাবার উপহার দেওয়া একটি কম্পাসের কাঁটার নির্দিষ্ট দিকে নির্দেশ করার রহস্য দেখে গভীরভাবে চমকিত হয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তাঁকে প্রকৃতির রহস্য উন্মোচনে অনুপ্রাণিত করে। যেকোনো বড় আবিষ্কারের সূচনা হয় একটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্য দিয়ে।

৩. নিয়মিত ও নিবিড় চর্চা: ‘প্র্যাকটিস মেকস আ ম্যান পারফেক্ট!’ যেকোনো দক্ষতায় পারদর্শিতা অর্জনের মূল চাবিকাঠি হলো অনুশীলন। তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্বের নেপথ্যে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে চলা কঠোর সাধনা। ক্রীড়াঙ্গন ছাড়াও বিজ্ঞানী, সংগীতশিল্পী কিংবা লেখকদের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম সমভাবে প্রযোজ্য। কঠিন গণিত সমাধান, বাদ্যযন্ত্র বাজানো কিংবা লেখার চর্চায় তাৎক্ষণিক সাফল্য না এলেও ক্রমাগত পরিশ্রমে উন্নতি নিশ্চিত হয়।

৪. শৈশব থেকেই উদ্যোগী হওয়া: ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে!’ ছোটবেলাতেই দায়িত্বশীল হওয়া বা নিজে কিছু করার তাগিদ ভবিষ্যৎ জীবনের পথ তৈরি করে। বিশিষ্ট বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট বাল্যকালে চুইংগাম বিক্রি এবং পরবর্তীতে সংবাদপত্র বিতরণের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছিলেন। বিদ্যালয়ের কোনো প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়া, সমস্যার সমাধান করা বা নিজস্ব ভাবনা বাস্তবায়ন শিশুদের আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

৫. প্রতিকূলতা জয় ও ভুল থেকে শিক্ষা: কার্টুন চরিত্র মিকি মাউসের স্রষ্টা ওয়াল্ট ডিজনি বলেছিলেন, ‘আমাদের সব স্বপ্নই সত্যি হতে পারে, যদি সেগুলো পূরণ করার সাহস থাকে।’ ব্যর্থতা মানেই চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়, বরং তা ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। মেসি ও রোনালদো দুজনকেই শারীরিক সীমাবদ্ধতা, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং আকাশচুম্বী প্রত্যাশার চাপ পেরিয়ে প্রতিষ্ঠা পেতে হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে ব্যর্থতাকে শক্তিতে পরিণত করে নতুন পরিকল্পনায় এগিয়ে যেতে হয়।

৬. শারীরিক সচলতা ও সুস্থতা: ‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন!’ শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে নিয়মিত খেলাধুলা, হাঁটা এবং বয়সোপযোগী শরীরচর্চা অত্যন্ত জরুরি। কেবল ক্রীড়াবিদই নন, লেখক, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের জন্যও শারীরিক সুস্থতা অপরিহার্য। দীর্ঘ সময় পড়াশোনা বা কাজের ফাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা, মুক্ত বাতাসে হাঁটা ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া মানসিক সতেজতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৭. সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ: কাজী নজরুল ইসলামের অমর পঙ্‌ক্তি ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী’ সৃজনশীল সত্তার প্রকাশ ঘটায়। সংগীত, চিত্রাঙ্কন কিংবা লেখালেখি মানুষের চিন্তার পরিসরকে উন্মুক্ত করে দেয়। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন গবেষণার পাশাপাশি বেহালা বাজাতে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। নিজের পছন্দের সৃজনশীল কাজে নিখুঁত হওয়ার চেয়ে তার মধ্য দিয়ে সৃষ্টির আনন্দ উপলব্ধি করাই মূল বিষয়।

৮. নিজস্ব চিন্তাভাবনার বিকাশ: দার্শনিক ফ্রান্সিস বেকনের মতে, ‘একটি বিচক্ষণ প্রশ্ন হলো প্রজ্ঞার অর্ধেক।’ অন্যের মত হুবহু গ্রহণ না করে সত্যতা যাচাই ও যুক্তির নিরিখে মূল্যায়ন করা উচিত। আলবার্ট আইনস্টাইনের মতো গবেষকেরা প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে যুক্তিবোধ দিয়ে মহাবিশ্বকে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। ভিন্নমত শোনা, ভুল স্বীকার করা এবং যুক্তিনির্ভর চিন্তা স্বাধীন ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়।

৯. সময়ের সদ্ব্যবহার ও ধারাবাহিকতা: প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব স্টিভ জবসের একটি প্রচলিত বক্তব্য অনুযায়ী, ‘সময় হলো মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।’ প্রতিটি মুহূর্ত কাজের মধ্যে কাটানো নয়, বরং বিনোদন ও বিশ্রামের পাশাপাশি কাজের সঠিক পরিকল্পনা থাকা জরুরি। প্রতিদিন অল্প অল্প করে ধারাবাহিকভাবে কাজ এগিয়ে নিয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়।

১০. লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা: ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে, হবেই হবেই দেখা, দেখা হবে বিজয়ে।’ ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ‘উইমেনস মার্চ’-এ অংশ নেওয়া লেখক ও নারীবাদী চিন্তাবিদ গ্লোরিয়া স্টাইনেম একবার বলেছিলেন, ‘স্বপ্ন দেখা তো আসলে একধরনের পরিকল্পনা।’ তাই কেবল স্বপ্ন দেখলেই চলবে না, ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা পূরণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সাফল্য লাভের কোনো বাঁধাধরা নিয়ম না থাকলেও নিয়মিত অভ্যাস ও নিষ্ঠার মাধ্যমে জীবনের যেকোনো বড় পরিবর্তন শুরু করা যায় আজ থেকেই।