খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

অজু ছাড়া মোবাইল ফোনে কোরআন পড়া যাবে কি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অজু ছাড়া মোবাইল ফোনে কোরআন পড়া যাবে কি

অজু ছাড়া মোবাইল ফোনে কোরআন পড়া যাবে কি

ধর্ম ডেস্ক: ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বর্তমান সময়ে ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মাধ্যম হিসেবে স্মার্টফোনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে প্রতিদিনের ইবাদত হিসেবে মুঠোফোনের অ্যাপস ব্যবহার করে কোরআন তিলাওয়াত করে থাকেন। তবে পবিত্র এই গ্রন্থ পাঠের ক্ষেত্রে পবিত্রতা বা অজু থাকা জরুরি কি না, তা নিয়ে প্রায়ই সাধারণ মানুষের মনে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন জাগে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্র হওয়ায় এর শরয়ী বিধান সম্পর্কে সঠিক ধারণা অনেকেরই অজানা থাকে।

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, মুঠোফোনে কোরআন তিলাওয়াত করার ক্ষেত্রে সাধারণ কাগজের কোরআনের বিধান থেকে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে স্ক্রিনের গ্লাসটি একটি আলাদা আবরণ হিসেবে কাজ করে, যার ফলে ব্যবহারকারী সরাসরি মূল হরফ স্পর্শ করেন না। মূলত এই যন্ত্রের স্ক্রিনে আয়াতের লেখাগুলো প্রতিফলিত হয় এবং কাচের পর্দার মাধ্যমে তা দৃশ্যমান হয়। সরাসরি হরফ স্পর্শ না করার কারণে এই বিশেষ মাধ্যমের ক্ষেত্রে বিধান কিছুটা সহজ করা হয়েছে।

অবশ্য অজু ছাড়া মুঠোফোনে কোরআন পড়া জায়েজ হলেও, তিলাওয়াতের সর্বোচ্চ আদব ও পবিত্রতা রক্ষা করা সর্বদা উত্তম বলে বিবেচিত হয়। পবিত্র কোরআন আল্লাহর বাণী হওয়ায় এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। তাই সম্ভব হলে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করে এবং অজুসহকারে তিলাওয়াত করা অধিক সওয়াবের কাজ বলে গণ্য করা হয়। তবে কোনো কারণে অজু না থাকলে শুধু চোখের দৃষ্টি বা ইশারার মাধ্যমেও স্ক্রিন থেকে তিলাওয়াত করা সম্ভব।

পরিশেষে, বর্তমান যুগের এই আধুনিক সুযোগটি ধর্মীয় জ্ঞান চর্চাকে আরও সহজ করে তুলেছে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো সময় ও পরিস্থিতিতে মানুষ সহজেই পবিত্র কালাম পড়তে পারছে। তবে শরিয়তের মূল চেতনা বজায় রেখে এবং যথাযথ আদব রক্ষা করে এই ডিজিটাল মাধ্যমের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত বলে মনে করেন ধর্মীয় গবেষকরা।

advertisement
advertisement

এইচএসসির ফল: গ্রামের অধিকাংশ কলেজ পিছিয়ে

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৭:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
এইচএসসির ফল: গ্রামের অধিকাংশ কলেজ পিছিয়ে

এইচএসসির ফল: গ্রামের অধিকাংশ কলেজ পিছিয়ে

শিক্ষা ডেস্ক: রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন গ্রামীণ অঞ্চলের সরকারি কলেজগুলোতে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, শহরের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভালো ফলাফল করলেও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কলেজগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। দীর্ঘ আট বছর আগে জাতীয়করণ হওয়া এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই বোর্ডের গড় পাসের হার অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলের গ্রামীণ কলেজগুলোতে শিক্ষার মান আশানুরূপভাবে উন্নত হচ্ছে না। ফলস্বরূপ, রাজশাহী বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হারের তুলনায় উপজেলাগুলোর কলেজগুলোতে পাসের হার অনেক নিচে নেমে গেছে। এর ফলে শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনের কারণগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় গ্রামীণ এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।

বোর্ডের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজশাহী বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও জেলার নয়টি উপজেলার সরকারি কলেজগুলোর গড় পাসের হার মাত্র ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা দেখা গেছে গোদাগাড়ী সরকারি কলেজে, যেখানে পাসের হার মাত্র ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এই কলেজ থেকে অংশগ্রহণকারী দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৪২ জন এবং একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে দুর্গাপুরের দাউকান্দি সরকারি কলেজে, যেখানে পাসের হার মাত্র ২০ দশমিক ৫১ শতাংশ। এছাড়া বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং বাগমারার ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজে পাসের হার ৩৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি কলেজে পাসের হার সামান্য বেশি হলেও তা বোর্ডের গড়ের নিচে রয়েছে, যা ৪৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে তানোরের সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজে পাসের হার ২৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এই কলেজে চার শতাধিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে বড় একটি অংশ ব্যর্থ হয়েছেন। এই ফলাফলকে কোনোভাবেই সন্তোষজনক মনে করছেন না প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। তানোর সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোস্তফা কামাল হতাশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে এই ফলাফল তাদের আনন্দিত করেনি এবং আগামী দিনে পরিস্থিতি উন্নতির জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

তবে এই সামগ্রিক বিপর্যয়ের মাঝেও কয়েকটি কলেজ তুলনামূলকভাবে ভালো ফলাফল অর্জন করে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। এর মধ্যে চারঘাটের সরদহ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন। এই কলেজে পাসের হার ৬৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা বোর্ডের গড় পাসের হারকে ছাড়িয়ে গেছে। এখান থেকে শতাধিক পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জনে সফল হয়েছেন। এছাড়া মোহনপুর সরকারি কলেজে পাসের হার ৬১ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং পুঠিয়ার বানেশ্বর সরকারি কলেজে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। এই তুলনামূলক ভালো করা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রমাণ করে যে সঠিক পরিবেশ ও সুযোগ পেলে গ্রামীণ শিক্ষার্থীরাও ভালো ফলাফল করতে সক্ষম। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে কয়েকটি কলেজ ভালো করলেও বেশিরভাগ উপজেলা কলেজেই চিত্রটি অত্যন্ত হতাশাজনক। এসব সফল প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষণীয় বিষয়গুলো অন্যান্য কলেজে প্রয়োগ করা যেতে পারে কি না, তা নিয়ে শিক্ষাবিদেরা নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। গ্রামীণ পর্যায়ে শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

গ্রামীণ কলেজগুলোর এই ধারাবাহিক ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষবিমুখতাকে প্রধানত দায়ী করছেন। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে কিছুদিন নিয়মিত ক্লাস করলেও দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ করার পর থেকেই তারা শ্রেণিকক্ষ বিমুখ হয়ে পড়ে। তারা স্কুল-কলেজের ক্লাসের পরিবর্তে কোচিং সেন্টার এবং ব্যক্তিগত প্রাইভেটের পেছনে বেশি সময় ব্যয় করে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের বারবার অবহিত করা হলেও পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয় না। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ জাতীয়করণ করার পর থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রায় বন্ধ রয়েছে। গত কয়েক বছরে স্বাভাবিক নিয়মেই অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন, কিন্তু তাদের বিপরীতে নতুন কোনো শিক্ষক পদায়ন করা হয়নি। তীব্র শিক্ষকসংকটের কারণে কলেজগুলোতে নিয়মিত ও যথাযথ পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির এই দুই সংকটের বেড়াজালে গ্রামীণ পর্যায়ের সরকারি কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাড়তি সময়ের বড় পরীক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাড়তি সময়ের বড় পরীক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

বাড়তি সময়ের বড় পরীক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

অর্থনীতি ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতি পর্বের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে একটি ব্যতিক্রমী সুযোগ হিসেবে দেখছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ও মিডিয়া সংলাপে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই বাড়তি সময় বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে কেবল পরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই চলবে না, বরং এই সুযোগের সঠিক সদ্ব্যবহার করতে হলে আগামী তিন বছর দেশের নীতিনির্ধাতকদের ব্যতিক্রমী সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে হবে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করেছিলেন। ফলে সরকারের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর এখন এই প্রস্তুতি পর্বের লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু মন্ত্রণালয় বা আমলাতন্ত্রের রুটিন কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একসাথে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের গতি ত্বরান্বিত করা।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার কমানো, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি খাত, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরবরাহব্যবস্থাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি সংস্কার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতে কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। অতীতের ধারাবাহিকতা ভেঙে কেবল প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কাজের বাস্তব রূপায়ণই এই মুহূর্তে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলে মনে করে সিপিডি।

সংস্কার কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে গবেষণা সংস্থাটি। এই লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত এজেন্ডায় বিষয়টি রাখা, সংসদীয় আলোচনার ব্যবস্থা করা এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি ট্র্যাক করার জন্য একটি সর্বজনীন ড্যাশবোর্ড চালুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, সংসদ সদস্য, বেসরকারি খাত এবং গণমাধ্যমকে এক সাথে যুক্ত করে একটি অংশগ্রহণমূলক রূপরেখা তৈরি না করলে এই বাড়তি সময়ের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।

সিপিডির আরেক বিশেষ ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেছেন যে, কেবল পুরোনো বাণিজ্যসুবিধা ধরে রাখার পেছনে সময় না দিয়ে বরং উত্তরণ-পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতির নতুন মানদণ্ড যেমন কার্বন কর, শ্রম অধিকার ও পরিবেশগত শর্ত পূরণের প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে। এছাড়া নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ জোর দিয়ে বলেছেন যে, এলডিসি উত্তরণের মূল লক্ষ্য কেবল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা, যার সুফল দেশের সাধারণ মানুষও ভোগ করতে পারবে।

ব্যালন ডি’অর : স্বর্ণের বলের সাত দশকের গল্প

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ব্যালন ডি’অর : স্বর্ণের বলের সাত দশকের গল্প

ব্যালন ডি’অর : স্বর্ণের বলের সাত দশকের গল্প

খেলা ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বে একটি সোনালি বল মানেই খেলোয়াড়দের কাছে স্বপ্নের চূড়ান্ত স্বীকৃতি। মাঠের অজস্র গোল এবং ট্রফির ভিড়ে এই সম্মান একজন ফুটবলারকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়, যার নাম ব্যালন ডি অর। মূলত ১৯৫৬ সালে ফ্রান্সের বিখ্যাত ফুটবল সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়কে পুরস্কৃত করার উদ্দেশ্যে এই আয়োজন শুরু করেছিল। সে সময় বেশ ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই পুরস্কার প্রথমবার জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথিউস, যিনি তখন একচল্লিশ বছর বয়সে এই কীর্তি গড়েন। দীর্ঘ সাত দশকের পথ পরিক্রমায় সেই ছোট্ট আয়োজন আজ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত স্বীকৃতিতে রূপ নিয়েছে।

শুরুর দিকে এই পুরস্কারের নিয়মে শুধু ইউরোপীয় নাগরিকত্বধারী ফুটবলাররাই বিবেচনাধীন ছিলেন, যার কারণে পেলে বা ডিয়েগো ম্যারাডোনার মতো মহাতারকারা ইউরোপে খেললেও এই অর্জনের যোগ্য ছিলেন না। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে নিয়মের পরিবর্তন এনে ইউরোপের ক্লাবে খেলা সব দেশের ফুটবলারদের জন্য এর দরজা উন্মুক্ত করা হয়, এবং প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে লাইবেরিয়ার জর্জ উইয়াহ এই গৌরব অর্জন করেন। এরপর ২০০৭ সালে নিয়মের পরিধি আরও বাড়িয়ে বিশ্বের যেকোনো লিগে খেলা ফুটবলারদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়। এছাড়া ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কারের সঙ্গে একীভূত থাকার পর এটি আবার নিজস্ব স্বকীয়তায় ফিরে আসে।

সাংবাদিকদের ভোটের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় ব্যালন ডি অরের বিজয়ী, যেখানে পুরুষ বিভাগে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ একশোটি দেশের এবং নারী বিভাগে শীর্ষ পঞ্চাশটি দেশের প্রতিনিধিরা ভোট প্রদান করেন। প্রথমে ফ্রান্স ফুটবলের সম্পাদকীয় দল একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করে এবং সেখান থেকে ভোটাররা তাদের পছন্দের সেরা খেলোয়াড়দের বাছাই করেন। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, মাঠে খেলোয়াড়ের প্রভাব, দলীয় সাফল্য এবং ক্রীড়সুলভ আচরণকে মূল বিচার্য বিষয় হিসেবে ধরা হয়। নারীদের ক্ষেত্রে ২০১৮ সালে এই পুরস্কার চালুর পর থেকে আডা হেগারবার্গ, আলেক্সিয়া পুতেয়াস ও আইতানা বোনমাতির মতো তারকারা এই সম্মান অর্জন করেছেন।

এই পুরস্কারের ইতিহাসে রেকর্ড আটবার সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন লিওনেল মেসি, যার ধারেকাছে রয়েছেন পাঁচবারের বিজয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এছাড়া ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি ও মার্কো ফন বাস্তেনের মতো কিংবদন্তিরা তিনবার করে এই সোনালি বল জয় করেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফুটবলারদের বদল ঘটলেও এবং নানা বিতর্ক কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও ব্যালন ডি অরের আবেদন আজও অম্লান রয়েছে। ১৯৫৬ সালে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড় খোঁজার যে অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের স্থায়ী প্রতীকে পরিণত হয়েছে।