খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

রংপুর বিভাগে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, সংবিধানে সবার সমান অধিকারের কথা বলা হলেও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বাস্তবে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি বলেন, বৈষম্য কমাতে শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বহুমুখী কর্মসংস্থানের দিকে নজর দিতে হবে। সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে অবহিত করতে হবে। তবে সব সমস্যার সমাধান একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রংপুর নগরীর লালকুঠি রোডের একটি হোটেলের সভাকক্ষে হেকস/ইপারের আয়োজনে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের রংপুর বিভাগের পরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, সংবিধানে বৈষম্যের কোনো বিধান নেই। অথচ নারী ও পুরুষ শ্রমিকের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। দিনাজপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের সভাপতি চিত্ত ঘোষের সভাপতিত্বে সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন রংপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পার্থ বোস এবং হেকস/ইপার কান্ট্রি অফিসের পার্টনারশিপ ম্যানেজার ও সিনিয়র প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার লাভলীহুড ভুপেশ রায়। ধারণাপত্র পাঠ করেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা প্ল্যাটফর্মের আব্দুল বাতেন। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন হেকস-ইপারের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা পাপন কুমার সরকার। সম্মেলনে রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম এই ছয় জেলার ১৬টি উপজেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অংশ নেন। দিনব্যাপী সম্মেলনে প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রম, অর্জন, অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। মুক্ত আলোচনায় সাংগঠনিক কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে বক্তব্য দেন রংপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা মঞ্জুশ্রী সাহা, দিনাজপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সফিকুল হক ছুটু, রংপুর অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের মনিলাল দাস, ঠাকুরগাঁওয়ের অ্যাডভোকেট ইমরান, কুড়িগ্রামের সরবী বালা, লালমনিরহাটের সুপেন দত্ত, নীলফামারীর ছবি দাস, আব্দুল জব্বার, শীষ রহমান, দিনাজপুরের এডওয়ার্ড হেমরম, রংলাল বাসফোর, আলবিনুস টুডু, অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, শিউলী বাড়া, অজয় বাসফোর, রংপুরের শ্যামল টুডু, প্রদীপ গোস্বামী, উৎপল মিনঝি, কাতরীনা রিনি মিনঝি, সুশান্ত ভৌমিক, ঠাকুরগাঁওয়ের ফ্রান্সিস বাস্কে, সৈয়দপুরের রেজাউল হকসহ অন্যরা। সম্মেলনে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, আদিবাসী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে প্ল্যাটফর্মগুলোর ২০২৬ সালের গৃহীত কার্যক্রমের পর্যালোচনা এবং জেলা ও উপজেলাভিত্তিক নতুন কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্ল্যাটফর্মের সাধারণ সম্পাদক রাজু বাসফোরের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন অংশগ্রহণকারীরা। এ ছাড়া আদিবাসী নারীদের নিয়ে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ আয়োজনের জন্য দিনাজপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের সভাপতি চিত্ত ঘোষকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

The post রংপুর বিভাগে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত appeared first on দৈনিক নীলফামারী বার্তা.

advertisement
advertisement

উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে সাড়ে আট লাখ আসন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৪:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে সাড়ে আট লাখ আসন

উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে সাড়ে আট লাখ আসন

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি শিক্ষাবর্ষের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি বড় অংশ কৃতকার্য হতে ব্যর্থ হওয়ায় উচ্চশিক্ষার আসনগুলোতে তীব্র শিক্ষার্থী সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষার এই নিম্ন পাসের হার সরাসরি দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সমমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমান শিক্ষাবর্ষে মোট আসন সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখের কাছাকাছি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও এর অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে বিশাল সংখ্যক আসন এবং বাকি আসনগুলো রয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা এই মোট আসনের তুলনায় অনেক কম। ফলে সব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি আসন, যেখানে অনার্স ও ডিগ্রি কোর্সে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে নির্দিষ্টসংখ্যক আসন। প্রথাগতভাবে শিক্ষার্থীরা প্রথমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির চেষ্টা করেন এবং সেখানে আসন না পেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তবে সামগ্রিক পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এবার এই প্রথাগত ধারায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটতে পারে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বড় ধাক্কার মুখে পড়বে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, এই সংকট সব প্রতিষ্ঠানের ওপর সমানভাবে না পড়লেও মাঝারি ও নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মারাত্মক শিক্ষার্থী সংকটে পড়বে। দেশের প্রথম সারির নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে কিছুটা সামলে নিতে পারলেও অপেক্ষাকৃত ছোট ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর্থিক ও একাডেমিক উভয় দিক থেকেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

৩৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ, ইউএনও বলছেন ২৪—বাকি ৯ বস্তা কোথায়

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৪৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
৩৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ, ইউএনও বলছেন ২৪—বাকি ৯ বস্তা কোথায়

৩৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ, ইউএনও বলছেন ২৪—বাকি ৯ বস্তা কোথায়

জাতীয় ডেস্ক: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় দুস্থ ও জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় জব্দের ঘটনা ঘটেছে। এই চালের পরিমাণ নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দিন বিকেলে কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুটি অটোরিকশায় করে চালগুলো গোপনে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার তৎপরতায় রানীরহাট রাস্তার মাথা এলাকায় অটোরিকশা দুটিসহ চালগুলো আটক করা হয়। অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা এই খাদ্যপণ্য এভাবে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক করার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিএনপি নেতা কাজল ও রবিউল দাবি করেছিলেন যে ওই অটোরিকশা দুটিতে মোট ৩৩ বস্তা সরকারি চাল ছিল। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমকে ফোনে জানানো হয় এবং তার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালগুলো জব্দ করে উপজেলা কার্যালয়ে নিয়ে নিরাপদ হেফাজতে সংরক্ষণ করা হয়। তবে চাল জব্দের প্রাথমিক দাবির সঙ্গে পরবর্তীতে হিসাবের গরমিল পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে ধূম্রজাল তৈরি হয়।

এদিকে চালের প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে শুরু হওয়া রহস্যের জট এখনো পুরোপুরি খোলা সম্ভব হয়নি। ৩৩ বস্তা চাল জব্দের দাবি করা হলেও পরবর্তীতে বিএনপির ওই দুই নেতার পক্ষ থেকে জানানো হয় সেখানে মূলত ২৪ বস্তা চাল ছিল। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন তার কার্যালয়ে ২৪ বস্তা সরকারি চাল পৌঁছানোর কথা নিশ্চিত করেছেন। চালের এই পরিমাণের অসংগতি এবং বাকি ৯ বস্তা চালের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে প্রশাসন জানিয়েছে যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জোবায়েদ মিয়া এই ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে তিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না এবং দুপুরের দিকে বাড়িতে যাওয়ার পর ফোনে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। জনপ্রতিনিধির এমন বক্তব্যে ঘটনার নেপথ্য রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সরকারি চাল বিতরণের নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে কীভাবে তা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাইরে নেওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল নিয়ে এই ধরনের অনিয়মের ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জব্দ করার পর থেকে উপজেলা কার্যালয়ে চাল পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখে বাকি ৯ বস্তার সঠিক হিসাব উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি চাল কোথা থেকে, কার বা কাদের নির্দেশে এবং ঠিক কোথায় পাচার করা হচ্ছিল—তা উদ্ঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

চরফ্যাশনে ৪৫৫ একর জমি নিয়ে বিপাকে ২৩০ ভূমিহীন পরিবার, এমপির কাছে আবেদন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চরফ্যাশনে ৪৫৫ একর জমি নিয়ে বিপাকে ২৩০ ভূমিহীন পরিবার, এমপির কাছে আবেদন

চরফ্যাশনে ৪৫৫ একর জমি নিয়ে বিপাকে ২৩০ ভূমিহীন পরিবার, এমপির কাছে আবেদন

জাতীয় ডেস্ক: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে বন্দোবস্ত পাওয়া প্রায় সাড়ে চার শ একর জমি একটি প্রভাবশালী মহলের কব্জায় চলে গেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে চাষাবাদ করতে না পেরে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন অন্তত দুই শ ত্রিশটি ভূমিহীন পরিবার। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী বৈধ কাগজপত্র পাওয়ার পরও প্রভাবশালী চক্রের কারসাজিতে নিজেদের জমি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এসব অসহায় মানুষ। জমির আইনগত অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা ফিরে পেতে অবশেষে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুই হাজার চার থেকে দুই হাজার পাঁচ অর্থবছরে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করে চরফ্যাশন উপজেলার ১০১ নম্বর চর আইচা মৌজার সংশ্লিষ্ট শিটে দুই শ ত্রিশ জন ভূমিহীন ব্যক্তির নামে প্রায় চার শ পঞ্চান্ন একর জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল। বৈধভাবে এই সম্পত্তি পাওয়ার পর থেকে দরিদ্র প্রজারা নিয়মিত সরকারি কোষাগারে খাজনা পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ ও বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ও বিত্তশালী মহল ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জবরদখলের মাধ্যমে এই বিশাল পরিমাণ জমি নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে জমি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা নামে-বেনামে নানা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন এবং অসহায় পরিবারগুলোর জীবিকা হুমকির মুখে ফেলেছেন। স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক ও মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও প্রভাবশালীরা কোনো তোয়াক্কা করেননি। উল্টো তাঁরা জমির প্রকৃত মালিকদের নানা ধরনের হুমকি দিয়ে এলাকাছাড়া করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই চক্রের নেতৃত্বে গ্রাম পুলিশসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাঁরা যে জমিতে চাষাবাদ করছেন, তা অভিযোগকারীদের নয় বরং ভিন্ন মৌজার সম্পত্তি। অন্যদিকে দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে সংসদ সদস্যের নির্দেশক্রমে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত প্রকৃত ভূমিহীনদের হাতে তাঁদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।