খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা হলে একদফা দাবি রূপান্তর করা হবে: জামায়াত আমির

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা হলে একদফা দাবি রূপান্তর করা হবে: জামায়াত আমির

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা হলে একদফা দাবি রূপান্তর করা হবে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা না হলে তাদের রাজনৈতিক আন্দোলন একদফা দাবিতে রূপ নেবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, তাদের দল দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় না, তবে জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন ব্যাহত হলে তারা চুপ করে বসে থাকবে না। সম্প্রতি ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন।

১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি আদায়ের অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত আয়োজিত লংমার্চের ঝিনাইদহ অংশে এই পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে জানান যে, তাদের এই সাত দফা দাবি কেবল কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির নয়, বরং এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের মৌলিক অধিকারের বিষয়। জনগণের এই ন্যায্য দাবিকে পাশ কাটিয়ে তাদের একপ্রকার অপমান করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় বিগত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন যে, অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক মানুষ ইতিবাচক রায় দিলেও সেই রায়কে সম্মান জানানো হয়নি। যদি গণভোটকে অবৈধ বলে গণ্য করা হয়, তবে একই প্রক্রিয়ায় গঠিত সংসদ নির্বাচনও বৈধতা হারায় বলে তিনি দাবি করেন। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো রকম সংঘাত এড়াতে সমঝোতার পথেই এই রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করতে হবে এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবুবকরের সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় বক্তারা অবিলম্বে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

advertisement
advertisement

শুধু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি: জেএসডি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শুধু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি: জেএসডি

শুধু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি: জেএসডি

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বা জেএসডি মনে করে যে দেশে কেবল রাজনৈতিক শাসকের পরিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর কোনো মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হয়নি। দলটির পক্ষ থেকে সম্প্রতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই মূল্যায়ন তুলে ধরা হয় যেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন যে রাষ্ট্র পরিচালনায় পুরোনো পদ্ধতি বহাল থাকায় জনজীবনে কাঙ্ক্ষিত সুফল আসছে না এবং সাধারণ মানুষের অধিকারগুলো সুরক্ষিত হচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে সাবেক সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য শরীফ ভূঁইয়া অংশ নিয়ে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতি ও পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন যে গত জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা, জাতীয় সনদ এবং গণভোটের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এমনকি রাষ্ট্র মেরামতের জন্য দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষিত ৩১ দফার অঙ্গীকারগুলোও কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণ যে পরিবর্তনের আশা করেছিল, নীতিনির্ধারকদের অনীহার কারণে তা আজ হোঁচট খাচ্ছে। রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার ছাড়া কেবল সরকার পরিবর্তন করলেই জনগণের ভাগ্য বদলানো সম্ভব নয় বলে তারা দৃঢ় মত প্রকাশ করেন। অবিলম্বে সংস্কার এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নের পথে না হাঁটলে জনগণের মধ্যে হতাশা আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে তারা সতর্ক করে দেন।

পরিশেষে, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে এক প্ল্যাটফর্মে এসে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান জেএসডির নেতারা। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে জনগণের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং ক্ষমতার যথেচ্ছাচার রোধে তারা সোচ্চার থাকবেন।

জঙ্গল সলিমপুরে বিএনপির ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জঙ্গল সলিমপুরে বিএনপির ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি

জঙ্গল সলিমপুরে বিএনপির ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি

রাজনীতি ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বহুল আলোচিত পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি নতুন সাংগঠনিক ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। পাহাড়ি জনপদ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে রাজনৈতিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘোষিত এই কমিটিতে বোরহান উদ্দিন জিয়াকে সভাপতি এবং মিজানুর রহমান রাজু সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মোড় জাহাঙ্গীর আলম ও সদস্যসচিব খ ম নাজিম উদ্দিন যৌথভাবে এই কমিটির অনুমোদন প্রদান করেন। স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে আবদুর সাত্তারকে সিনিয়র সহসভাপতি এবং মো. হেলাল উদ্দিন মিয়াকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে। এ ছাড়া আহমদ উল্লাহ যুগ্ম সম্পাদক, শাহজাহান বাদশা সাংগঠনিক সম্পাদক, মো. হাসান সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও শরীফ হোসেন অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। পাশাপাশি কার্যকরী সদস্য পদে সাইদুল হক ছাদুসহ অন্যান্য নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নবগঠিত কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুরে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে এবং দলকে আরও গতিশীল করতে তারা কাজ করবেন। বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করার পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে এই কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য যে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি অতীতে বিভিন্ন কারণে আলোচনায় ছিল এবং বর্তমানে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে।

ভূমির লাগামহীন বাণিজ্যিকীকরণে বসবাসের যোগ্যতা হারাচ্ছে রাজধানী: নগর বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভূমির লাগামহীন বাণিজ্যিকীকরণে বসবাসের যোগ্যতা হারাচ্ছে রাজধানী: নগর বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ

দ্য ডেইলি স্টারের ‘মহানগর ঢাকা: ইতিহাস ও রূপান্তর’ শীর্ষক ইতিহাস আড্ডার ৩৫তম পর্বে আলোচকেরা। রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

অব্যবস্থাপনাপূর্ণ নগরায়ণ, করপোরেট মুনাফার লোভ এবং ভূমির মাত্রাতিরিক্ত বাণিজ্যিক ব্যবহারের কারণে ঢাকা দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছেন নগর–পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতিরা। তাঁদের অভিমত, জনকল্যাণকে গুরুত্ব না দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং যথাযথ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যর্থতায় নগরীর পরিবেশ, জলাধার ও সামগ্রিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বিপর্যস্ত হচ্ছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে পত্রিকাটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘মহানগর ঢাকা: ইতিহাস ও রূপান্তর’ শীর্ষক ইতিহাস আড্ডার ৩৫তম পর্বে বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন। পর্বটি পরিচালনা করেন দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক ইমরান মাহফুজ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক শায়ের গফুর মন্তব্য করেন, জমির অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিকীকরণের কারণেই ঢাকা বাসযোগ্যতা হারিয়েছে, যা কর্তৃপক্ষের পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় প্রসার পেয়েছে। এই বাণিজ্যিকীকরণের রাশ না টেনে বাসযোগ্য নগর গড়ার কথা বলা স্পষ্টতই পরস্পরবিরোধী। একই সুর তুলে ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নগর–পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বিগত তিন দশকে ঢাকাকে স্রেফ একটি বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। নগর–পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ—সবখানেই জনস্বার্থকে পাশ কাটিয়ে করপোরেট মুনাফাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

পরিবহন ব্যবস্থার অসঙ্গতি তুলে ধরে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) উপপরিবহন পরিকল্পনাবিদ ধ্রুব আলম জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন একটি টেকসই কাঠামোর বদলে বিচ্ছিন্ন ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে এগিয়েছে। এমনকি জাতীয় নগর পরিবহন নীতিমালায় পথচারীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও পরিবহন পরিকল্পনার মোট বাজেটের ১ শতাংশেরও কম অর্থ তাঁদের সুবিধার জন্য খরচ করা হয়।