খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

যেভাবে শুরু হয়েছিল হ্যালোউইনের জাদুকরি পোশাকের রেওয়াজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যেভাবে শুরু হয়েছিল হ্যালোউইনের জাদুকরি পোশাকের রেওয়াজ

যেভাবে শুরু হয়েছিল হ্যালোউইনের জাদুকরি পোশাকের রেওয়াজ

ফিচার ডেস্ক: পশ্চিমা বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী উৎসব হ্যালোউইন এখন বিশ্বায়নের প্রভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ দিনে ছোট থেকে বড় সবাই এই উৎসবে মেতে ওঠে এবং ভূত, পেত্নী কিংবা নিজেদের প্রিয় কোনো সুপারহিরোর পোশাক পরে ঘুরে বেড়ায়। নিছক আনন্দের ছলে এই দিনে নানা ধরনের কস্টিউম পরার চল থাকলেও এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে শতাব্দীর পর শতাব্দী পুরোনো এক ভৌতিক ইতিহাস। মূলত বিভিন্ন প্রাচীন সংস্কৃতির মিশ্রণেই আজকের এই জাদুকরি পোশাক পরিধানের প্রথা গড়ে উঠেছে যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাচীন সেল্টিকদের বিভিন্ন বিশ্বাস।

এই কস্টিউম পরার প্রথার মূল উৎস খুঁজে পাওয়া যায় প্রায় দুই হাজার বছর আগে স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে বসবাসকারী সেল্টিকদের প্রাচীন সামহেইন উৎসবে। শরৎ ও শীতের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে আয়োজিত এই উৎসবটিকে মূলত অন্ধকার মৌসুমের সূচনা হিসেবে ধরা হতো। সেল্টিকরা বিশ্বাস করতেন যে এই বিশেষ সময়ে জীবন্ত ও মৃত জগতের মধ্যকার অদৃশ্য ব্যবধান অত্যন্ত পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে মৃত আত্মারা সহজে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে। অশুভ আত্মা বা দেবতারা যেন মানুষের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য তারা ভুতুড়ে ও ভীতিকর পোশাক বা মুখোশ পরে নিজেদের ছদ্মবেশ ধারণ করতেন। তাদের ধারণা ছিল, এই ধরনের ছদ্মবেশের মাধ্যমে অশুভ আত্মাদের ভয় দেখিয়ে বা নিজেদের একজন ভেবে তাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

পরবর্তী সময়ে ইউরোপে মামিং ও গাইজিং নামে আরেকটি প্রথা বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে যেখানে সাধারণ মানুষ খড়ের তৈরি বিশেষ পোশাক পরে প্রতিবেশীদের বাড়ি গিয়ে গান ও নাটক পরিবেশন করতেন। পরবর্তীকালে স্কটিশ ও আইরিশ অভিবাসীরা এই ঐতিহ্যটি উত্তর আমেরিকায় নিয়ে যান এবং সেখান থেকেই আধুনিক ট্রিক-অর-ট্রিট প্রথার সূচনা হয়। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে উত্তর আমেরিকায় হ্যালোউইনের রাতে বিশৃঙ্খলা রোধ করতে এবং শিশুদের আনন্দ দেওয়ার জন্য স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রিক-অর-ট্রিট প্রথার প্রচলন করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চিনির রেশনিং শেষ হলে এই প্রথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বর্তমান যুগে এটি শিশুদের মিষ্টি সংগ্রহের একটি আনন্দময় খেলায় পরিণত হয়েছে।

উনিশ ও বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত হ্যালোউইনের পোশাকের রূপ একরকম থাকলেও এর সত্যিকারের রমরমা যুগ শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। সে সময় নিউইয়র্কের উদ্যোক্তা বেন ও নাট কুপার ভাইয়েরা কম খরচে জনপ্রিয় পপ-সংস্কৃতির চরিত্রভিত্তিক কস্টিউম তৈরি করে এই ক্ষেত্রে এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। বেন কুপার ডট ইন নামের তাদের কোম্পানি কমিক বুক ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোকে শিশুদের কাছে সহজলভ্য করে তোলে এবং হ্যালোউইনের কস্টিউমকে উৎসবের একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত করে। বর্তমানে হ্যালোউইনে কস্টিউম পরার উদ্দেশ্য আনন্দ উপভোগ করা এবং নিজস্ব সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটানো হলেও এটি মূলত প্রাচীন সেল্টিকদের টিকে থাকার লড়াই, ইউরোপীয় লোকসংস্কৃতি ও আধুনিক পপ-কালচারের এক দারুণ মেলবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।

advertisement
advertisement

দেশের সব চিনিকল নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দেশের সব চিনিকল নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

দেশের সব চিনিকল নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

অর্থনীতি ডেস্ক: নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে বর্তমান সরকার এরই মধ্যে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেছে। সম্প্রতি নাটোরের লালপুরে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী চিনিকলের ৯৪তম আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের বন্ধ থাকা সব চিনিকল পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে দেশের নিজস্ব সম্পদ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে কেবল সরকারি প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আখচাষিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, মিলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং প্রণোদনার অর্থ বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে পুরোপুরি পরিশোধ করেছে। এখন থেকে প্রত্যেক কর্মীকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে কাজের মাধ্যমে দক্ষতা ও আন্তরিকতার প্রমাণ দেখাতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল খুব দ্রুতই আবার একটি সফল ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। বর্তমান প্রশাসন প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অন্তরায় সৃষ্টি করা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বসে সার্বিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ সবার জন্য এবং সবার আগে—এই মূল মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে তিনি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। আলোচনা সভা শেষে মিলের কেইন ক্যারিয়ার প্রাঙ্গণে ডোঙায় আখ ফেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ১১৩ কার্যদিবসে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আখচাষিদের আর্থিক সুরক্ষা ও উৎসাহ দিতে এবার আখের দাম প্রতি কুইন্টাল ৬২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের হাতে আখের মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত কৃষি উপকরণ ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চিনিকলের সঙ্গে বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার আখচাষি পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে।

সাঁতারে এক যুগ পুরোনো রেকর্ড ভাঙলেন ইরফানা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাঁতারে এক যুগ পুরোনো রেকর্ড ভাঙলেন ইরফানা

সাঁতারে এক যুগ পুরোনো রেকর্ড ভাঙলেন ইরফানা

খেলা ডেস্ক: জাতীয় সাঁতারে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে একে একে তিনটি ইভেন্টে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিভাবান সাঁতারু ইরফানা খাতুন। এর আগে প্রতিযোগিতার প্রথম দিকে ২০০ ও ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে চমক দেখানোর পর, এবার তিনি ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকেও নিজের নাম লিখিয়েছেন রেকর্ডের পাতায়। মিরপুরের জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এই সাঁতার প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে। তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্য দেশের সাঁতার অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং ক্রীড়ামোদীদের নজর কেড়েছে।

সর্বশেষ ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ইভেন্টটি সম্পন্ন করতে ইরফানার সময় লেগেছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৫৭ সেকেন্ড। এর আগে ২০১৪ সালে মাহফুজা খাতুন শিলা এই দূরত্ব অতিক্রম করেছিলেন ৩৪ দশমিক ৮৫ সেকেন্ডে। দীর্ঘ বারো বছর পর শিলার সেই পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করলেন এই সেনা সাঁতারু। এর আগে ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে দুই মিনিট ৪৫ দশমিক ৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে রোমানা আক্তারের গত বছরের রেকর্ডও ভেঙেছিলেন তিনি। পাশাপাশি ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকেও রোমানার আগের রেকর্ড পেছনে ফেলে নতুন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন ইরফানা।

ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলগত ইভেন্টেও দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রতিযোগিতার তৃতীয় দিনে মেয়েদের ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতে নতুন রেকর্ড গড়েছে সেনাবাহিনীর সাঁতারুরা। তারা নয় মিনিট ৪৭ দশমিক ৯৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে গত বছর নৌবাহিনীর গড়া নয় মিনিট ৫০ দশমিক শূন্য এক সেকেন্ডের রেকর্ডটি ভেঙে দেয়। এই রেকর্ড গড়া রিলে দলে ইরফানা খাতুনের সঙ্গে আরও অংশ নিয়েছিলেন মুক্তি খাতুন, ছুম্মা খাতুন ও জুঁই আক্তার। তাঁদের সম্মিলিত এই সাফল্যে দলটির শিবিরজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার।

এদিকে তিন দিনের এই প্রতিযোগিতায় সব মিলিয়ে নতুন জাতীয় রেকর্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ষোলোটিতে। পদক তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, যারা এখন পর্যন্ত ২৮টি সোনা, ১৮টি রুপা ও ১৩টি ব্রোঞ্জ জিতেছে। অন্যদিকে ১২টি সোনা, ১৮টি রুপা ও ২২টি ব্রোঞ্জ অর্জন করে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এছাড়া দুটি রুপা ও ছয়টি ব্রোঞ্জ পদক নিজেদের ঝুলিতে পুরে তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিকেএসপি। অবশিষ্ট দিনগুলোতে সাঁতারুদের আরও রোমাঞ্চকর লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রীড়াভক্তরা।

ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের অভিযানে ৬১ কোটি টাকার জাল-সরঞ্জাম জব্দ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের অভিযানে ৬১ কোটি টাকার জাল-সরঞ্জাম জব্দ

ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের অভিযানে ৬১ কোটি টাকার জাল-সরঞ্জাম জব্দ

জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় সম্পদ মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন এবং বংশবিস্তার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয়। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সরকারের এই নির্দেশ বাস্তবায়নে নৌবাহিনী অত্যন্ত তৎপর ভূমিকা পালন করে। দেশের প্রধান প্রজননক্ষেত্রগুলোতে মা ইলিশ রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

অভিযান চলাকালীন দেশের ৯টি জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ২১২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে আনুমানিক একষট্টি কোটি ১৮ লাখ টাকার অবৈধ জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ লাখ মিটার অবৈধ জাল, ১৬৬টি বিভিন্ন ধরনের জাল, চারটি বোট এবং ৫৭০ কেজি মা ইলিশ রয়েছে। এ ছাড়া আইন অমান্য করার অপরাধে ছয় হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং নিয়মের বাইরে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে নৌবাহিনীর সাতটি জাহাজ এবং বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালায়। গভীর সমুদ্রে দেশি-বিদেশি নৌযানের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জাহাজের পাশাপাশি মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমেও আকাশপথে নজরদারি রাখা হয়। শুধু সমুদ্র বা উপকূলীয় অঞ্চলই নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রধান নদ-নদীগুলোতেও এই কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছিল যাতে কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে না পারে।

অভিযান শেষে জব্দ করা অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয় এবং উদ্ধারকৃত মাছ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেরা এখন পুনরায় স্বাভাবিকভাবে মাছ আহরণ শুরু করতে পারছেন, যা দেশের সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ মৎস্যসম্পদের টেকসই সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।