খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ভবিষ্যতের টেকসই ও আধুনিক নগর গড়তে ময়মনসিংহের জন্য ২০৫০ সালের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভবিষ্যতের টেকসই ও আধুনিক নগর গড়তে ময়মনসিংহের জন্য ২০৫০ সালের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের ময়মনসিংহ শহর। সম্প্রতি ড্রোন ক্যামেরায় ছবিটি তুলেছেন উবায়দুল হক।

‘হাওর, জঙ্গল, মহিষের শিং—এই তিনে মৈমিনসিং’—ব্রিটিশ আমলের সুবিশাল ময়মনসিংহের প্রাকৃতিক রূপ নিয়ে প্রচলিত এই লোকপ্রবাদ আজ আর আগের মতো প্রাসঙ্গিক নয়। কালের বিবর্তনে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের এই ঐতিহাসিক জনপদটি এখন আর কেবল জেলা শহরের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিব্যবস্থা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতির প্রধান প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তবে দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, তীব্র যানজট, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাশয় ভরাট এবং নাগরিক সেবার ওপর বাড়তি চাপ শহরটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সুদূরপ্রসারী ভাবনার দাবি জানাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রণীত ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’ একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা। আইনটির লক্ষ্য ময়মনসিংহের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে আধুনিক, দুর্যোগসহনশীল, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটনবান্ধব সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা। এ বিষয়ক অভিজ্ঞতা বা নাগরিক সংবাদ পাঠাতে পাঠকদের ns@prothomalo.com ঠিকানায় যোগাযোগ করার সুযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের বর্তমান জনসংখ্যা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭২২ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনঘনত্ব প্রায় ৬ হাজার ৩১৫ জন। পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে মানুষের প্রতিনিয়ত আগমনের ফলে এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রূপ পাওয়া ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) দায়িত্ব কেবল ভবনের নকশা ছাড় করাতেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মউকের চেয়ারম্যান ভবনের নকশা অনুমোদনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ তদারকির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সংস্থাটির জন্য নিজস্ব কার্যালয় ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি, কারণ বর্তমানে জেলা গণপূর্ত ভবনের একটিমাত্র কক্ষ থেকে এর প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শহরের অন্যতম প্রধান ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে রেকর্ড ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পর প্রধান সড়কগুলোয় হাঁটুপানি জমে যায় এবং তা নিষ্কাশন হতে প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে। এর আগে ২০২৫ সালে নগরীর বলাশপুর এলাকায় প্রায় ২ হাজার পরিবারের মৌসুমি জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তির চিত্র সামনে আসে। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, ড্রেনের অভাব এবং বর্জ্য ফেলার কারণে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কেবল বিচ্ছিন্ন ড্রেন তৈরি না করে জলাধার সংরক্ষণ, পরিকল্পিত খাল এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পুকুর বা রিটেনশন পন্ডসহ সামগ্রিক জলপ্রবাহভিত্তিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণই এর টেকসই সমাধান হতে পারে।

পুরোনো শহরের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে ব্রহ্মপুত্র নদের অপর প্রান্তে আবাসন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্মুক্ত খেলার মাঠ, বিনোদন পার্ক, সাইকেল লেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল অবকাঠামোসমৃদ্ধ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আধুনিক উপশহর গড়ে তোলা যেতে পারে। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের স্ট্রাকচার ও অ্যাকশন প্ল্যান এবং ২০১১-২০৩১ সালের স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের গবেষণা পর্যালোচনার পাশাপাশি জিআইএস ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৬ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নির্ধারণ করা দরকার। একই সঙ্গে পুরো নগরীকে এককেন্দ্রিক না রেখে বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য কিংবা বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে একটি ‘পলিসেন্ট্রিক’ বা বহুকেন্দ্রিক নগর মডেলে রূপ দেওয়া সম্ভব, যা শহরের বর্তমান মারাত্মক অটোরিকশার যানজট নিয়ন্ত্রণে আনবে।

সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শহর ও উপশহরের মধ্যে একটি ইন্টিগ্রেটেড পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক (আইপিটিএন) গড়ে তোলা প্রয়োজন, যার মধ্যে নির্দিষ্ট বাস রুট, বিআরটি করিডর, রেল ও নৌপথের আন্তসংযোগ এবং নির্দিষ্ট পার্কিং হাব থাকবে। কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হওয়ায় নতুন ল্যান্ড ইউজ জোনিং ম্যাপের মাধ্যমে কৃষিজমি ও জলাভূমি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদকে ঘিরে পরিবেশ ও প্লাবনভূমি রক্ষা করে একটি সমন্বিত ‘রিভারফ্রন্ট ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান’ প্রণয়নের মাধ্যমে ‘রিভার সিটি’র ধারণা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আইনে উল্লিখিত দিকনির্দেশনা মেনে নিম্নবিত্ত, শ্রমজীবী ও বস্তিবাসীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘মিক্সড ইনকাম হাউজিং’ বা মিশ্র আয়ের আবাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক।

আধুনিক ময়মনসিংহকে সত্যিকারের স্মার্ট নগরী করতে একটি সমন্বিত আরবান ডেটা সেন্টার (ইউডিসি) থাকা প্রয়োজন, যা জিআইএসভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, প্রকৌশলী, স্থপতি, চিকিৎসক ও সমাজের নানা স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘আরবান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ফোরাম’ গঠন করা যেতে পারে। বিচ্ছিন্ন প্রকল্পনির্ভরতা পরিহার করে ২০২৬-২০৫০ সালের জন্য একটি ২৫ বছর মেয়াদি রূপরেখা বাস্তবায়ন করা জরুরি। এর মধ্যে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদে তথ্য সংগ্রহ, ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান ও উপশহরের স্থান নির্ধারণ; ২০৩০-২০৪০ মেয়াদে মূল অবকাঠামো, আবাসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন; এবং ২০৪০-২০৫০ মেয়াদে ময়মনসিংহকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর বহুকেন্দ্রিক সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা নিশ্চিত করতে হবে।

advertisement
advertisement

আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ১৭ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করে ওয়ানডে বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করেছেন আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান। তার রেটিং পয়েন্ট ৭১৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪২-এ। বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের আবরার আহমেদের চেয়ে তিনি ৮০ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। শুধু বোলিং নয়, একদিনের ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও দুই ধাপ উন্নতি করে ষষ্ঠ স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন এই আফগান তারকা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও বিশ্বের এক নম্বর বোলার হিসেবে থাকা রশিদের মুখোমুখি হয়েই আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল।

এদিকে আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামার পূর্বে সুখবর এসেছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ থেকেও। আইসিসির হালনাগাদ করা ওয়ানডে বোলিং তালিকায় দুই ধাপ উন্নতি ঘটিয়ে ১১ নম্বরে উঠে এসেছেন বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম। অন্যদিকে এক লাফে ৯ ধাপ এগিয়ে ১২তম স্থান দখল করেছেন তাসকিন আহমেদ। এটিই এই দুই টাইগার বোলারের ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থান।

ব্যাটসম্যানদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে আফগানিস্তানের উদীয়মান ব্যাটার সেদিকউল্লাহ আতালের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত পরশু ১১০ বলে খেলা ১০২ রানের ইনিংসটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর সুবাদে র‍্যাঙ্কিংয়ের ৩২তম অবস্থান থেকে এক লাফে ২০ নম্বরে পৌঁছে গেছেন তিনি। এ ছাড়া রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচের পর পাকিস্তানের সালমান আগা এক ধাপ এগিয়ে ১২ নম্বরে এবং ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট দুই ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বরে জায়গা পেয়েছেন।

ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রভাব পড়েছে কুড়ি ওভারের র‍্যাঙ্কিংয়েও। সেখানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা। টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলনেতা শাই হোপ। পাশাপাশি তাঁর সতীর্থ শেরফান রাদারফোর্ড ছয় ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ১৮ নম্বরে।

সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

গ্রেভিলিয়ার ফুল ও ফল

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের এক সকালে ঢাকার সাভারের বরিশাল নার্সারিতে দেখা মেলে এক ব্যতিক্রমী ফুলের, যাতে প্রচলিত কোনো পাপড়ির অস্তিত্ব নেই। মাকড়সার পায়ের বিন্যাসের মতো সাজানো পুষ্পমঞ্জরি দেখে নার্সারির ব্যবস্থাপক এটিকে ‘বোতলব্রাশ’ বলে উল্লেখ করলেও চেনা বোতলব্রাশের সঙ্গে এর মিল ছিল না। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, এটি প্রোটিয়েসি গোত্রের অন্তর্গত ‘গ্রেভিলিয়া’ গণের উদ্ভিদ। উল্লেখ্য, এই গোত্রে প্রায় ৮০টি গণ এবং ২ হাজার প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত। প্রোটিয়েসি গোত্রের উদ্ভিদে স্বতন্ত্র কোনো বৃতি বা পাপড়ি থাকে না; বরং টেপাল নামের চারটি পাপড়িসদৃশ অংশের একটিমাত্র চক্র গঠিত হয়।

বরিশাল নার্সারির মালিক মো. ইব্রাহিমের ভাষ্যমতে, থাইল্যান্ড থেকে আনা স্বল্প কিছু চারা মাতৃগাছ হিসেবে সেখানে বড় করা হচ্ছে। অদ্ভুত গড়নের কারণে আকৃষ্ট হয়ে তিনি গ্রেভিলিয়ার একাধিক জাত সংগ্রহ করেন, যেগুলোতে প্রায় সারা বছরই ফুল ফুটতে দেখা যায়। মূলত গ্রেভিলিয়া গণে ৩৮০টি প্রজাতি রয়েছে, যেগুলো পরিচিত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’ নামে। আঠারো শতকের বিশিষ্ট উদ্ভিদবিদ এবং রয়্যাল হর্টিকালচার সোসাইটির সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লস ফ্রান্সিস গ্রেভিলির নামানুসারে এই গণের নামকরণ করা হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে সাভারের গাছটির পুষ্পমঞ্জরি ‘Grevillea acanthifolia’ প্রজাতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যার তিনটি উপপ্রজাতি বিদ্যমান এবং পাতার গঠনে সেগুলোর ভিন্নতা স্পষ্ট।

ইংরেজিতে ‘অ্যাকান্থাস-লিভড গ্রেভিলিয়া’ নামে পরিচিত বহুবর্ষজীবী এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের বাংলা কোনো নাম পাওয়া যায়নি। ১৮১৭ সালে পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অভিযানকালে ইংরেজ উদ্ভিদবিজ্ঞানী অ্যালান কানিংহাম (১৭৯১-১৮৩৯) নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্লু মাউন্টেনস অঞ্চলের পিটযুক্ত জলাভূমি ও কক্স নদীর তীরে এর সন্ধান পান। পরবর্তীতে ব্যারন ফিল্ড সম্পাদিত ‘জিওগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার্স অন নিউ সাউথ ওয়েলস’ (১৮২৫) গ্রন্থে তিনি এর প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করেন। নার্সারিতে দেখা যায়, সোয়া মিটারের মতো দীর্ঘ দুটি গাছের কাণ্ড সোজা হলেও ডালপালা এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। উজ্জ্বল সবুজ, শক্ত ও কাঁটাযুক্ত পাতার ফলক ৯ থেকে ১৪টি খণ্ডে গভীরভাবে বিভক্ত। প্রতিটি পাতা ৪ থেকে ৯ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ও ৩ থেকে ৭ সেন্টিমিটার চওড়া; উপখণ্ডের অগ্রভাগ সূচালো ও রৈখিক, কীলকাকার বা ত্রিভুজাকৃতির।

গোলাপি থেকে বেগুনি রঙের ফুলগুলো একপাশে বিন্যস্ত হয়ে টুথব্রাশের মতো রূপ নেয়, যার মঞ্জরির দৈর্ঘ্য ৩ থেকে ১০ সেন্টিমিটার। এর ক্ষুদ্র বৃত্যংশ বা পাপড়ি হালকা সবুজ থেকে ধূসর রঙের, যা বাইরে রোমশ এবং ভেতরে মসৃণ। লাল রঙের দীর্ঘ গর্ভদণ্ডের শীর্ষে থাকে সবুজ পরাগ ধারণকারী অংশ। মূলত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে বেশি ফুটলেও সারা বছরই ফুল ফোটে এবং ফুল ঝরে যাওয়ার পর তৈরি হয় লালচে দাগযুক্ত রোমশ ফল বা ফলিকল। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের জলাভূমি ও উঁচু স্থানের এই স্থানীয় উদ্ভিদটি বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে বাগানের শোভাবর্ধক হিসেবে রোপণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সরকারিভাবে এর নথিভুক্ত তথ্য না থাকলেও পূর্বে ‘সিলভার ওক’ (Grevillea robusta)-এর উপস্থিতির তথ্য রয়েছে এবং সাম্প্রতিককালে এই প্রজাতির বিস্তারও ঘটছে।

হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা: কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা?

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা: কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা?

হোয়াটসঅ্যাপ কি তথ্য সংগ্রহ করে?

মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান ও ভয়েস-ভিডিও কলে ব্যবহৃত হয় ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ প্রযুক্তি। এই বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থার ফলে প্রেরক ও প্রাপক ব্যতীত তৃতীয় কোনো পক্ষ, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ বা মূল প্রতিষ্ঠান মেটাও যোগাযোগের মূল বিষয়বস্তু জানতে পারে না। তবুও প্ল্যাটফর্মটি বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের কিছু ব্যক্তিগত ও কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। তাছাড়া মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনেও নির্দিষ্ট কিছু ডেটা আদান-প্রদান করা হয়। তবে ডেটা সংগ্রহ বা শেয়ার করার অর্থ এই নয় যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করছে।

অ্যাপ সচল রাখা ও সার্বিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপ মূলত তিনটি মাধ্যম থেকে তথ্য পায়। প্রথমত, ব্যবহারকারী নিজে যখন অ্যাকাউন্ট খোলেন, তখন ফোন নম্বর ও নামের মতো তথ্য প্রদান করেন। দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে অ্যাপটি ব্যবহারের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশ কিছু কারিগরি উপাত্ত সংগৃহীত হয়। তৃতীয়ত, অন্যান্য ব্যবহারকারীর মাধ্যমেও তথ্য আসে; যেমন পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কারও মুঠোফোনের কন্ট্যাক্ট তালিকায় আপনার নম্বর সেভ থাকলে তা পৌঁছায়। তবে এসব উপাত্ত জমা হলেও এনক্রিপশন প্রযুক্তির কারণে ব্যক্তিগত টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও কিংবা সংযুক্ত নথির ভেতরের অংশে কারো প্রবেশাধিকার থাকে না। মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সাথে হোয়াটসঅ্যাপের ফিচার যুক্ত করলে—যেমন হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস ফেসবুকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে—কিছু তথ্য উভয় সেবার মধ্যে আদান-প্রদান হতে পারে।

নিজস্ব তথ্যের সুরক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ সুবিধা রয়েছে, যার সাহায্যে সেটিংস পর্যালোচনা ও পরিবর্তন করা যায়। সেটিংসের প্রাইভেসি বিভাগে গিয়ে প্রোফাইল ছবি কিংবা ‘লাস্ট সিন’ বা সর্বশেষ সক্রিয় থাকার সময় কারা দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণের বিকল্প মেলে। সেখানে ‘সবাই’, ‘সংরক্ষিত পরিচিতি’, ‘নির্দিষ্ট কিছু পরিচিতি’ অথবা ‘কেউ নন’—পছন্দমাফিক অপশন বেছে নেওয়া যায়। পাশাপাশি কে গ্রুপে যোগ করতে পারবে তা নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেসেজ মুছে যাওয়া, বিশেষ আলাপের গোপনীয়তায় ‘চ্যাট লক’ এবং সম্পূর্ণ অ্যাপ সুরক্ষায় ‘অ্যাপ লক’ ব্যবহারের সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।

মুঠোফোন পরিবর্তন বা হারিয়ে যাওয়ার পর পুরোনো বার্তা ফিরে পেতে চ্যাট ব্যাকআপ খুবই সহায়ক। গুগল অ্যাকাউন্ট অথবা আইক্লাউডে সংরক্ষিত এই ব্যাকআপকে নিরাপদ রাখতে আলাদাভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সক্রিয় করার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড কিংবা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি (key) ব্যবহার করে ব্যাকআপ সুরক্ষিত রাখা হয়। তবে কোনো কারণে এই কোড বা পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে সংরক্ষিত আলাপ উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, কারণ হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও তা ফিরিয়ে দিতে পারে না। তাই ব্যক্তিগত তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখতে ব্যাকআপের সুরক্ষাসহ সার্বিক প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত তদারকি করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে।