খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ইনানীর রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: পর্যটন খাতে তদারকিহীনতার চড়া মাশুল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইনানীর রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: পর্যটন খাতে তদারকিহীনতার চড়া মাশুল

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্ট অগ্নিকাণ্ডের পর স্বজনদের খুঁজছেন এক পর্যটক। আজ সকালে

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে শুষ্ক মৌসুম শুরু হতে না হতেই ফের অগ্নিকাণ্ডের ভয়াল রূপ দেখল দেশ। কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর মেরিন ড্রাইভ–সংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত ‘টুপ টুপ’ নামের একটি রিসোর্টে আগুনে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে একই পরিবারের সদস্য ছিলেন ছয়জন। সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ শেষে যাঁদের অনেকের ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি ছিল, তাঁদের সেই আনন্দযাত্রা রূপ নিয়েছে বিষাদময় মৃত্যুতে। নিত্যদিনের সড়ক দুর্ঘটনা বা সাগরে ডোবার মতো ঘটনা ছাড়াও দেশের বাইরে ভূমধ্যসাগরে সলিলসমাধি, ইউক্রেনের যুদ্ধে ড্রোন হামলা, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কিংবা গত আগস্টে কলকাতার হোটেলে আগুনে পুড়ে ৯ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তালিকায় এবার যুক্ত হলো ইনানীর এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি।

কক্সবাজারের পর্যটন ইতিহাসে বিরল এই বিপর্যয় পর্যটন খাতের নিরাপত্তাহীনতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, খালের ওপর গড়ে ওঠা এবং অতীতে নেতিবাচক পর্যালোচনায় থাকা এই স্থাপনাটি মূলত পাঁচ-ছয় বছর আগের বেগুনবাড়ির বস্তিসদৃশ কাঠের ঘর থেকে লাল টিন, ছন আর অ্যাঙ্গেল জুড়ে দিয়ে ‘রেট্রোফিটিং’ বা এস্থেটিক রূপ ধারণ করেছিল। নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কাঠের তৈরি মেঝে, দেয়াল ও সিঁড়ি দিয়ে থাকার কক্ষ করা হয়েছিল। ফলে নিচে আগুন লাগার পর একমাত্র যাতায়াতপথটি কাঠের সিঁড়িসহ পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং বিকল্প কোনো নির্গমনপথ না থাকায় অতিথিরা ওপরেই আটকা পড়েন। এমনকি শৌচাগারে আশ্রয় নিয়েও শেষরক্ষা হয়নি অনেকের; সেখান থেকেই তাঁদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

এই সংকট শুধু কক্সবাজারেই সীমাবদ্ধ নয়; কাপ্তাই হ্রদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনার সুন্দরবন কিংবা টাঙ্গুয়ার হাওরের হাউসবোটগুলোতেও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠছে। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পাহাড়ের অধিকাংশ রিসোর্টই জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, পরিবেশ অধিদপ্তর বা ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে। অথচ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৩.০২ শতাংশ অবদান রাখা ৮০ থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল শিল্প অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। যেখানে সদিচ্ছাসম্পন্ন উদ্যোক্তারা নিয়মমাফিক কাজ করতে গিয়ে টেবিলে টেবিলে ভোগান্তির শিকার হন, সেখানে অনুমোদন ছাড়াই বহু অবৈধ প্রতিষ্ঠান রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পুরোনো সেই দায়সারা বয়ানই প্রকাশ্যে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, গত জুনেই রিসোর্টটি পরিদর্শন করে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, যা তোয়াক্কা না করেই রিসোর্টটি সচল রাখা হয়। সংস্থার চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, সমুদ্রের তীব্র বাতাসের মধ্যে কাঠের কাঠামোয় আগুন দ্রুত ছড়ালেও সেখানে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার, অ্যালার্ম, হোসপাইপ বা ফায়ার সেফটি প্ল্যান কিছুই ছিল না; এমনকি তাদের ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, অনুমতিহীনভাবে কার্যক্রম চালানোয় গত এপ্রিলে নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটিকে।

তবে পরিবেশ আইনে কেবল নোটিশ ও জরিমানা করার সুযোগ থাকলেও উচ্ছেদ কিংবা সিলগালা করার একমাত্র আইনি এখতিয়ার রয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নকশা কিংবা বাধ্যতামূলক বর্জ্য শোধনাগার—কোনোটিই এই রিসোর্টের ছিল না। তদারকি সংস্থাগুলোর মতে, এসব ক্ষেত্রে প্রায়শই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মুখোমুখি হতে হয়, বিশেষ করে যখন পেশাদারির বদলে রাজনৈতিক বিবেচনায় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পদে নিয়োগ হয়। ১০টি তরতাজা প্রাণ হারানোর পর দায় এড়াতে হাল আমলের ‘ভিকটিম ব্লেমিং’য়ের সুরে হয়তো বলা হতে পারে পর্যটকেরা কেন সেখানে গেলেন, কিন্তু তদারকির চরম অবহেলা ও লোভের ফাঁদ বন্ধ না হলে পর্যটকদের এমন আত্মাহুতি কোনোদিনই থামবে না। (লেখক: রাফসান গালিব, সম্পাদকীয় সহকারী, প্রথম আলো; ই-মেইল: galibrafsan1990@gmail.com; মতামত লেখকের নিজস্ব।)

advertisement
advertisement

আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ১৭ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করে ওয়ানডে বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করেছেন আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান। তার রেটিং পয়েন্ট ৭১৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪২-এ। বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের আবরার আহমেদের চেয়ে তিনি ৮০ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। শুধু বোলিং নয়, একদিনের ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও দুই ধাপ উন্নতি করে ষষ্ঠ স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন এই আফগান তারকা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও বিশ্বের এক নম্বর বোলার হিসেবে থাকা রশিদের মুখোমুখি হয়েই আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল।

এদিকে আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামার পূর্বে সুখবর এসেছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ থেকেও। আইসিসির হালনাগাদ করা ওয়ানডে বোলিং তালিকায় দুই ধাপ উন্নতি ঘটিয়ে ১১ নম্বরে উঠে এসেছেন বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম। অন্যদিকে এক লাফে ৯ ধাপ এগিয়ে ১২তম স্থান দখল করেছেন তাসকিন আহমেদ। এটিই এই দুই টাইগার বোলারের ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থান।

ব্যাটসম্যানদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে আফগানিস্তানের উদীয়মান ব্যাটার সেদিকউল্লাহ আতালের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত পরশু ১১০ বলে খেলা ১০২ রানের ইনিংসটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর সুবাদে র‍্যাঙ্কিংয়ের ৩২তম অবস্থান থেকে এক লাফে ২০ নম্বরে পৌঁছে গেছেন তিনি। এ ছাড়া রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচের পর পাকিস্তানের সালমান আগা এক ধাপ এগিয়ে ১২ নম্বরে এবং ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট দুই ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বরে জায়গা পেয়েছেন।

ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রভাব পড়েছে কুড়ি ওভারের র‍্যাঙ্কিংয়েও। সেখানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা। টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলনেতা শাই হোপ। পাশাপাশি তাঁর সতীর্থ শেরফান রাদারফোর্ড ছয় ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ১৮ নম্বরে।

সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

গ্রেভিলিয়ার ফুল ও ফল

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের এক সকালে ঢাকার সাভারের বরিশাল নার্সারিতে দেখা মেলে এক ব্যতিক্রমী ফুলের, যাতে প্রচলিত কোনো পাপড়ির অস্তিত্ব নেই। মাকড়সার পায়ের বিন্যাসের মতো সাজানো পুষ্পমঞ্জরি দেখে নার্সারির ব্যবস্থাপক এটিকে ‘বোতলব্রাশ’ বলে উল্লেখ করলেও চেনা বোতলব্রাশের সঙ্গে এর মিল ছিল না। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, এটি প্রোটিয়েসি গোত্রের অন্তর্গত ‘গ্রেভিলিয়া’ গণের উদ্ভিদ। উল্লেখ্য, এই গোত্রে প্রায় ৮০টি গণ এবং ২ হাজার প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত। প্রোটিয়েসি গোত্রের উদ্ভিদে স্বতন্ত্র কোনো বৃতি বা পাপড়ি থাকে না; বরং টেপাল নামের চারটি পাপড়িসদৃশ অংশের একটিমাত্র চক্র গঠিত হয়।

বরিশাল নার্সারির মালিক মো. ইব্রাহিমের ভাষ্যমতে, থাইল্যান্ড থেকে আনা স্বল্প কিছু চারা মাতৃগাছ হিসেবে সেখানে বড় করা হচ্ছে। অদ্ভুত গড়নের কারণে আকৃষ্ট হয়ে তিনি গ্রেভিলিয়ার একাধিক জাত সংগ্রহ করেন, যেগুলোতে প্রায় সারা বছরই ফুল ফুটতে দেখা যায়। মূলত গ্রেভিলিয়া গণে ৩৮০টি প্রজাতি রয়েছে, যেগুলো পরিচিত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’ নামে। আঠারো শতকের বিশিষ্ট উদ্ভিদবিদ এবং রয়্যাল হর্টিকালচার সোসাইটির সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লস ফ্রান্সিস গ্রেভিলির নামানুসারে এই গণের নামকরণ করা হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে সাভারের গাছটির পুষ্পমঞ্জরি ‘Grevillea acanthifolia’ প্রজাতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যার তিনটি উপপ্রজাতি বিদ্যমান এবং পাতার গঠনে সেগুলোর ভিন্নতা স্পষ্ট।

ইংরেজিতে ‘অ্যাকান্থাস-লিভড গ্রেভিলিয়া’ নামে পরিচিত বহুবর্ষজীবী এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের বাংলা কোনো নাম পাওয়া যায়নি। ১৮১৭ সালে পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অভিযানকালে ইংরেজ উদ্ভিদবিজ্ঞানী অ্যালান কানিংহাম (১৭৯১-১৮৩৯) নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্লু মাউন্টেনস অঞ্চলের পিটযুক্ত জলাভূমি ও কক্স নদীর তীরে এর সন্ধান পান। পরবর্তীতে ব্যারন ফিল্ড সম্পাদিত ‘জিওগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার্স অন নিউ সাউথ ওয়েলস’ (১৮২৫) গ্রন্থে তিনি এর প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করেন। নার্সারিতে দেখা যায়, সোয়া মিটারের মতো দীর্ঘ দুটি গাছের কাণ্ড সোজা হলেও ডালপালা এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। উজ্জ্বল সবুজ, শক্ত ও কাঁটাযুক্ত পাতার ফলক ৯ থেকে ১৪টি খণ্ডে গভীরভাবে বিভক্ত। প্রতিটি পাতা ৪ থেকে ৯ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ও ৩ থেকে ৭ সেন্টিমিটার চওড়া; উপখণ্ডের অগ্রভাগ সূচালো ও রৈখিক, কীলকাকার বা ত্রিভুজাকৃতির।

গোলাপি থেকে বেগুনি রঙের ফুলগুলো একপাশে বিন্যস্ত হয়ে টুথব্রাশের মতো রূপ নেয়, যার মঞ্জরির দৈর্ঘ্য ৩ থেকে ১০ সেন্টিমিটার। এর ক্ষুদ্র বৃত্যংশ বা পাপড়ি হালকা সবুজ থেকে ধূসর রঙের, যা বাইরে রোমশ এবং ভেতরে মসৃণ। লাল রঙের দীর্ঘ গর্ভদণ্ডের শীর্ষে থাকে সবুজ পরাগ ধারণকারী অংশ। মূলত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে বেশি ফুটলেও সারা বছরই ফুল ফোটে এবং ফুল ঝরে যাওয়ার পর তৈরি হয় লালচে দাগযুক্ত রোমশ ফল বা ফলিকল। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের জলাভূমি ও উঁচু স্থানের এই স্থানীয় উদ্ভিদটি বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে বাগানের শোভাবর্ধক হিসেবে রোপণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সরকারিভাবে এর নথিভুক্ত তথ্য না থাকলেও পূর্বে ‘সিলভার ওক’ (Grevillea robusta)-এর উপস্থিতির তথ্য রয়েছে এবং সাম্প্রতিককালে এই প্রজাতির বিস্তারও ঘটছে।

হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা: কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা?

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা: কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা?

হোয়াটসঅ্যাপ কি তথ্য সংগ্রহ করে?

মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান ও ভয়েস-ভিডিও কলে ব্যবহৃত হয় ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ প্রযুক্তি। এই বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থার ফলে প্রেরক ও প্রাপক ব্যতীত তৃতীয় কোনো পক্ষ, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ বা মূল প্রতিষ্ঠান মেটাও যোগাযোগের মূল বিষয়বস্তু জানতে পারে না। তবুও প্ল্যাটফর্মটি বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের কিছু ব্যক্তিগত ও কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। তাছাড়া মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনেও নির্দিষ্ট কিছু ডেটা আদান-প্রদান করা হয়। তবে ডেটা সংগ্রহ বা শেয়ার করার অর্থ এই নয় যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করছে।

অ্যাপ সচল রাখা ও সার্বিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপ মূলত তিনটি মাধ্যম থেকে তথ্য পায়। প্রথমত, ব্যবহারকারী নিজে যখন অ্যাকাউন্ট খোলেন, তখন ফোন নম্বর ও নামের মতো তথ্য প্রদান করেন। দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে অ্যাপটি ব্যবহারের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশ কিছু কারিগরি উপাত্ত সংগৃহীত হয়। তৃতীয়ত, অন্যান্য ব্যবহারকারীর মাধ্যমেও তথ্য আসে; যেমন পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কারও মুঠোফোনের কন্ট্যাক্ট তালিকায় আপনার নম্বর সেভ থাকলে তা পৌঁছায়। তবে এসব উপাত্ত জমা হলেও এনক্রিপশন প্রযুক্তির কারণে ব্যক্তিগত টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও কিংবা সংযুক্ত নথির ভেতরের অংশে কারো প্রবেশাধিকার থাকে না। মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সাথে হোয়াটসঅ্যাপের ফিচার যুক্ত করলে—যেমন হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস ফেসবুকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে—কিছু তথ্য উভয় সেবার মধ্যে আদান-প্রদান হতে পারে।

নিজস্ব তথ্যের সুরক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ সুবিধা রয়েছে, যার সাহায্যে সেটিংস পর্যালোচনা ও পরিবর্তন করা যায়। সেটিংসের প্রাইভেসি বিভাগে গিয়ে প্রোফাইল ছবি কিংবা ‘লাস্ট সিন’ বা সর্বশেষ সক্রিয় থাকার সময় কারা দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণের বিকল্প মেলে। সেখানে ‘সবাই’, ‘সংরক্ষিত পরিচিতি’, ‘নির্দিষ্ট কিছু পরিচিতি’ অথবা ‘কেউ নন’—পছন্দমাফিক অপশন বেছে নেওয়া যায়। পাশাপাশি কে গ্রুপে যোগ করতে পারবে তা নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেসেজ মুছে যাওয়া, বিশেষ আলাপের গোপনীয়তায় ‘চ্যাট লক’ এবং সম্পূর্ণ অ্যাপ সুরক্ষায় ‘অ্যাপ লক’ ব্যবহারের সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।

মুঠোফোন পরিবর্তন বা হারিয়ে যাওয়ার পর পুরোনো বার্তা ফিরে পেতে চ্যাট ব্যাকআপ খুবই সহায়ক। গুগল অ্যাকাউন্ট অথবা আইক্লাউডে সংরক্ষিত এই ব্যাকআপকে নিরাপদ রাখতে আলাদাভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সক্রিয় করার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড কিংবা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি (key) ব্যবহার করে ব্যাকআপ সুরক্ষিত রাখা হয়। তবে কোনো কারণে এই কোড বা পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে সংরক্ষিত আলাপ উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, কারণ হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও তা ফিরিয়ে দিতে পারে না। তাই ব্যক্তিগত তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখতে ব্যাকআপের সুরক্ষাসহ সার্বিক প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত তদারকি করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে।