খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

শুকিয়ে যাচ্ছে চলনবিল: ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চ সম্ভাবনা কেবল ১ শতাংশ এলাকায়, গবেষণায় অশনিসংকেত

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শুকিয়ে যাচ্ছে চলনবিল: ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চ সম্ভাবনা কেবল ১ শতাংশ এলাকায়, গবেষণায় অশনিসংকেত

শরৎকালে চলনবিলের প্রকৃতি। পাবনার চাটমোহরে

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নের বড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ লিটনের স্মৃতিতে শৈশবের চলনবিল ছিল এক অথৈ সমুদ্রের মতো। আগে আশ্বিন গড়িয়ে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত সেখানে থইথই পানি থাকলেও এখন এই সময়েই চারপাশ পানিশূন্য রূপ নেয়। কমে গেছে মাছের দেখাও। দেশের অন্যতম এই বৃহৎ জলাভূমির বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চলনবিলের ভূগর্ভস্থ পানির আধার মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং এর মাত্র ১ শতাংশ অঞ্চলে পানির সম্ভাবনা ‘খুব বেশি’।

চলতি মাসে ‘ডিসকভার জিওসায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের গবেষকেরা। রাজশাহী বিভাগের নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার ৫ হাজার ৯৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গবেষণাটি সম্পন্ন হয়। এর আওতায় নাটোরের সিংড়া ও গুরুদাসপুর, পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, চলনবিলের মাত্র ৬৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সঞ্চয় খুব ভালো। বিপরীতে ৩ হাজার ৯৩৩ বর্গকিলোমিটার বা ৭৭ শতাংশ এলাকায় সম্ভাবনা মাঝারি এবং ১ হাজার ৯৯ বর্গকিলোমিটার বা ২২ শতাংশ এলাকায় সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

গবেষকেরা ১৯৯০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উপাত্ত, স্যাটেলাইট চিত্র ও জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৃষ্টিপাত, মাটির ধরন, ভূগর্ভস্থ পানির গভীরতা ও উদ্ভিদের পরিবর্তনসহ ১৭টি উপাদান বিশ্লেষণ করেন। এতে তথ্য সংগ্রহ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা, ল্যান্ডস্যাট-৮ স্যাটেলাইট, ক্লাইমেট রিসার্চ ইউনিট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে। গবেষণা দলের সদস্য ওয়াহিদুল আলম জানান, উচ্চ সম্ভাবনাময় অংশে বর্ষায় সর্বনিম্ন ৮ মিটার ও শুকনায় ২০ মিটারে পানি মিললেও কম সম্ভাবনার স্থানে শুকনো মৌসুমে পানি পেতে ৪০ মিটার পর্যন্ত গভীরে যেতে হয়। এলাকার ৪৪ শতাংশ অংশ কাদামাটি হওয়ায় মাটির নিচে পানি প্রবেশে স্বাভাবিকভাবেই বাধা তৈরি হয়।

গবেষণার প্রধান অধ্যাপক চৌধুরী সারোয়ার জাহানের মতে, পদ্মা ও যমুনার প্রবাহ কমে যাওয়া এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজে অতিরিক্ত পানি তোলার কারণে চলনবিলের ভূগর্ভস্থ জলস্তর বিপজ্জনকভাবে নেমে যাচ্ছে, যা পরিবেশ বিপর্যয়ের স্পষ্ট লক্ষণ। ১৯৮৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সেচের আওতাভুক্ত জমি ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭৫ হেক্টর থেকে বেড়ে ২৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪২৮ হেক্টরে পৌঁছেছে। এছাড়া নাটোরে বিএডিসির তথ্যানুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমে বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র যেখানে ছিল ৩৬ হাজার ৫০৫টি, ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৪৪ হাজার ২২৯টি। বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেনও স্বীকার করেছেন যে, সেচযন্ত্রের বৃদ্ধি পানির স্তরে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

একই সাথে অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সময়কালে এ অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ছিল ১ হাজার ৫৯৫ মিলিমিটার, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭০ মিলিমিটারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মতিন উদ্দিন খান উল্লেখ করেন, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া ও ভূগর্ভস্থ পানির যথেচ্ছ ব্যবহারই সংকটের মূল কারণ। বিদ্যমান সংকট নিরসনে তিনি চলনবিল অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির বদলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির তাগিদ দেন।

advertisement
advertisement

শুক্রবার সন্ধ্যার আলোচিত পাঁচ খবর: পাঠ্যবই বিতর্ক থেকে বিনোদনের গুঞ্জন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শুক্রবার সন্ধ্যার আলোচিত পাঁচ খবর: পাঠ্যবই বিতর্ক থেকে বিনোদনের গুঞ্জন

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি

শুক্রবার দিনভর রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, অপরাধ, ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের নানা ঘটনা সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে। পাঠকদের সুবিধার্থে সন্ধ্যার অবসরে দিনের উল্লেখযোগ্য পাঁচটি খবরের সংক্ষেপ তুলে ধরা হলো।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মস্তিষ্কের বদলে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রতীকটি সংশোধনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মোসলেম আহম্মদ (৩০) নামের এক শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। গত বুধবারের এই ঘটনায় ‘কিসের চুমু রে’ বলে শিক্ষককে চড় মারার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থানায় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ফোন নজরদারি এবং গোপন লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা পদে থাকাকালে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থে পরিচালিত একটি বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কুশনারের গোপনে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, আমিরাতের শাসক এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্যও উঠে এসেছে।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪০০ রানের মানদণ্ডে বাংলাদেশের সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুমে উপস্থিত গ্যারি কারস্টেন ১৯৯৬ বিশ্বকাপের কথা মনে করিয়ে দেন, যেখানে তিনি আমিরাতের বিপক্ষে অপরাজিত ১৮৮ রান করেছিলেন এবং শ্রীলঙ্কা কেনিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৩৯৮ তুলে চারশর কাছাকাছি পৌঁছানোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।

বিনোদন পাড়ায় ভিকি জাহেদের চলচ্চিত্রে আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরীর বড় পর্দায় জুটি বাঁধার গুঞ্জন আবারও জোরালো হয়েছে। ৫ অক্টোবর প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল এ দুই তারকাকে নিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেন, যাতে ৫ হাজার ৮০০টি প্রতিক্রিয়া ও ৪২৮টি মন্তব্য পড়ে। বছরখানেক ধরে আলোচনা চলছে যে শাকিলের প্রযোজনায় ভিকির সিনেমাতেই প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রে জুটি বাঁধবেন তাঁরা।

আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ১৭ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করে ওয়ানডে বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করেছেন আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান। তার রেটিং পয়েন্ট ৭১৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪২-এ। বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের আবরার আহমেদের চেয়ে তিনি ৮০ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। শুধু বোলিং নয়, একদিনের ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও দুই ধাপ উন্নতি করে ষষ্ঠ স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন এই আফগান তারকা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও বিশ্বের এক নম্বর বোলার হিসেবে থাকা রশিদের মুখোমুখি হয়েই আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল।

এদিকে আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামার পূর্বে সুখবর এসেছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ থেকেও। আইসিসির হালনাগাদ করা ওয়ানডে বোলিং তালিকায় দুই ধাপ উন্নতি ঘটিয়ে ১১ নম্বরে উঠে এসেছেন বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম। অন্যদিকে এক লাফে ৯ ধাপ এগিয়ে ১২তম স্থান দখল করেছেন তাসকিন আহমেদ। এটিই এই দুই টাইগার বোলারের ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থান।

ব্যাটসম্যানদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে আফগানিস্তানের উদীয়মান ব্যাটার সেদিকউল্লাহ আতালের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত পরশু ১১০ বলে খেলা ১০২ রানের ইনিংসটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর সুবাদে র‍্যাঙ্কিংয়ের ৩২তম অবস্থান থেকে এক লাফে ২০ নম্বরে পৌঁছে গেছেন তিনি। এ ছাড়া রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচের পর পাকিস্তানের সালমান আগা এক ধাপ এগিয়ে ১২ নম্বরে এবং ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট দুই ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বরে জায়গা পেয়েছেন।

ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রভাব পড়েছে কুড়ি ওভারের র‍্যাঙ্কিংয়েও। সেখানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা। টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলনেতা শাই হোপ। পাশাপাশি তাঁর সতীর্থ শেরফান রাদারফোর্ড ছয় ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ১৮ নম্বরে।

সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

গ্রেভিলিয়ার ফুল ও ফল

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের এক সকালে ঢাকার সাভারের বরিশাল নার্সারিতে দেখা মেলে এক ব্যতিক্রমী ফুলের, যাতে প্রচলিত কোনো পাপড়ির অস্তিত্ব নেই। মাকড়সার পায়ের বিন্যাসের মতো সাজানো পুষ্পমঞ্জরি দেখে নার্সারির ব্যবস্থাপক এটিকে ‘বোতলব্রাশ’ বলে উল্লেখ করলেও চেনা বোতলব্রাশের সঙ্গে এর মিল ছিল না। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, এটি প্রোটিয়েসি গোত্রের অন্তর্গত ‘গ্রেভিলিয়া’ গণের উদ্ভিদ। উল্লেখ্য, এই গোত্রে প্রায় ৮০টি গণ এবং ২ হাজার প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত। প্রোটিয়েসি গোত্রের উদ্ভিদে স্বতন্ত্র কোনো বৃতি বা পাপড়ি থাকে না; বরং টেপাল নামের চারটি পাপড়িসদৃশ অংশের একটিমাত্র চক্র গঠিত হয়।

বরিশাল নার্সারির মালিক মো. ইব্রাহিমের ভাষ্যমতে, থাইল্যান্ড থেকে আনা স্বল্প কিছু চারা মাতৃগাছ হিসেবে সেখানে বড় করা হচ্ছে। অদ্ভুত গড়নের কারণে আকৃষ্ট হয়ে তিনি গ্রেভিলিয়ার একাধিক জাত সংগ্রহ করেন, যেগুলোতে প্রায় সারা বছরই ফুল ফুটতে দেখা যায়। মূলত গ্রেভিলিয়া গণে ৩৮০টি প্রজাতি রয়েছে, যেগুলো পরিচিত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’ নামে। আঠারো শতকের বিশিষ্ট উদ্ভিদবিদ এবং রয়্যাল হর্টিকালচার সোসাইটির সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লস ফ্রান্সিস গ্রেভিলির নামানুসারে এই গণের নামকরণ করা হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে সাভারের গাছটির পুষ্পমঞ্জরি ‘Grevillea acanthifolia’ প্রজাতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যার তিনটি উপপ্রজাতি বিদ্যমান এবং পাতার গঠনে সেগুলোর ভিন্নতা স্পষ্ট।

ইংরেজিতে ‘অ্যাকান্থাস-লিভড গ্রেভিলিয়া’ নামে পরিচিত বহুবর্ষজীবী এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের বাংলা কোনো নাম পাওয়া যায়নি। ১৮১৭ সালে পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অভিযানকালে ইংরেজ উদ্ভিদবিজ্ঞানী অ্যালান কানিংহাম (১৭৯১-১৮৩৯) নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্লু মাউন্টেনস অঞ্চলের পিটযুক্ত জলাভূমি ও কক্স নদীর তীরে এর সন্ধান পান। পরবর্তীতে ব্যারন ফিল্ড সম্পাদিত ‘জিওগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার্স অন নিউ সাউথ ওয়েলস’ (১৮২৫) গ্রন্থে তিনি এর প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করেন। নার্সারিতে দেখা যায়, সোয়া মিটারের মতো দীর্ঘ দুটি গাছের কাণ্ড সোজা হলেও ডালপালা এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। উজ্জ্বল সবুজ, শক্ত ও কাঁটাযুক্ত পাতার ফলক ৯ থেকে ১৪টি খণ্ডে গভীরভাবে বিভক্ত। প্রতিটি পাতা ৪ থেকে ৯ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ও ৩ থেকে ৭ সেন্টিমিটার চওড়া; উপখণ্ডের অগ্রভাগ সূচালো ও রৈখিক, কীলকাকার বা ত্রিভুজাকৃতির।

গোলাপি থেকে বেগুনি রঙের ফুলগুলো একপাশে বিন্যস্ত হয়ে টুথব্রাশের মতো রূপ নেয়, যার মঞ্জরির দৈর্ঘ্য ৩ থেকে ১০ সেন্টিমিটার। এর ক্ষুদ্র বৃত্যংশ বা পাপড়ি হালকা সবুজ থেকে ধূসর রঙের, যা বাইরে রোমশ এবং ভেতরে মসৃণ। লাল রঙের দীর্ঘ গর্ভদণ্ডের শীর্ষে থাকে সবুজ পরাগ ধারণকারী অংশ। মূলত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে বেশি ফুটলেও সারা বছরই ফুল ফোটে এবং ফুল ঝরে যাওয়ার পর তৈরি হয় লালচে দাগযুক্ত রোমশ ফল বা ফলিকল। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের জলাভূমি ও উঁচু স্থানের এই স্থানীয় উদ্ভিদটি বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে বাগানের শোভাবর্ধক হিসেবে রোপণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সরকারিভাবে এর নথিভুক্ত তথ্য না থাকলেও পূর্বে ‘সিলভার ওক’ (Grevillea robusta)-এর উপস্থিতির তথ্য রয়েছে এবং সাম্প্রতিককালে এই প্রজাতির বিস্তারও ঘটছে।