খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

চাঁদাবাজি দমনে কঠোর আইনের উদ্যোগ সরকারের, পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিবরণ সংসদীয় কমিটিতে

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চাঁদাবাজি দমনে কঠোর আইনের উদ্যোগ সরকারের, পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিবরণ সংসদীয় কমিটিতে

চাঁদাবাজি

ভয়ের কারণে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ না করলেও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে যাতে পুলিশ নিজে বাদী হয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে, সে লক্ষ্যে বিদ্যমান ফৌজদারি দণ্ডবিধি সংশোধন অথবা স্বতন্ত্র নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত গত ১৩ আগস্টের কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা যায়। ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ জানান, পেনাল কোডের আইনি দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এবং চাঁদাবাজ ও তাদের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের শনাক্ত করতে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার অডিও ও ভিডিও আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লঘু শাস্তির পরিবর্তে কঠোর সাজা নিশ্চিত করতে আইনি সংস্কারের কথাও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকা পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত বিভাগীয় ব্যবস্থার খতিয়ান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর পলায়নের দায়ে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ৬২ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে; এর মধ্যে ৩১ জনকে গুরুদণ্ড বা চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং বাকি ৩১ জনের বিচারপ্রক্রিয়া চলমান। এছাড়া গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের ১৪৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে এবং ৭৩ জন পুলিশ পরিদর্শককে জনস্বার্থে অবসর দেওয়া হয়েছে। আইসিটি মামলার রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এএসপি ও তদূর্ধ্ব ১৩ কর্মকর্তার মধ্যে ৫ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং ৮ জনের বিভাগীয় মামলা চলছে। ফৌজদারি ও আইসিটি মামলায় ধৃত ২৯ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ডিআইজি পদমর্যাদার দুজনকে দেওয়া হয়েছে বাধ্যতামূলক অবসর।

বৈঠকে পেশকৃত চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসের অপরাধের তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ধর্ষণ, মাদক ও চুরির মামলা বেড়েছে; বিপরীতে কমেছে খুন, ডাকাতি, দস্যুতা, নারী নির্যাতন ও পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে সংসদীয় কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এছাড়া মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এক নারী বিএনপি সংসদ সদস্যের পদত্যাগের তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এতে অংশ নেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ এবং সদস্য মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম ও মো. আব্দুল বাতেন। এদিকে পূর্বের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির উল্লেখ করেন, মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং হলের শিক্ষার্থীদের রাত জেগে পড়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইয়াবায় আসক্ত করা হচ্ছে, যা রোধে সচেতনতামূলক উদ্যোগ জরুরি।

advertisement
advertisement

আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ১৭ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করে ওয়ানডে বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করেছেন আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান। তার রেটিং পয়েন্ট ৭১৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪২-এ। বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের আবরার আহমেদের চেয়ে তিনি ৮০ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। শুধু বোলিং নয়, একদিনের ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও দুই ধাপ উন্নতি করে ষষ্ঠ স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন এই আফগান তারকা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও বিশ্বের এক নম্বর বোলার হিসেবে থাকা রশিদের মুখোমুখি হয়েই আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল।

এদিকে আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামার পূর্বে সুখবর এসেছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ থেকেও। আইসিসির হালনাগাদ করা ওয়ানডে বোলিং তালিকায় দুই ধাপ উন্নতি ঘটিয়ে ১১ নম্বরে উঠে এসেছেন বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম। অন্যদিকে এক লাফে ৯ ধাপ এগিয়ে ১২তম স্থান দখল করেছেন তাসকিন আহমেদ। এটিই এই দুই টাইগার বোলারের ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থান।

ব্যাটসম্যানদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে আফগানিস্তানের উদীয়মান ব্যাটার সেদিকউল্লাহ আতালের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত পরশু ১১০ বলে খেলা ১০২ রানের ইনিংসটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর সুবাদে র‍্যাঙ্কিংয়ের ৩২তম অবস্থান থেকে এক লাফে ২০ নম্বরে পৌঁছে গেছেন তিনি। এ ছাড়া রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচের পর পাকিস্তানের সালমান আগা এক ধাপ এগিয়ে ১২ নম্বরে এবং ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট দুই ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বরে জায়গা পেয়েছেন।

ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রভাব পড়েছে কুড়ি ওভারের র‍্যাঙ্কিংয়েও। সেখানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা। টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলনেতা শাই হোপ। পাশাপাশি তাঁর সতীর্থ শেরফান রাদারফোর্ড ছয় ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ১৮ নম্বরে।

সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

গ্রেভিলিয়ার ফুল ও ফল

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের এক সকালে ঢাকার সাভারের বরিশাল নার্সারিতে দেখা মেলে এক ব্যতিক্রমী ফুলের, যাতে প্রচলিত কোনো পাপড়ির অস্তিত্ব নেই। মাকড়সার পায়ের বিন্যাসের মতো সাজানো পুষ্পমঞ্জরি দেখে নার্সারির ব্যবস্থাপক এটিকে ‘বোতলব্রাশ’ বলে উল্লেখ করলেও চেনা বোতলব্রাশের সঙ্গে এর মিল ছিল না। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, এটি প্রোটিয়েসি গোত্রের অন্তর্গত ‘গ্রেভিলিয়া’ গণের উদ্ভিদ। উল্লেখ্য, এই গোত্রে প্রায় ৮০টি গণ এবং ২ হাজার প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত। প্রোটিয়েসি গোত্রের উদ্ভিদে স্বতন্ত্র কোনো বৃতি বা পাপড়ি থাকে না; বরং টেপাল নামের চারটি পাপড়িসদৃশ অংশের একটিমাত্র চক্র গঠিত হয়।

বরিশাল নার্সারির মালিক মো. ইব্রাহিমের ভাষ্যমতে, থাইল্যান্ড থেকে আনা স্বল্প কিছু চারা মাতৃগাছ হিসেবে সেখানে বড় করা হচ্ছে। অদ্ভুত গড়নের কারণে আকৃষ্ট হয়ে তিনি গ্রেভিলিয়ার একাধিক জাত সংগ্রহ করেন, যেগুলোতে প্রায় সারা বছরই ফুল ফুটতে দেখা যায়। মূলত গ্রেভিলিয়া গণে ৩৮০টি প্রজাতি রয়েছে, যেগুলো পরিচিত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’ নামে। আঠারো শতকের বিশিষ্ট উদ্ভিদবিদ এবং রয়্যাল হর্টিকালচার সোসাইটির সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লস ফ্রান্সিস গ্রেভিলির নামানুসারে এই গণের নামকরণ করা হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে সাভারের গাছটির পুষ্পমঞ্জরি ‘Grevillea acanthifolia’ প্রজাতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যার তিনটি উপপ্রজাতি বিদ্যমান এবং পাতার গঠনে সেগুলোর ভিন্নতা স্পষ্ট।

ইংরেজিতে ‘অ্যাকান্থাস-লিভড গ্রেভিলিয়া’ নামে পরিচিত বহুবর্ষজীবী এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের বাংলা কোনো নাম পাওয়া যায়নি। ১৮১৭ সালে পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অভিযানকালে ইংরেজ উদ্ভিদবিজ্ঞানী অ্যালান কানিংহাম (১৭৯১-১৮৩৯) নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্লু মাউন্টেনস অঞ্চলের পিটযুক্ত জলাভূমি ও কক্স নদীর তীরে এর সন্ধান পান। পরবর্তীতে ব্যারন ফিল্ড সম্পাদিত ‘জিওগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার্স অন নিউ সাউথ ওয়েলস’ (১৮২৫) গ্রন্থে তিনি এর প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করেন। নার্সারিতে দেখা যায়, সোয়া মিটারের মতো দীর্ঘ দুটি গাছের কাণ্ড সোজা হলেও ডালপালা এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। উজ্জ্বল সবুজ, শক্ত ও কাঁটাযুক্ত পাতার ফলক ৯ থেকে ১৪টি খণ্ডে গভীরভাবে বিভক্ত। প্রতিটি পাতা ৪ থেকে ৯ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ও ৩ থেকে ৭ সেন্টিমিটার চওড়া; উপখণ্ডের অগ্রভাগ সূচালো ও রৈখিক, কীলকাকার বা ত্রিভুজাকৃতির।

গোলাপি থেকে বেগুনি রঙের ফুলগুলো একপাশে বিন্যস্ত হয়ে টুথব্রাশের মতো রূপ নেয়, যার মঞ্জরির দৈর্ঘ্য ৩ থেকে ১০ সেন্টিমিটার। এর ক্ষুদ্র বৃত্যংশ বা পাপড়ি হালকা সবুজ থেকে ধূসর রঙের, যা বাইরে রোমশ এবং ভেতরে মসৃণ। লাল রঙের দীর্ঘ গর্ভদণ্ডের শীর্ষে থাকে সবুজ পরাগ ধারণকারী অংশ। মূলত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে বেশি ফুটলেও সারা বছরই ফুল ফোটে এবং ফুল ঝরে যাওয়ার পর তৈরি হয় লালচে দাগযুক্ত রোমশ ফল বা ফলিকল। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের জলাভূমি ও উঁচু স্থানের এই স্থানীয় উদ্ভিদটি বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে বাগানের শোভাবর্ধক হিসেবে রোপণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সরকারিভাবে এর নথিভুক্ত তথ্য না থাকলেও পূর্বে ‘সিলভার ওক’ (Grevillea robusta)-এর উপস্থিতির তথ্য রয়েছে এবং সাম্প্রতিককালে এই প্রজাতির বিস্তারও ঘটছে।

হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা: কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা?

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা: কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা?

হোয়াটসঅ্যাপ কি তথ্য সংগ্রহ করে?

মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান ও ভয়েস-ভিডিও কলে ব্যবহৃত হয় ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ প্রযুক্তি। এই বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থার ফলে প্রেরক ও প্রাপক ব্যতীত তৃতীয় কোনো পক্ষ, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ বা মূল প্রতিষ্ঠান মেটাও যোগাযোগের মূল বিষয়বস্তু জানতে পারে না। তবুও প্ল্যাটফর্মটি বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের কিছু ব্যক্তিগত ও কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। তাছাড়া মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনেও নির্দিষ্ট কিছু ডেটা আদান-প্রদান করা হয়। তবে ডেটা সংগ্রহ বা শেয়ার করার অর্থ এই নয় যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করছে।

অ্যাপ সচল রাখা ও সার্বিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপ মূলত তিনটি মাধ্যম থেকে তথ্য পায়। প্রথমত, ব্যবহারকারী নিজে যখন অ্যাকাউন্ট খোলেন, তখন ফোন নম্বর ও নামের মতো তথ্য প্রদান করেন। দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে অ্যাপটি ব্যবহারের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশ কিছু কারিগরি উপাত্ত সংগৃহীত হয়। তৃতীয়ত, অন্যান্য ব্যবহারকারীর মাধ্যমেও তথ্য আসে; যেমন পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কারও মুঠোফোনের কন্ট্যাক্ট তালিকায় আপনার নম্বর সেভ থাকলে তা পৌঁছায়। তবে এসব উপাত্ত জমা হলেও এনক্রিপশন প্রযুক্তির কারণে ব্যক্তিগত টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও কিংবা সংযুক্ত নথির ভেতরের অংশে কারো প্রবেশাধিকার থাকে না। মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সাথে হোয়াটসঅ্যাপের ফিচার যুক্ত করলে—যেমন হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস ফেসবুকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে—কিছু তথ্য উভয় সেবার মধ্যে আদান-প্রদান হতে পারে।

নিজস্ব তথ্যের সুরক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ সুবিধা রয়েছে, যার সাহায্যে সেটিংস পর্যালোচনা ও পরিবর্তন করা যায়। সেটিংসের প্রাইভেসি বিভাগে গিয়ে প্রোফাইল ছবি কিংবা ‘লাস্ট সিন’ বা সর্বশেষ সক্রিয় থাকার সময় কারা দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণের বিকল্প মেলে। সেখানে ‘সবাই’, ‘সংরক্ষিত পরিচিতি’, ‘নির্দিষ্ট কিছু পরিচিতি’ অথবা ‘কেউ নন’—পছন্দমাফিক অপশন বেছে নেওয়া যায়। পাশাপাশি কে গ্রুপে যোগ করতে পারবে তা নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেসেজ মুছে যাওয়া, বিশেষ আলাপের গোপনীয়তায় ‘চ্যাট লক’ এবং সম্পূর্ণ অ্যাপ সুরক্ষায় ‘অ্যাপ লক’ ব্যবহারের সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।

মুঠোফোন পরিবর্তন বা হারিয়ে যাওয়ার পর পুরোনো বার্তা ফিরে পেতে চ্যাট ব্যাকআপ খুবই সহায়ক। গুগল অ্যাকাউন্ট অথবা আইক্লাউডে সংরক্ষিত এই ব্যাকআপকে নিরাপদ রাখতে আলাদাভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সক্রিয় করার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড কিংবা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি (key) ব্যবহার করে ব্যাকআপ সুরক্ষিত রাখা হয়। তবে কোনো কারণে এই কোড বা পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে সংরক্ষিত আলাপ উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, কারণ হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও তা ফিরিয়ে দিতে পারে না। তাই ব্যক্তিগত তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখতে ব্যাকআপের সুরক্ষাসহ সার্বিক প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত তদারকি করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে।