খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

পর্যটনের আড়ালে মাধবকুণ্ডের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও সংকটের চিত্র

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পর্যটনের আড়ালে মাধবকুণ্ডের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও সংকটের চিত্র

চশমাপরা হনুমান

পাহাড়ের বুক চিরে আছড়ে পড়া জলরাশি আর কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে প্রকৃতিবিজ্ঞানীদের চোখে এটি কেবল একটি দর্শনীয় স্থান নয়, বরং বাংলাদেশের পাহাড়ি জীববৈচিত্র্য অনুসন্ধানের একটি অনুপম প্রাকৃতিক গবেষণাগার। এখানকার ঝোপঝাড়, জলপ্রপাতসংলগ্ন মিশ্র চিরহরিৎ বন ও ঝরা পাতার স্তূপ অসংখ্য ছোট ও নিশাচর প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। বৃহত্তর পাথারিয়া পাহাড়ের অন্তর্ভুক্ত এই বনাঞ্চল বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরও নির্বিচার বৃক্ষনিধন, দখলদারি এবং চা-বাগানের বিস্তৃতির ফলে বনটি বহুলাংশে সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে এককালে এখানে বিচরণ করা হাতি, গণ্ডার, বুনো মহিষ, বাঘ, চিতাবাঘ, ভালুক, গৌর ও সাম্বারের মতো বৃহৎ স্তন্যপায়ীরা চিরতরে হারিয়ে গেছে। সংলগ্ন দেশগুলোতে এসব প্রাণী এখনো টিকে থাকলেও মাধবকুণ্ডের খণ্ডিত বনাঞ্চলে এখন ছোট ও কম পরিচিত বন্য প্রাণীদের অস্তিত্বই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিগত এক যুগে এই ইকোপার্কের দৃশ্যপট দ্রুত বদলেছে। ২০১২ সালের আগস্টে যখন প্রথম জরিপ চালানো হয়, তখন পার্কের পথঘাট ছিল কাঁচা কিংবা ইট বিছানো এবং সেখানে বর্তমানের মতো চারতলা বিশ্রামাগার ছিল না; ছিল টিন বা টালির ছাউনিযুক্ত সাধারণ অবকাঠামো ও দোতলা একটি ভবনের অল্প কয়েকটি কক্ষ। খাবারের জন্য আগে থেকে বলে রাখতে হতো এবং দু-একটি দোকানে হস্তশিল্প ও বাগানের ফল বিক্রি হতো। তখন ঘন ও বুনো পরিবেশে নানা প্রজাতির কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ, পাখি ও উভচরের অবাধ বিচরণ দেখা যেত। এমনকি ভারী বৃষ্টিপাতও গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি করত, যার মাধ্যমে বেশ কিছু প্রাণী দেশে প্রথমবার নথিভুক্ত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গত ডিসেম্বরের এক সফরে ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস শীতের রাতে প্রজননের উদ্দেশ্যে পানিতে নামা বুনো বারডমোরের সরু মাথা ব্যাঙের দেখা মিলেছিল। সেখানে দুই থেকে তিন ডজন পুরুষ ব্যাঙকে ডালপালা ও পানির কিনারে ডাকাডাকি এবং কয়েক জোড়াকে ডিম পাড়তে দেখা যায়।

বাংলাদেশের প্রাণিকুলের লাল তালিকা হালনাগাদ করার মাঠপর্যায়ের কাজের অংশ হিসেবে গত ১৫ আগস্ট মাধবকুণ্ডে আরেকটি জরিপ চালানো হয়। এর আগের দিন দলটি হামহাম জলপ্রপাত ও তৎসংলগ্ন বনে অনুসন্ধান শেষ করে ঘুরতি পথে এখানে আসে। বৃষ্টি সত্ত্বেও শত শত পর্যটক তখন ঝরনার পানিতে গোসল ও আনন্দ-উল্লাসে মত্ত ছিলেন। তীব্র কোলাহলের মধ্যেও বন্য প্রাণীর টিকে থাকার লড়াই লক্ষ্য করা যায়। দেখা মেলে চার থেকে ছয়টি অপরিণত চশমাপরা হনুমানের একটি দলের, যদিও সেখানে কোনো পূর্ণবয়স্ক সদস্য ছিল না। এছাড়া একটি কাঠবিড়ালিকে মানুষের ফেলে দেওয়া পেয়ারা খেতে এবং পথের পাশের গাছে একটি নিশাচর লজ্জাবতী বানরকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘুমাতে দেখা যায়। শেষ বিকেলে নজরে আসে ৫ ইঞ্চি বা ১২-১৩ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের অভিনব পাখি বনমালি বা মখমল-কপাল কীটকুড়ানি। নীলচে পিঠ, হালকা সাদাটে পেট, চোখা লাল ঠোঁট ও চোখে হলুদ বলয় থাকা এই পাখি কাঠঠোকরার মতো কাঠে ঠোকর না মেরে ওপর থেকে নিচের দিকে নেমে গাছের বাকল ও ছত্রাকজাতীয় ছোপ থেকে পোকা খুঁজে খায়। পুরুষ পাখির কপালে কালো মখমলের মতো দাগ ঘাড় পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, যা স্ত্রী পাখিতে অনুপস্থিত। তবে মানুষের উপস্থিতির কারণে জলপ্রপাতের পাদদেশে এক ঘণ্টারও বেশি সময় খুঁজে মাত্র একটি চোখা-মাথা পাহাড়ি ব্যাঙের দেখা মেলে।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে পর্যটকদের প্রস্থান ঘটতেই মাধবকুণ্ড ভিন্ন এক রূপ ধারণ করে। ঝরনার প্রবল শব্দের মাঝে চারপাশ যখন শান্ত হয়, তখন প্রায় ১০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ৩০টিরও বেশি চোখা-মাথা পুরুষ পাহাড়ি ব্যাঙের ডাক শোনা যায়, যা দিনের ভিড়ে সম্পূর্ণ অদৃশ্য ছিল। জলপ্রপাতের ধার থেকে ওঠার পথে প্রায় দেড় ফুট দীর্ঘ একটি অতিকায় কাঠিপোকার দেখা মেলে। পরবর্তীতে বিষধর সবুজ বোড়া এবং দ্রুত রাস্তা পার হতে থাকা একটি কালকেউটে সাপের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এছাড়া মাত্র ১০০ মিটারের ব্যবধানে মাঝারি গাছে তিনটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছোট গন্ধগোকুল বা ভাম এবং এক ঘণ্টারও কম সময়ে শিকাররত চারটি লজ্জাবতী বানর প্রত্যক্ষ করেন গবেষকরা। ঝিঁঝি পোকা ও সিকাডার অবিরাম ডাকে মুখরিত এই পরিবেশ প্রমাণ করে যে মাধবকুণ্ডে রাতের বেলা সম্পূর্ণ আলাদা এক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।

গবেষকদের মতে, একটি বন একই সাথে পর্যটন কেন্দ্র ও বন্য প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে, যদি পরিবেশের ধারণক্ষমতা মেনে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিংবা দর্শনার্থীদের সমাগম যেন ঝরনাপারের জলাশয়, ছড়া, ঝোপঝাড় এবং নিশাচর প্রাণীর অন্ধকারের প্রয়োজনকে বিঘ্নিত না করে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। ব্যাঙের জন্য দূষণমুক্ত পানি, সাপের লুকানোর জায়গা, লজ্জাবতী বানরের নিরবচ্ছিন্ন অন্ধকার আর কীটপতঙ্গ ও পাখিদের জন্য খাদ্যগাছ রক্ষা করা আবশ্যক। দৃশ্যমান ঝরনাটির পাশাপাশি তার চারপাশের জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র ও বনভূমিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংরক্ষণ করা না হলে মাধবকুণ্ডের এই সমৃদ্ধ বন্য প্রাণভুবন ভবিষ্যতে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

advertisement
advertisement

আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ১৭ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করে ওয়ানডে বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করেছেন আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান। তার রেটিং পয়েন্ট ৭১৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪২-এ। বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের আবরার আহমেদের চেয়ে তিনি ৮০ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। শুধু বোলিং নয়, একদিনের ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও দুই ধাপ উন্নতি করে ষষ্ঠ স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন এই আফগান তারকা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও বিশ্বের এক নম্বর বোলার হিসেবে থাকা রশিদের মুখোমুখি হয়েই আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল।

এদিকে আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামার পূর্বে সুখবর এসেছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ থেকেও। আইসিসির হালনাগাদ করা ওয়ানডে বোলিং তালিকায় দুই ধাপ উন্নতি ঘটিয়ে ১১ নম্বরে উঠে এসেছেন বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম। অন্যদিকে এক লাফে ৯ ধাপ এগিয়ে ১২তম স্থান দখল করেছেন তাসকিন আহমেদ। এটিই এই দুই টাইগার বোলারের ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থান।

ব্যাটসম্যানদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে আফগানিস্তানের উদীয়মান ব্যাটার সেদিকউল্লাহ আতালের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত পরশু ১১০ বলে খেলা ১০২ রানের ইনিংসটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর সুবাদে র‍্যাঙ্কিংয়ের ৩২তম অবস্থান থেকে এক লাফে ২০ নম্বরে পৌঁছে গেছেন তিনি। এ ছাড়া রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচের পর পাকিস্তানের সালমান আগা এক ধাপ এগিয়ে ১২ নম্বরে এবং ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট দুই ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বরে জায়গা পেয়েছেন।

ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রভাব পড়েছে কুড়ি ওভারের র‍্যাঙ্কিংয়েও। সেখানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা। টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলনেতা শাই হোপ। পাশাপাশি তাঁর সতীর্থ শেরফান রাদারফোর্ড ছয় ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ১৮ নম্বরে।

সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

গ্রেভিলিয়ার ফুল ও ফল

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের এক সকালে ঢাকার সাভারের বরিশাল নার্সারিতে দেখা মেলে এক ব্যতিক্রমী ফুলের, যাতে প্রচলিত কোনো পাপড়ির অস্তিত্ব নেই। মাকড়সার পায়ের বিন্যাসের মতো সাজানো পুষ্পমঞ্জরি দেখে নার্সারির ব্যবস্থাপক এটিকে ‘বোতলব্রাশ’ বলে উল্লেখ করলেও চেনা বোতলব্রাশের সঙ্গে এর মিল ছিল না। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, এটি প্রোটিয়েসি গোত্রের অন্তর্গত ‘গ্রেভিলিয়া’ গণের উদ্ভিদ। উল্লেখ্য, এই গোত্রে প্রায় ৮০টি গণ এবং ২ হাজার প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত। প্রোটিয়েসি গোত্রের উদ্ভিদে স্বতন্ত্র কোনো বৃতি বা পাপড়ি থাকে না; বরং টেপাল নামের চারটি পাপড়িসদৃশ অংশের একটিমাত্র চক্র গঠিত হয়।

বরিশাল নার্সারির মালিক মো. ইব্রাহিমের ভাষ্যমতে, থাইল্যান্ড থেকে আনা স্বল্প কিছু চারা মাতৃগাছ হিসেবে সেখানে বড় করা হচ্ছে। অদ্ভুত গড়নের কারণে আকৃষ্ট হয়ে তিনি গ্রেভিলিয়ার একাধিক জাত সংগ্রহ করেন, যেগুলোতে প্রায় সারা বছরই ফুল ফুটতে দেখা যায়। মূলত গ্রেভিলিয়া গণে ৩৮০টি প্রজাতি রয়েছে, যেগুলো পরিচিত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’ নামে। আঠারো শতকের বিশিষ্ট উদ্ভিদবিদ এবং রয়্যাল হর্টিকালচার সোসাইটির সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লস ফ্রান্সিস গ্রেভিলির নামানুসারে এই গণের নামকরণ করা হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে সাভারের গাছটির পুষ্পমঞ্জরি ‘Grevillea acanthifolia’ প্রজাতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যার তিনটি উপপ্রজাতি বিদ্যমান এবং পাতার গঠনে সেগুলোর ভিন্নতা স্পষ্ট।

ইংরেজিতে ‘অ্যাকান্থাস-লিভড গ্রেভিলিয়া’ নামে পরিচিত বহুবর্ষজীবী এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের বাংলা কোনো নাম পাওয়া যায়নি। ১৮১৭ সালে পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অভিযানকালে ইংরেজ উদ্ভিদবিজ্ঞানী অ্যালান কানিংহাম (১৭৯১-১৮৩৯) নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্লু মাউন্টেনস অঞ্চলের পিটযুক্ত জলাভূমি ও কক্স নদীর তীরে এর সন্ধান পান। পরবর্তীতে ব্যারন ফিল্ড সম্পাদিত ‘জিওগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার্স অন নিউ সাউথ ওয়েলস’ (১৮২৫) গ্রন্থে তিনি এর প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করেন। নার্সারিতে দেখা যায়, সোয়া মিটারের মতো দীর্ঘ দুটি গাছের কাণ্ড সোজা হলেও ডালপালা এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। উজ্জ্বল সবুজ, শক্ত ও কাঁটাযুক্ত পাতার ফলক ৯ থেকে ১৪টি খণ্ডে গভীরভাবে বিভক্ত। প্রতিটি পাতা ৪ থেকে ৯ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ও ৩ থেকে ৭ সেন্টিমিটার চওড়া; উপখণ্ডের অগ্রভাগ সূচালো ও রৈখিক, কীলকাকার বা ত্রিভুজাকৃতির।

গোলাপি থেকে বেগুনি রঙের ফুলগুলো একপাশে বিন্যস্ত হয়ে টুথব্রাশের মতো রূপ নেয়, যার মঞ্জরির দৈর্ঘ্য ৩ থেকে ১০ সেন্টিমিটার। এর ক্ষুদ্র বৃত্যংশ বা পাপড়ি হালকা সবুজ থেকে ধূসর রঙের, যা বাইরে রোমশ এবং ভেতরে মসৃণ। লাল রঙের দীর্ঘ গর্ভদণ্ডের শীর্ষে থাকে সবুজ পরাগ ধারণকারী অংশ। মূলত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে বেশি ফুটলেও সারা বছরই ফুল ফোটে এবং ফুল ঝরে যাওয়ার পর তৈরি হয় লালচে দাগযুক্ত রোমশ ফল বা ফলিকল। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের জলাভূমি ও উঁচু স্থানের এই স্থানীয় উদ্ভিদটি বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে বাগানের শোভাবর্ধক হিসেবে রোপণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সরকারিভাবে এর নথিভুক্ত তথ্য না থাকলেও পূর্বে ‘সিলভার ওক’ (Grevillea robusta)-এর উপস্থিতির তথ্য রয়েছে এবং সাম্প্রতিককালে এই প্রজাতির বিস্তারও ঘটছে।

হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা: কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা?

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা: কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা?

হোয়াটসঅ্যাপ কি তথ্য সংগ্রহ করে?

মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান ও ভয়েস-ভিডিও কলে ব্যবহৃত হয় ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ প্রযুক্তি। এই বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থার ফলে প্রেরক ও প্রাপক ব্যতীত তৃতীয় কোনো পক্ষ, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ বা মূল প্রতিষ্ঠান মেটাও যোগাযোগের মূল বিষয়বস্তু জানতে পারে না। তবুও প্ল্যাটফর্মটি বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের কিছু ব্যক্তিগত ও কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। তাছাড়া মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনেও নির্দিষ্ট কিছু ডেটা আদান-প্রদান করা হয়। তবে ডেটা সংগ্রহ বা শেয়ার করার অর্থ এই নয় যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করছে।

অ্যাপ সচল রাখা ও সার্বিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপ মূলত তিনটি মাধ্যম থেকে তথ্য পায়। প্রথমত, ব্যবহারকারী নিজে যখন অ্যাকাউন্ট খোলেন, তখন ফোন নম্বর ও নামের মতো তথ্য প্রদান করেন। দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে অ্যাপটি ব্যবহারের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশ কিছু কারিগরি উপাত্ত সংগৃহীত হয়। তৃতীয়ত, অন্যান্য ব্যবহারকারীর মাধ্যমেও তথ্য আসে; যেমন পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কারও মুঠোফোনের কন্ট্যাক্ট তালিকায় আপনার নম্বর সেভ থাকলে তা পৌঁছায়। তবে এসব উপাত্ত জমা হলেও এনক্রিপশন প্রযুক্তির কারণে ব্যক্তিগত টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও কিংবা সংযুক্ত নথির ভেতরের অংশে কারো প্রবেশাধিকার থাকে না। মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সাথে হোয়াটসঅ্যাপের ফিচার যুক্ত করলে—যেমন হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস ফেসবুকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে—কিছু তথ্য উভয় সেবার মধ্যে আদান-প্রদান হতে পারে।

নিজস্ব তথ্যের সুরক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ সুবিধা রয়েছে, যার সাহায্যে সেটিংস পর্যালোচনা ও পরিবর্তন করা যায়। সেটিংসের প্রাইভেসি বিভাগে গিয়ে প্রোফাইল ছবি কিংবা ‘লাস্ট সিন’ বা সর্বশেষ সক্রিয় থাকার সময় কারা দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণের বিকল্প মেলে। সেখানে ‘সবাই’, ‘সংরক্ষিত পরিচিতি’, ‘নির্দিষ্ট কিছু পরিচিতি’ অথবা ‘কেউ নন’—পছন্দমাফিক অপশন বেছে নেওয়া যায়। পাশাপাশি কে গ্রুপে যোগ করতে পারবে তা নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেসেজ মুছে যাওয়া, বিশেষ আলাপের গোপনীয়তায় ‘চ্যাট লক’ এবং সম্পূর্ণ অ্যাপ সুরক্ষায় ‘অ্যাপ লক’ ব্যবহারের সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।

মুঠোফোন পরিবর্তন বা হারিয়ে যাওয়ার পর পুরোনো বার্তা ফিরে পেতে চ্যাট ব্যাকআপ খুবই সহায়ক। গুগল অ্যাকাউন্ট অথবা আইক্লাউডে সংরক্ষিত এই ব্যাকআপকে নিরাপদ রাখতে আলাদাভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সক্রিয় করার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড কিংবা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি (key) ব্যবহার করে ব্যাকআপ সুরক্ষিত রাখা হয়। তবে কোনো কারণে এই কোড বা পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে সংরক্ষিত আলাপ উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, কারণ হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও তা ফিরিয়ে দিতে পারে না। তাই ব্যক্তিগত তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখতে ব্যাকআপের সুরক্ষাসহ সার্বিক প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত তদারকি করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে।