খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

সুটকেসে দ্বিখণ্ডিত নারীর লাশ উদ্ধার ৫ বছরের প্রেম, তারপর হত্যা:

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সুটকেসে দ্বিখণ্ডিত নারীর লাশ উদ্ধার ৫ বছরের প্রেম, তারপর হত্যা:

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি :

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্য। পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে নিয়ে বিরোধ ও জমে থাকা ক্ষোভের জেরে প্রেমিক মিশন ইসলামের হাতে খুন হন ডলি আক্তার (৩০)। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও লাশ গুম করতে বটি দা ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে লাশ দ্বিখণ্ডিত করে একাংশ সুটকেসে এবং অপরাংশ বস্তায় ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) ও সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের রাজদীঘির উত্তর পাড়ে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার।

তিনি জানান,নিহত ডলি আক্তার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় একা বসবাস করতেন। স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকার হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেডের উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের খালের পানিতে একটি ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিফকেসের ভেতর ও বস্তায় রাখা এক নারীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

পরে অজ্ঞাত নারীর দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত স্থানীয় সোর্সের সমন্বয়ে শুরু হয় নিবিড় অনুসন্ধান। তদন্তের একপর্যায়ে শনাক্ত হয় নিহত নারীর পরিচয়। একই সঙ্গে উন্মোচিত হয় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনাও।

পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ডলি আক্তারের সঙ্গে মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একই গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে তাদের পরিচয় হয়। ডলি প্রায়ই মিশনের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।

গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে বানু আক্তার পাশের কক্ষে ঘুমাতে গেলে মিশন ও ডলি একই কক্ষে অবস্থান করেন।

পিবিআই জানায়, পূর্বের বিভিন্ন বিষয় ও বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মিশনের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে ডলিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় সে। আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, ওই রাতে ডলিকে ঘুমের ওষুধ ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি ঘুমিয়ে পড়লে রাত আনুমানিক ২টার দিকে মিশন লুঙ্গি দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে এবং পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর লাশটি চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখে।

পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কার করার সময় বানু আক্তার চৌকির নিচে ডলির লাশ দেখতে পান। এরপর লাশ গুমের পরিকল্পনা করা হয়। মিশন একটি সুটকেস সংগ্রহ করে। কিন্তু পুরো লাশ সুটকেসে না ধরায় ব্লেড ও বটি দা দিয়ে কোমর থেকে লাশটি দ্বিখণ্ডিত করা হয়।

লাশের একাংশ সুটকেসে এবং অপরাংশ পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়। পরে মিশন তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে ডেকে আনে। মিল্টন এসে সুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় তুলে দিতে সহযোগিতা করে।

পরে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও মিল্টন মিলে সুটকেস ও বস্তা নিয়ে প্রথমে রাজেন্দ্রপুর এবং সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে ভবানীপুর এলাকায় যায়। ভবানীপুর ব্রিজ এলাকা থেকে মিশন ও মিল্টন সুটকেস ও বস্তা খালের পানিতে ফেলে দেয়।

এ সময় মিল্টনের হাতে রক্ত লাগলে সুটকেস ও বস্তার ভেতরে কী রয়েছে জানতে চায় সে। একপর্যায়ে মিশন তাকে জানায়, সেখানে তার প্রেমের সম্পর্ক থাকা ডলি আক্তারের লাশ রয়েছে। পরে তারা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যায়।

নিহতের বড় ভাই সোহেল (৪৪) বাদী হয়ে ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তে নিয়ে পিবিআই দ্রুত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে।

১২ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর মেট্রো থানাধীন বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৃথক ভাড়া বাসা থেকে মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে মিশনের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বটি দা, লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, নিহত ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি সুটকেস কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পিবিআই।

পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার বলেন, লাশটি অজ্ঞাত ও অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় প্রথমে মৃতার পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। কিন্তু পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে মৃতার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্তে পাওয়া আলামত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয়েছে। অপরাধী যত কৌশলেই অপরাধ সংঘটিত করুক না কেন, পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব। পিবিআই গাজীপুর জেলা এ ঘটনায় তারই একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানায়, গ্রেপ্তার তিন আসামিই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না এবং উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
advertisement
advertisement

আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ১৭ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করে ওয়ানডে বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করেছেন আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান। তার রেটিং পয়েন্ট ৭১৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪২-এ। বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের আবরার আহমেদের চেয়ে তিনি ৮০ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। শুধু বোলিং নয়, একদিনের ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও দুই ধাপ উন্নতি করে ষষ্ঠ স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন এই আফগান তারকা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও বিশ্বের এক নম্বর বোলার হিসেবে থাকা রশিদের মুখোমুখি হয়েই আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল।

এদিকে আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামার পূর্বে সুখবর এসেছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ থেকেও। আইসিসির হালনাগাদ করা ওয়ানডে বোলিং তালিকায় দুই ধাপ উন্নতি ঘটিয়ে ১১ নম্বরে উঠে এসেছেন বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম। অন্যদিকে এক লাফে ৯ ধাপ এগিয়ে ১২তম স্থান দখল করেছেন তাসকিন আহমেদ। এটিই এই দুই টাইগার বোলারের ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থান।

ব্যাটসম্যানদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে আফগানিস্তানের উদীয়মান ব্যাটার সেদিকউল্লাহ আতালের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত পরশু ১১০ বলে খেলা ১০২ রানের ইনিংসটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর সুবাদে র‍্যাঙ্কিংয়ের ৩২তম অবস্থান থেকে এক লাফে ২০ নম্বরে পৌঁছে গেছেন তিনি। এ ছাড়া রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচের পর পাকিস্তানের সালমান আগা এক ধাপ এগিয়ে ১২ নম্বরে এবং ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট দুই ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বরে জায়গা পেয়েছেন।

ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রভাব পড়েছে কুড়ি ওভারের র‍্যাঙ্কিংয়েও। সেখানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা। টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলনেতা শাই হোপ। পাশাপাশি তাঁর সতীর্থ শেরফান রাদারফোর্ড ছয় ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ১৮ নম্বরে।

সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

গ্রেভিলিয়ার ফুল ও ফল

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের এক সকালে ঢাকার সাভারের বরিশাল নার্সারিতে দেখা মেলে এক ব্যতিক্রমী ফুলের, যাতে প্রচলিত কোনো পাপড়ির অস্তিত্ব নেই। মাকড়সার পায়ের বিন্যাসের মতো সাজানো পুষ্পমঞ্জরি দেখে নার্সারির ব্যবস্থাপক এটিকে ‘বোতলব্রাশ’ বলে উল্লেখ করলেও চেনা বোতলব্রাশের সঙ্গে এর মিল ছিল না। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, এটি প্রোটিয়েসি গোত্রের অন্তর্গত ‘গ্রেভিলিয়া’ গণের উদ্ভিদ। উল্লেখ্য, এই গোত্রে প্রায় ৮০টি গণ এবং ২ হাজার প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত। প্রোটিয়েসি গোত্রের উদ্ভিদে স্বতন্ত্র কোনো বৃতি বা পাপড়ি থাকে না; বরং টেপাল নামের চারটি পাপড়িসদৃশ অংশের একটিমাত্র চক্র গঠিত হয়।

বরিশাল নার্সারির মালিক মো. ইব্রাহিমের ভাষ্যমতে, থাইল্যান্ড থেকে আনা স্বল্প কিছু চারা মাতৃগাছ হিসেবে সেখানে বড় করা হচ্ছে। অদ্ভুত গড়নের কারণে আকৃষ্ট হয়ে তিনি গ্রেভিলিয়ার একাধিক জাত সংগ্রহ করেন, যেগুলোতে প্রায় সারা বছরই ফুল ফুটতে দেখা যায়। মূলত গ্রেভিলিয়া গণে ৩৮০টি প্রজাতি রয়েছে, যেগুলো পরিচিত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’ নামে। আঠারো শতকের বিশিষ্ট উদ্ভিদবিদ এবং রয়্যাল হর্টিকালচার সোসাইটির সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লস ফ্রান্সিস গ্রেভিলির নামানুসারে এই গণের নামকরণ করা হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে সাভারের গাছটির পুষ্পমঞ্জরি ‘Grevillea acanthifolia’ প্রজাতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যার তিনটি উপপ্রজাতি বিদ্যমান এবং পাতার গঠনে সেগুলোর ভিন্নতা স্পষ্ট।

ইংরেজিতে ‘অ্যাকান্থাস-লিভড গ্রেভিলিয়া’ নামে পরিচিত বহুবর্ষজীবী এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের বাংলা কোনো নাম পাওয়া যায়নি। ১৮১৭ সালে পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অভিযানকালে ইংরেজ উদ্ভিদবিজ্ঞানী অ্যালান কানিংহাম (১৭৯১-১৮৩৯) নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্লু মাউন্টেনস অঞ্চলের পিটযুক্ত জলাভূমি ও কক্স নদীর তীরে এর সন্ধান পান। পরবর্তীতে ব্যারন ফিল্ড সম্পাদিত ‘জিওগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার্স অন নিউ সাউথ ওয়েলস’ (১৮২৫) গ্রন্থে তিনি এর প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করেন। নার্সারিতে দেখা যায়, সোয়া মিটারের মতো দীর্ঘ দুটি গাছের কাণ্ড সোজা হলেও ডালপালা এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। উজ্জ্বল সবুজ, শক্ত ও কাঁটাযুক্ত পাতার ফলক ৯ থেকে ১৪টি খণ্ডে গভীরভাবে বিভক্ত। প্রতিটি পাতা ৪ থেকে ৯ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ও ৩ থেকে ৭ সেন্টিমিটার চওড়া; উপখণ্ডের অগ্রভাগ সূচালো ও রৈখিক, কীলকাকার বা ত্রিভুজাকৃতির।

গোলাপি থেকে বেগুনি রঙের ফুলগুলো একপাশে বিন্যস্ত হয়ে টুথব্রাশের মতো রূপ নেয়, যার মঞ্জরির দৈর্ঘ্য ৩ থেকে ১০ সেন্টিমিটার। এর ক্ষুদ্র বৃত্যংশ বা পাপড়ি হালকা সবুজ থেকে ধূসর রঙের, যা বাইরে রোমশ এবং ভেতরে মসৃণ। লাল রঙের দীর্ঘ গর্ভদণ্ডের শীর্ষে থাকে সবুজ পরাগ ধারণকারী অংশ। মূলত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে বেশি ফুটলেও সারা বছরই ফুল ফোটে এবং ফুল ঝরে যাওয়ার পর তৈরি হয় লালচে দাগযুক্ত রোমশ ফল বা ফলিকল। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের জলাভূমি ও উঁচু স্থানের এই স্থানীয় উদ্ভিদটি বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে বাগানের শোভাবর্ধক হিসেবে রোপণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সরকারিভাবে এর নথিভুক্ত তথ্য না থাকলেও পূর্বে ‘সিলভার ওক’ (Grevillea robusta)-এর উপস্থিতির তথ্য রয়েছে এবং সাম্প্রতিককালে এই প্রজাতির বিস্তারও ঘটছে।

হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা: কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা?

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা: কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা?

হোয়াটসঅ্যাপ কি তথ্য সংগ্রহ করে?

মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান ও ভয়েস-ভিডিও কলে ব্যবহৃত হয় ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ প্রযুক্তি। এই বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থার ফলে প্রেরক ও প্রাপক ব্যতীত তৃতীয় কোনো পক্ষ, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ বা মূল প্রতিষ্ঠান মেটাও যোগাযোগের মূল বিষয়বস্তু জানতে পারে না। তবুও প্ল্যাটফর্মটি বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের কিছু ব্যক্তিগত ও কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। তাছাড়া মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনেও নির্দিষ্ট কিছু ডেটা আদান-প্রদান করা হয়। তবে ডেটা সংগ্রহ বা শেয়ার করার অর্থ এই নয় যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করছে।

অ্যাপ সচল রাখা ও সার্বিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপ মূলত তিনটি মাধ্যম থেকে তথ্য পায়। প্রথমত, ব্যবহারকারী নিজে যখন অ্যাকাউন্ট খোলেন, তখন ফোন নম্বর ও নামের মতো তথ্য প্রদান করেন। দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে অ্যাপটি ব্যবহারের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশ কিছু কারিগরি উপাত্ত সংগৃহীত হয়। তৃতীয়ত, অন্যান্য ব্যবহারকারীর মাধ্যমেও তথ্য আসে; যেমন পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কারও মুঠোফোনের কন্ট্যাক্ট তালিকায় আপনার নম্বর সেভ থাকলে তা পৌঁছায়। তবে এসব উপাত্ত জমা হলেও এনক্রিপশন প্রযুক্তির কারণে ব্যক্তিগত টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও কিংবা সংযুক্ত নথির ভেতরের অংশে কারো প্রবেশাধিকার থাকে না। মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সাথে হোয়াটসঅ্যাপের ফিচার যুক্ত করলে—যেমন হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস ফেসবুকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে—কিছু তথ্য উভয় সেবার মধ্যে আদান-প্রদান হতে পারে।

নিজস্ব তথ্যের সুরক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ সুবিধা রয়েছে, যার সাহায্যে সেটিংস পর্যালোচনা ও পরিবর্তন করা যায়। সেটিংসের প্রাইভেসি বিভাগে গিয়ে প্রোফাইল ছবি কিংবা ‘লাস্ট সিন’ বা সর্বশেষ সক্রিয় থাকার সময় কারা দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণের বিকল্প মেলে। সেখানে ‘সবাই’, ‘সংরক্ষিত পরিচিতি’, ‘নির্দিষ্ট কিছু পরিচিতি’ অথবা ‘কেউ নন’—পছন্দমাফিক অপশন বেছে নেওয়া যায়। পাশাপাশি কে গ্রুপে যোগ করতে পারবে তা নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেসেজ মুছে যাওয়া, বিশেষ আলাপের গোপনীয়তায় ‘চ্যাট লক’ এবং সম্পূর্ণ অ্যাপ সুরক্ষায় ‘অ্যাপ লক’ ব্যবহারের সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।

মুঠোফোন পরিবর্তন বা হারিয়ে যাওয়ার পর পুরোনো বার্তা ফিরে পেতে চ্যাট ব্যাকআপ খুবই সহায়ক। গুগল অ্যাকাউন্ট অথবা আইক্লাউডে সংরক্ষিত এই ব্যাকআপকে নিরাপদ রাখতে আলাদাভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সক্রিয় করার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড কিংবা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি (key) ব্যবহার করে ব্যাকআপ সুরক্ষিত রাখা হয়। তবে কোনো কারণে এই কোড বা পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে সংরক্ষিত আলাপ উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, কারণ হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও তা ফিরিয়ে দিতে পারে না। তাই ব্যক্তিগত তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখতে ব্যাকআপের সুরক্ষাসহ সার্বিক প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত তদারকি করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে।