খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না: চিফ হুইপ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না: চিফ হুইপ

আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না: চিফ হুইপ

রাজনীতি ডেস্ক: আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। সম্প্রতি রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে কেবল আন্দোলনের মাধ্যমে কখনো সরকার গঠন করা সম্ভব নয়, কারণ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা পরিবর্তনের একমাত্র বৈধ ও গণতান্ত্রিক পথ হলো নির্বাচন। বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে তারা বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, যদি কোনো কারণে দেশের জনগণ বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট না হয়, তবে তারা আগামী নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন সরকার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। গণতান্ত্রিক ধারা ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সুপ্রতিষ্ঠিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক হলেও পারস্পরিক বিরোধ বা সংঘাতের পথ বেছে নিলে তা তৃতীয় পক্ষের সুবিধা করে দিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। নিজেদের গৃহবিবাদের সুযোগ বাইরের কেউ যেন নিতে না পারে, সে বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকে অত্যন্ত সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন জাতীয় সংসদের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, গত বাহান্ন বছরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে অনেক মূল্যবান সময় অপচয় হয়েছে, যা এখন আর কাম্য নয়। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এখন হানাহানি ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। বর্তমান প্রজন্মকে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার দায়িত্ব দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন মহলের আন্দোলন ও জ্বালানি খাতের নানা প্রসঙ্গ টেনে চিফ হুইপ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে সরকার সাধ্যমতো ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি অনুকূলে রাখার চেষ্টা করছে। অথচ একটি কুচক্রী মহল কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলার পাঁয়তারা করছে। এই ধরনের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশের সব স্তরের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, দেশের অবহেলিত উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন এবং সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

advertisement
advertisement

কামিন্দুর সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বড় পুঁজি, পাকিস্তানের লক্ষ্য ৩২৬

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কামিন্দুর সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বড় পুঁজি, পাকিস্তানের লক্ষ্য ৩২৬

কামিন্দুর সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বড় পুঁজি, পাকিস্তানের লক্ষ্য ৩২৬

খেলা ডেস্ক: লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে আট উইকেট হারিয়ে তিনশ ২৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছে শ্রীলঙ্কান দল। ফলে শিরোপা নিজেদের করে নিতে হলে স্বাগতিক পাকিস্তানকে তিনশ ২৬ রানের লক্ষ্য টপকাতে হবে। শুরু দিকে পাকিস্তানি বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের মুখে কিছুটা বিপাকে পড়লেও শেষ পর্যন্ত দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রের এই দলটি।

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সতর্ক সূচনা করেছিল শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার। আভিষ্কা ফার্নান্ডো ও কামিন্দু মেন্ডিসের উদ্বোধনী জুটি স্কোরবোর্ডে ফিফটি পার করে দেয়। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে জোড়া উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় তারা। আভিষ্কা ৩৮ এবং কুশল মেন্ডিস মাত্র আট রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের গতি মন্থর হয়ে আসে।

তবে সেই প্রাথমিক চাপ কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেন কামিন্দু মেন্ডিস ও পাভান রত্নায়েকে। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন মিলে একশ ছেচল্লিশ রানের এক দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলকে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে যান। এই চমৎকার ইনিংস খেলার পথে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক তুলে নেন কামিন্দু। তিনি একশ একত্রিশ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে আউট হন। অন্যদিকে পাভান রত্নায়েকে সচল রাখেন রান তোলার গতি এবং খেলেন সাতাত্তর রানের দায়িত্বশীল একটি ইনিংস।

জুটি ভাঙার পর পাকিস্তানের পেসাররা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার রান তোলায় কিছুটা লাগাম টানেন। দলটির সংগ্রহ একসময় দুই উইকেটে দুইশ পঞ্চান্ন থেকে হঠাৎ আট উইকেটে তিনশ সাতে নেমে আসে। তা সত্ত্বেও শেষ দিকের ব্যাটারদের কল্যাণে নির্ধারিত ওভার শেষে তিনশ পঁচিশ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয় দলটি। পাকিস্তানের পক্ষে সফল বোলারদের মধ্যে শাহীন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, সালমান আগা ও হারিস রউফ প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু

জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু

রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের ইসলামি রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াতে ইসলামী এবং কওমিপন্থী আলেমদের মধ্যকার সম্পর্ক বরাবরই বেশ জটিল ও সংঘাতপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে এই দুই ধারার মধ্যকার আদর্শগত ও কৌশলগত দূরত্ব সবসময়ই একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তাদের এই সম্পর্কের টানাপোড়েন বিভিন্ন সময়ে নানা রূপ নিয়েছে এবং তা জাতীয় রাজনীতিকেও প্রভাবিত করেছে।

এই বিরোধের সূচনা হুট করে হয়নি, এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী ঐতিহাসিক ও মতাদর্শিক প্রেক্ষাপট। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লড়াইয়ে এই দুটি পক্ষ প্রায়শই বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মধ্যকার এই দূরত্বের মূল কারণ লুকিয়ে আছে ধর্মীয় ব্যাখ্যা, রাজনৈতিক দর্শন এবং ক্ষমতা দখলের কৌশলের মৌলিক পার্থক্যের মধ্যে।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর আধুনিক সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে কওমি মাদরাসাভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী ধারার চিন্তাধারার মেলবন্ধন সবসময়ই কঠিন ছিল। কওমি আলেমরা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও সমাজ ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেন, যা অনেক সময় জামায়াতের রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সময়ের পরিক্রমায় এই দুই শক্তির বিরোধ কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা আদর্শগত দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের পালায় এই দুই ধারার মধ্যকার সম্পর্ক নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। বিভিন্ন জাতীয় সংকটে তাদের একত্রে দেখা গেলেও মৌলিক ইস্যুতে তাদের অনমনীয় অবস্থান এখনো বজায় রয়েছে। ইসলামি রাজনীতির এই দুই প্রধান শিবিরের পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে আগামী দিনের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ।

জনগণ শুধু ভোটার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর অংশীদার: জেএসডি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জনগণ শুধু ভোটার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর অংশীদার: জেএসডি

জনগণ শুধু ভোটার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর অংশীদার: জেএসডি

রাজনীতি ডেস্ক: শুধুমাত্র শাসক কিংবা সরকারের পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের ক্ষমতার উৎস, কাঠামো ও চরিত্রের মৌলিক পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। দলটির মতে, পুরোনো ক্ষমতা কাঠামোর বিলোপ সাধন করে অংশীদারত্বমূলক গণতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে নতুনভাবে রূপান্তর করতে হবে। রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন এবং সাধারণ মানুষকে কেবল ভোটদাতা হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার তাগিদ দেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক সোহরাব হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, শোষণহীন সমাজ গঠনের দীর্ঘ লড়াইয়ের অঙ্গীকার নিয়ে এই দলের পথচলা শুরু হয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে কেবল রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচিকে সামনে নিয়ে আসা আদর্শিক অবস্থান থেকে এক ধরনের বিচ্যুতি। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া উল্লেখ করেন যে, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও সরকার কাঙ্ক্ষিত পথে এগোচ্ছে না। ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত রূপ পরিবর্তন করে একে বিকেন্দ্রীভূত না করলে রাষ্ট্র পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।

দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা রাষ্ট্র সংস্কার এখন আর কোনো একক রাজনৈতিক দলের দাবি নয়, এটি আজ সর্বস্তরের জনগণের জোরালো দাবিতে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত কোনো সংগ্রামের স্বপ্নই পুরোপুরি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি, তবুও সমাজ বদলের এই লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমদ মনে করেন, সংসদের উচ্চকক্ষে বিভিন্ন সামাজিক শক্তির সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠিত হবে।

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন জানান, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার ক্ষমতার হাতবদল ঘটলেও কাঠামোগত কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ মানুষের কার্যকর অংশগ্রহণ আজও নিশ্চিত করা যায়নি। সভাপতির বক্তব্যে তানিয়া রব জুলাই সনদের অঙ্গীকার ও গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।