খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

সোরিয়াসিস ছোঁয়াচে রোগ নয়, চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সোরিয়াসিস ছোঁয়াচে রোগ নয়, চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব

সোরিয়াসিস ছোঁয়াচে রোগ নয়, চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ত্বকের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষটিকে দেখুন বা লুক বিয়ন্ড মাই স্কিন প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব সোরিয়াসিস দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোরিয়াসিস অ্যাওয়ারনেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিস্ট সোসাইটির উদ্যোগে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। শোভাযাত্রার পর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী সোরিয়াসিস রোগ নিয়ে মানুষের ভুল ধারণার কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে সোরিয়াসিস কোনো অবস্থাতেই কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিবারের সদস্য বা সমাজের মানুষ দূরত্ব বজায় রাখেন, যা মোটেও কাম্য নয়। এই ধরনের অবহেলা বা বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সংবেদনশীল ও স্বাভাবিক আচরণ করা উচিত। সাধারণ মানুষের মাঝে এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে চিকিৎসক সমাজের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।

উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে এই রোগের শারীরিক জটিলতা এবং সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি জানান যে সোরিয়াসিসে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পরবর্তীতে আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগে থাকেন। প্রাথমিক অবস্থায় এই আর্থ্রাইটিস শনাক্ত করা সম্ভব হলে এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু অবহেলা করা হলে এই আর্থ্রাইটিস মারাত্মক রূপ নিতে পারে এবং মানুষের মেরুদণ্ডসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আক্রান্ত করে চলাচলের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে। যুগের অগ্রগতির সঙ্গে এখন চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেক আধুনিক পদ্ধতি চলে এসেছে, যা ব্যবহার করে রোগীরা সুস্থ জীবন কাটাতে পারেন।

সেমিনারে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ডার্মাটোলজিস্টরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশীদ এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তিন শতাধিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে সেমিনারে অংশ নেন এবং সোরিয়াসিসের আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি ও মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

advertisement
advertisement

সংবিধান না মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি গায়ের জোরের শামিল: রিজভী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সংবিধান না মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি গায়ের জোরের শামিল: রিজভী

সংবিধান না মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি গায়ের জোরের শামিল: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক: রাজনৈতিক অঙ্গনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশের বিদ্যমান সংবিধান লঙ্ঘন করে এই সনদ কার্যকর করার জোর প্রচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ। তাদের মতে, কোনো ধরনের জাতীয় ঐকমত্য বা আলোচনা ছাড়া একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

এই বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সম্প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, প্রস্তাবিত জুলাই সনদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধারার সঙ্গে বিএনপির পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দ্বিমত বা আপত্তি রয়েছে। এই মতপার্থক্যগুলোকে পাশ কাটিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যেকোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সব অংশীজনের মতামতকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আপত্তি থাকা বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও গণতান্ত্রিক সমাধানে পৌঁছানো জরুরি। গায়ের জোরে কোনো কিছু বাস্তবায়ন করার মানসিকতা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিলে তা দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমেই কেবল একটি গ্রহণযোগ্য পথ বের করা সম্ভব বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণকারীরা।

কামিন্দুর সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বড় পুঁজি, পাকিস্তানের লক্ষ্য ৩২৬

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কামিন্দুর সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বড় পুঁজি, পাকিস্তানের লক্ষ্য ৩২৬

কামিন্দুর সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বড় পুঁজি, পাকিস্তানের লক্ষ্য ৩২৬

খেলা ডেস্ক: লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে আট উইকেট হারিয়ে তিনশ ২৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছে শ্রীলঙ্কান দল। ফলে শিরোপা নিজেদের করে নিতে হলে স্বাগতিক পাকিস্তানকে তিনশ ২৬ রানের লক্ষ্য টপকাতে হবে। শুরু দিকে পাকিস্তানি বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের মুখে কিছুটা বিপাকে পড়লেও শেষ পর্যন্ত দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রের এই দলটি।

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সতর্ক সূচনা করেছিল শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার। আভিষ্কা ফার্নান্ডো ও কামিন্দু মেন্ডিসের উদ্বোধনী জুটি স্কোরবোর্ডে ফিফটি পার করে দেয়। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে জোড়া উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় তারা। আভিষ্কা ৩৮ এবং কুশল মেন্ডিস মাত্র আট রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের গতি মন্থর হয়ে আসে।

তবে সেই প্রাথমিক চাপ কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেন কামিন্দু মেন্ডিস ও পাভান রত্নায়েকে। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন মিলে একশ ছেচল্লিশ রানের এক দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলকে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে যান। এই চমৎকার ইনিংস খেলার পথে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক তুলে নেন কামিন্দু। তিনি একশ একত্রিশ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে আউট হন। অন্যদিকে পাভান রত্নায়েকে সচল রাখেন রান তোলার গতি এবং খেলেন সাতাত্তর রানের দায়িত্বশীল একটি ইনিংস।

জুটি ভাঙার পর পাকিস্তানের পেসাররা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার রান তোলায় কিছুটা লাগাম টানেন। দলটির সংগ্রহ একসময় দুই উইকেটে দুইশ পঞ্চান্ন থেকে হঠাৎ আট উইকেটে তিনশ সাতে নেমে আসে। তা সত্ত্বেও শেষ দিকের ব্যাটারদের কল্যাণে নির্ধারিত ওভার শেষে তিনশ পঁচিশ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয় দলটি। পাকিস্তানের পক্ষে সফল বোলারদের মধ্যে শাহীন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, সালমান আগা ও হারিস রউফ প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু

জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু

রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের ইসলামি রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াতে ইসলামী এবং কওমিপন্থী আলেমদের মধ্যকার সম্পর্ক বরাবরই বেশ জটিল ও সংঘাতপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে এই দুই ধারার মধ্যকার আদর্শগত ও কৌশলগত দূরত্ব সবসময়ই একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তাদের এই সম্পর্কের টানাপোড়েন বিভিন্ন সময়ে নানা রূপ নিয়েছে এবং তা জাতীয় রাজনীতিকেও প্রভাবিত করেছে।

এই বিরোধের সূচনা হুট করে হয়নি, এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী ঐতিহাসিক ও মতাদর্শিক প্রেক্ষাপট। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লড়াইয়ে এই দুটি পক্ষ প্রায়শই বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মধ্যকার এই দূরত্বের মূল কারণ লুকিয়ে আছে ধর্মীয় ব্যাখ্যা, রাজনৈতিক দর্শন এবং ক্ষমতা দখলের কৌশলের মৌলিক পার্থক্যের মধ্যে।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর আধুনিক সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে কওমি মাদরাসাভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী ধারার চিন্তাধারার মেলবন্ধন সবসময়ই কঠিন ছিল। কওমি আলেমরা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও সমাজ ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেন, যা অনেক সময় জামায়াতের রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সময়ের পরিক্রমায় এই দুই শক্তির বিরোধ কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা আদর্শগত দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের পালায় এই দুই ধারার মধ্যকার সম্পর্ক নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। বিভিন্ন জাতীয় সংকটে তাদের একত্রে দেখা গেলেও মৌলিক ইস্যুতে তাদের অনমনীয় অবস্থান এখনো বজায় রয়েছে। ইসলামি রাজনীতির এই দুই প্রধান শিবিরের পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে আগামী দিনের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ।