খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের কথা কেন বলে বিএনপি, জানালেন রিজভী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের কথা কেন বলে বিএনপি, জানালেন রিজভী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের কথা কেন বলে বিএনপি, জানালেন রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক: কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কথিত রাজনৈতিক আঁতাত নিয়ে কেন বিএনপি বারবার প্রশ্ন তুলছে, সম্প্রতি তার নেপথ্য কারণ ও যুক্তি ব্যাখ্যা করেছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। দলের এই অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানানো হয় যে গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বিভাজিত করার যেকোনো অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকেই পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে। মূলত রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান নানা সমীকরণ এবং সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের পর এই ব্যাখ্যা সামনে আসে।

গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয় যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই জামায়াত শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সাবেক শাসক দলকে ক্ষমা করে দেওয়ার মতো সুর শোনা গিয়েছিল। এই ধরনের নমনীয় মনোভাব এবং তাদের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান দেশের সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ, তখন এমন অবস্থান গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলের মতে, একটি রাজনৈতিক দল যখন ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান না নিয়ে উল্টো বিভাজনের রাজনীতি করে, তখন তা প্রকারান্তরে পলাতক শক্তিকে পুনর্বাসিত হওয়ার পথ সুগম করে। দেশের পুরো জাতি যখন দীর্ঘ দুঃশাসনের শিকার হয়েছিল, তখন সেই শক্তির বিষয়ে যেকোনো ধরনের আপসকামী মনোভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জেরে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে কথার লড়াই ও পাল্টাপাল্টি মন্তব্য লক্ষ্য করা গেছে।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বিএনপি নেতা আরও জানান যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা চালাচ্ছে পলাতক চক্র। এমন একটি জটিল পরিস্থিতিতে কোনো রাজনৈতিক দল যদি মূল ধারা থেকে সরে গিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে, তবে তাদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠা অত্যন্ত স্বাভাবিক। সাম্প্রতিক এক জনসভায় দলের শীর্ষ পর্যায় থেকেও এই বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

advertisement
advertisement

দুর্নীতি-লুটপাট-দখলদারত্বের পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসেছেন: নাহিদ ইসলাম

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দুর্নীতি-লুটপাট-দখলদারত্বের পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসেছেন: নাহিদ ইসলাম

দুর্নীতি-লুটপাট-দখলদারত্বের পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসেছেন: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশ পরিচালনার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক গণবিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে বর্তমান সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশ থেকে দুর্নীতি, লুটপাট এবং দখলদারত্ব টিকিয়ে রাখা এবং এই পরিকল্পনা নিয়েই প্রধানমন্ত্রী লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন। সমাবেশটি ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলটির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শাহবাগ চত্বরে সমবেত হন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

সমাবেশে সাধারণ মানুষের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম জানান যে তাঁর দলের নেতারা সম্প্রতি রাজধানী ঘুরে মানুষের দুরবস্থার চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমান প্রশাসন দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকার সম্পূর্ণ উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে।

সরকারের এই সার্বিক ব্যর্থতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধানত দায়ী করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন এনসিপি নেতা। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান সংস্কার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন, যা জনগণের সঙ্গে একপ্রকার প্রতারণা। এছাড়া জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনার কারণে জ্বালানিমন্ত্রীরও নিজ পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। অবিলম্বে এই দুই মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তা না হলে তাদের আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুংকার দেন তিনি। একতরফা সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ বাতিল করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই জুলাই সনদ ও নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে ভঙ্গ করে চলেছে। হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল আজ নস্যাৎ হতে বসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশের সীমান্তে অব্যাহত হত্যা, পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি এবং প্রতিবেশী দেশের নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। ফেলানি হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশকে ভারতের জন্য করিডর হিসেবে ব্যবহারের যেকোনো অপচেষ্টা এ দেশের জনগণ প্রতিহত করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠিত এই গণবিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে চার দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করা, স্বাধীনতাবিরোধী সব কালাকানুন বাতিলসহ সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী না করা এবং জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করা। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ, নুসরাত তাবাসসুম, সারজিস আলমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। অবিলম্বে দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে বলে সমাবেশে শেষ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

শখের চাষে বাজিমাত, হাসানুরের খেতে বাহারি তরমুজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শখের চাষে বাজিমাত, হাসানুরের খেতে বাহারি তরমুজ

শখের চাষে বাজিমাত, হাসানুরের খেতে বাহারি তরমুজ

জাতীয় ডেস্ক: মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার এক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা শখের বশে ব্যতিক্রমী জাতের তরমুজ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ভাবনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হাসানুর রহমান অত্যন্ত সীমিত পরিসরে এই চাষাবাদ শুরু করেন। তাঁর ক্ষেতের সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলছে হলুদ ও সবুজ রঙের বিদেশি জাতের তরমুজ। দূরদূরান্ত থেকে পথচারী ও দর্শনার্থীরা এই দৃশ্য দেখতে ভিড় করছেন এবং অনেকে মুঠোফোনে ছবি তুলে রাখছেন। প্রচলিত মৌসুমের বাইরে এবং ভিন্ন জাতের এই ফল চাষ এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।

উদ্যোক্তা হাসানুর রহমান মাত্র পাঁচ শতাংশ জমিতে ব্ল্যাকবেরি ও ইয়েলো মেলন জাতের তরমুজের চাষ করেছেন। এর মধ্যে বিশেষ করে হলুদ রঙের ইয়েলো মেলন ফলটি মানুষের নজর কেড়েছে সবচেয়ে বেশি। জেলা শহর থেকে বীজ সংগ্রহ করে তিনি নিজেই তা থেকে চারা তৈরি করেন। এরপর জমি প্রস্তুত করে সেখানে চারা রোপণ করেন এবং মাত্র দেড় মাসের মধ্যে গাছগুলোতে ফল ধরতে শুরু করে। মাচা পদ্ধতিতে চাষ করার কারণে ফলগুলো মাটির সংস্পর্শে নষ্ট হয়নি বরং সুন্দরভাবে ঝুলে থেকে পরিপূর্ণ রূপ পেয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী চাষ পদ্ধতির বাইরে গিয়ে বাঁশের খুঁটি ও নাইলনের জালের সাহায্যে অভিনব মাচা তৈরি করেছেন এই তরুণ। সেই মাচায় গাছের লতা ছড়িয়ে দিয়ে চমৎকার এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। তরমুজের এমন ব্যতিক্রমী ক্ষেত দেখতে প্রতিদিনই এলাকার কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের অনেকেই এই নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে নিজেরাও এমন চাষে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, সঠিক সহায়তা ও ভালো বাজারমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ এলাকার অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ তরুণ এই উদ্যোক্তার কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছে এবং তাঁকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান শিলু জানান, এই অঞ্চলে সাধারণত এই ধরনের ফল চাষের প্রচলন নেই, তবে হাসানুরের সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর এই অসাধারণ সাফল্য দেখে আগামী দিনে এলাকার অন্য কৃষকেরাও লাভজনক এই ফল চাষের দিকে ঝুঁকে পড়বেন বলে আশা করা হচ্ছে।

স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চ দখল করছে আবেদনময়ী এআই তরুণীরা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চ দখল করছে আবেদনময়ী এআই তরুণীরা

স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চ দখল করছে আবেদনময়ী এআই তরুণীরা

প্রযুক্তি ডেস্ক: প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দাপটে নাটকীয়ভাবে বদলাতে শুরু করেছে স্ট্যান্ড-আপ কমেডির পরিচিত জগৎ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতা উল্টালেই আজকাল চোখ আটকে যায় আকর্ষণীয় কিছু ভার্চুয়াল নারীর কৌতুক পরিবেশনায়। ইটের দেওয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আবেদনময়ী ভঙ্গিতে তারা সম্পর্ক, ডেটিং ও প্রাপ্তবয়স্ক নানা বিষয় নিয়ে কৌতুক পরিবেশন করে চলেছে। আর এসকল মন ভোলানো ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে লাখ লাখ দর্শকের কাছে, যা বিনোদন জগতের প্রচলিত ধারাকেই এক নতুন মোড়ে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে।

তবে এই ভার্চুয়াল বিনোদনের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক অসৎ চর্চা যা নিয়ে সরব হয়েছেন মাঠপর্যায়ের শিল্পীরা। অভিযোগ উঠেছে, এআই দিয়ে নির্মিত এসব কৌতুকের অধিকাংশ উপাদানই হুবহু চুরি করা হয়েছে বাস্তব জীবনের তরুণ ও কম পরিচিত নারী কমেডিয়ানদের কনটেন্ট থেকে। বিশেষ করে যারা ডেটিং বা যৌনতা নিয়ে রম্য রচনা করেন, তাদের লেখার ভাষা এবং উপস্থাপনার ভঙ্গি নির্মমভাবে নকল করা হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের অনেক কমেডিয়ান প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে তাদের জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বহু মৌলিক কৌতুক এআই নির্মাতারা বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করে নিজেদের নামে চালিয়ে দিচ্ছে।

বাস্তব দুনিয়ার নারী শিল্পীদের শারীরিক গঠন বা সৌন্দর্য নিয়ে প্রায়শই নানা কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়, আর সেই সংকীর্ণ মানসিকতাকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এআই প্রযুক্তি। এসব ভার্চুয়াল কমেডিয়ানের রূপ ও আবেদন এতটাই নিখুঁত করা হয় যে তা খুব সহজেই সাধারণ দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফলে বহু ক্ষেত্রে মূল শিল্পীর আকর্ষণীয় পারফরম্যান্সের চেয়েও এআই নির্মিত আবেদনময়ী চরিত্রগুলো বেশি দর্শক টেনে নেয়। এমনকি এই ভিডিওগুলোতে কৃত্রিম দর্শকের হাসি বা করতালির শব্দ যুক্ত করে মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিকেও ম্যানিপুলেট করা হচ্ছে, যা দর্শকদের মানসিকতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

শিল্পীদের এই উদ্বেগের বিপরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা কার্যকর সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রভাবশালী প্রযুক্তি কর্তাব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে এআইয়ের এই রথযাত্রা সম্পূর্ণ বন্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়, যদিও তারা মূল শিল্পীদের অধিকার সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে জোকস চুরি করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হলেও ভার্চুয়াল জগতের ক্ষেত্রে সেই সামাজিক জবাবদিহিতা বা লজ্জা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ফলে এই অনিয়ন্ত্রিত চর্চা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কৌতুকের মতো মৌলিক ও মানবিক শিল্পচর্চা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।