খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

মা-বাবাকে সালাতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার মার্জিত ও কার্যকর কৌশল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫:১২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মা-বাবাকে সালাতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার মার্জিত ও কার্যকর কৌশল

ব্যক্তিগতভাবে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি নিজ পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের পথে ডাকার বিষয়ে পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা সুরা ত্বহার ১৩২ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘আর তুমি তোমার পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দাও এবং তার ওপর অবিচল থাকো।’ তবে ছোট ভাইবোন কিংবা সন্তানদের খুব সহজে নামাজের তাগিদ দেওয়া গেলেও জন্মদাতা পিতা-মাতাকে এই বিষয়ে বলা অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। ইসলামে পিতামাতার মর্যাদা সবার ওপরে রাখা হয়েছে। এ কারণে তাঁদের কোনো ভুল শুধরে দেওয়া কিংবা ভালো কাজের পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়া প্রতিটি সন্তানের দায়িত্ব। মা-বাবাকে নামাজের প্রতি আহ্বান করার কিছু সুন্দর ও ফলপ্রসূ পদ্ধতি রয়েছে।

পিতা-মাতাকে নামাজের কথা বলার ক্ষেত্রে সন্তানের বাচনভঙ্গি ও আচরণ হতে হবে অত্যন্ত বিনম্র। তাঁদের ওপর কোনো অবস্থাতেই অভিভাবকত্ব বা শিক্ষকের ভাব প্রদর্শন করা যাবে না। সুরা বনি ইসরাইলের ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আর তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলো।’ নবী ইব্রাহিম (আ.) যখন তাঁর পিতা আজরকে ইমান ও সালাতের দাওয়াত দিয়েছিলেন, তখন তিনি অত্যন্ত মিষ্টভাষায় বারবার ‘হে আমার প্রিয় পিতা’ বলে সম্বোধন করতেন, যা সুরা মারইয়ামের ৪২ থেকে ৪৫ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম কুরতুবি তাঁর ‘আল-জামি লি–আহকামিল কুরআন’ (১১ত/৯৫, দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ, কায়রো, ১৯৬৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, মা-বাবাকে কোনো সৎকাজের নির্দেশ কিংবা অসৎকাজ থেকে বারণের ক্ষেত্রে সন্তানের ভাষা হতে হবে অত্যন্ত বিনম্র; তাঁদের প্রতি কোনো রূঢ় আচরণ বা তিরস্কার করা চলবে না। তাঁরা যদি আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন বা ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তবুও সন্তানকে চুপ থেকে পূর্ণ সম্মান বজায় রাখতে হবে।

মানুষ মুখের উপদেশের চেয়ে বাস্তব কাজের মাধ্যমেই বেশি উদ্বুদ্ধ হয়। সন্তান নিয়মিত সালাত আদায়ের ফলে যদি নিজের মধ্যে ইতিবাচক রূপান্তর আনে এবং বাবা-মায়ের খেদমতে আরও আন্তরিক হয়, তবে তাঁরা উপলব্ধি করবেন যে নামাজই তাঁদের সন্তানকে এমন মানবিক করে তুলেছে। মুসনাদে আহমদের ৮৯৫২ নম্বর হাদিসে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই উত্তম চরিত্রই হলো শ্রেষ্ঠ নেক আমল।’ সদাচরণ হলো সবচেয়ে বড় নীরব আহ্বান। পাশাপাশি ঘরে একটি চমৎকার দ্বীনি পরিবেশ গড়ে তোলা যায়। সরাসরি বললে কখনো কখনো তাঁদের আত্মমর্যাদায় লাগতে পারে, তাই আজান শুনে উচ্চকণ্ঠে আজানের উত্তর দেওয়া কিংবা কোরআন তিলাওয়াত করার মতো কৌশল বেছে নেওয়া যেতে পারে। জায়নামাজে বসে সন্তানের অশ্রুসিক্ত মোনাজাত প্রত্যক্ষ করলেও বাবা-মায়ের হৃদয় নরম হতে পারে। এছাড়া কৌশল হিসেবে বলা যায়, ‘মা, ফজরের সময় আমাকে একটু ডেকে দিয়ো।’ এতে তাঁদের নিজেদের মাঝেও ওয়াক্তের ব্যাপারে একধরনের তাগিদ তৈরি হয়।

কারও হৃদয়ে হেদায়েত দান করা কেবলই আল্লাহর এখতিয়ার। প্রিয় চাচা আবু তালিবের ক্ষেত্রেও স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) হেদায়েত দেওয়ার সুযোগ পাননি। তাই মা-বাবার জন্য শেষরাতে রবের দরবারে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করা জরুরি। সুরা ইব্রাহিমের ৪০ নম্বর আয়াতে একটি অনন্য দোয়া শেখানো হয়েছে, ‘হে আমার প্রতিপালক, আমাকে নামাজ কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও।’ এ প্রসঙ্গে ইবনুল কাইয়িম আল-জাওজিয়া তাঁর ‘মাদারিজুস সালিকিন’ (১/২৩৫, দারুল কিতাব আল-আরাবি, বৈরুত, ১৯৯৬) গ্রন্থে লিখেছেন, মানুষের হৃদয়সমূহ আল্লাহর আঙুলগুলোর মাঝে অবস্থান করে; ফলে প্রকাশ্য প্রচেষ্টার চেয়ে রজনীর শেষভাগে আল্লাহর কাছে করা প্রার্থনা অন্তরে সবচেয়ে দ্রুত এবং অলৌকিক পরিবর্তন এনে দেয়।

মা-বাবাকে একবার কিংবা দুবার বলেই আশা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। কোনো কারণে তাঁরা বিরক্তি প্রকাশ করলে বা বকা দিলে কোনো অবস্থাতেই বিতর্কে জড়ানো যাবে না। কুফর বা শিরকের আদেশ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে তাঁদের অনুগত থাকার তাগিদ রয়েছে এবং কোনো অবস্থাতেই দুর্ব্যবহারের সুযোগ নেই। সুরা লুকমানের ১৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর যদি তারা তোমাকে আমার সঙ্গে এমন কিছু শরিক করতে পীড়াপীড়ি করে, যার কোনো জ্ঞান তোমার নেই, তবে তুমি তাদের কথা মেনো না; কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করো।’ মূলত মা-বাবাকে নামাজের পথে আনার চেষ্টা একটি ধৈর্যশীল ও ভালোবাসাপূর্ণ অভিযাত্রা। কোনো ধরনের জোরজবরদস্তি না করে অকৃত্রিম মমতা, একনিষ্ঠ সেবা এবং অবিরাম দোয়ার মাধ্যমেই তাঁদের মনকে নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব।

advertisement
advertisement

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে তিন বিচারককে পদায়ন কেন বেআইনি নয়

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে তিন বিচারককে পদায়ন কেন বেআইনি নয়

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে তিন বিচারককে পদায়ন কেন বেআইনি নয়

আইন-আদালত ডেস্ক: বিচার বিভাগীয় তিন কর্মকর্তাকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সংবিধান ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী কি না, তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রশ্ন তুলেছে উচ্চ আদালত। সম্প্রতি বিচারপতি মো. তৌফিক ইনাম ও বিচারপতি মাহমুদ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই বিষয়ে রুল জারি করেছেন।

আদালতের এই আদেশের ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বাহী বিভাগের সাথে এর সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান যে বিচারকদের এ ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত করা বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শুনানি শেষে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে এই নিয়োগের পেছনের আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারকদের এই ধরনের প্রেষণে নিয়োগ অতীতেও বিভিন্ন মহলে প্রশ্নবিদের জন্ম দিয়েছিল, যার ফলে বর্তমান আইনি লড়াইটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে এই নিয়োগের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আরও বিস্তারিত যুক্তি উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আদালতের এই রুল জারির মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্বের সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিচারকদের নির্বাহী দায়িত্ব পালনের এই প্রবণতা বন্ধে উচ্চ আদালতের এই পদক্ষেপ বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আশাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

আইন-আদালত ডেস্ক: বিচারিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা এবং অফিসের সময় মেনে না চলার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কনফারেন্স রুমে দেশের প্রথম ই পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। বিচারকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে দেরিতে আদালতে প্রবেশ এবং দুপুর গড়ার আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করার যে অভিযোগ রয়েছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আদালতের নির্ধারিত সময় সঠিকভাবে পালন না করার অভিযোগ পাওয়া যায়, যা বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়। কোনো বিচারক যদি সকাল ১১টায় এসে মাত্র দুই ঘণ্টা কাজ শেষ করে চলে যান, তবে সেই অনিয়ম কোনোভাবেই চলতে পারে না। এ সময় কড়া ভাষায় তিনি উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধার সুযোগ রাখা হবে না এবং কাজের প্রতি অবহেলা বন্ধ করতে হবে।

তরুণ বিচারকদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মের বিচারকরা যথেষ্ট মেধাবী ও স্মার্ট। বিচারব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার মূর্ত প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই এবং ডিজিটাল যুগের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ বিচারকদের আরও বেশি দক্ষ ও দূরদর্শী হতে হবে। মামলার জট কমানোর বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে সাড়ে ছেচল্লিশ লাখের বেশি মামলা ঝুল রয়েছে, যা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে বিচারকদের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হচ্ছে। এই বিচারিক চাপ হ্রাসে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিচারপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও জনবান্ধব করার অংশ হিসেবে দেশে প্রথমবারের মতো ই পারিবারিক আপিল আদালত চালু করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এর আগে গত বছরের শেষের দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডিজিটাল পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। মূলত বিচারব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং কাগজের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই আধুনিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং শিশুর অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত পাঁচ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক মামলা ডিজিটালি পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীসহ ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিচারালয়ে ই-বেইল বন্ড, ডিজিটাল সাক্ষ্যগ্রহণ ও হাজিরা পদ্ধতি চালুর ফলে সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন। বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে ভবিষ্যতে আরও নতুন ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক: পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং মানবিক গুণাবলি ধারণ করে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার জন্য পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গত ২৯ অক্টোবর রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের ছয় মাসমেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ উপলক্ষে এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নবীন কর্মকর্তাদের এই মিলনমেলায় পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ বাহিনীর প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং সেবাপ্রত্যাশী প্রতিটি নাগরিককে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করতে হবে। সব ধরনের ভয়ভীতি, প্রলোভন ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে জনমানুষের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। মানুষের পাশে থেকে তাদের হৃদয় জয় করার মাধ্যমেই কেবল সত্যিকার অর্থে একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা অন্যতম বলেও জানান তিনি।

অতীতের বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক, দক্ষ এবং মানবিক বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠনের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান যে, বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যানবাহন ক্রয়, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সরবরাহের মতো বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষা ও নানা আইনি প্রক্রিয়া পেরিয়ে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করা নবীন কর্মকর্তাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে কোনো ধরনের বৈষম্য ও অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

বর্তমান সময়ের অপরাধ জগতের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন যে, প্রথাগত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা এবং মানবপাচারের মতো বিষয়গুলো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই জটিল অপরাধসমূহ সফলভাবে দমন করতে হলে কেবল গতানুগতিক অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিজিটাল ফরেনসিকের সাহায্য নিতে হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পেশিশক্তি বা পক্ষপাতিত্বের পথ পরিহার করে শতভাগ পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালনকারী এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সম্মাননা পদক ও পুরস্কার তুলে দেন। ২৭তম সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচ মিলিয়ে মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মজীবন শুরু করলেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও পুলিশ সদস্যদের কাজের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। পরিশেষে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে নবীন কর্মকর্তাদের দেশের নিরাপত্তায় একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।