ইসরায়েলে আরব দলগুলোর রেকর্ড জয়ের মুখে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির ভোট চুরির নালিশ
পরিবার নিয়ে ভোট দিচ্ছেন ‘জয়েন্ট লিস্ট’ পার্টির ফিলিস্তিনি প্রার্থী আহমেদ তিবি। উত্তর ইসরায়েলের আরব অধ্যুষিত তাইবে গ্রাম, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে আরব দলগুলো নজিরবিহীন সাফল্য পাওয়ায় এবং সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাদের ‘কিংমেকার’ হয়ে ওঠার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতেই ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। নির্বাচন ঘিরে বড় ধরনের কারচুপি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের দাবি তুলে দলটি পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকে দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করানোর জোর দাবি জানিয়েছে। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটে আরবদের দুই রাজনৈতিক দল ‘রা’আম’ ও ‘জয়েন্ট লিস্ট’ রেকর্ড সমর্থন পেয়েছে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুসারে, তারা দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে ১৯টি আসন পেতে পারে, যা তাদের বর্তমান যৌথ আসনসংখ্যা ১০টির প্রায় দ্বিগুণ।
নির্বাচনের এমন সমীকরণে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে নেতানিয়াহুর শিবির এবং বিরোধী ইহুদি দলগুলো—উভয় পক্ষই অনেকটা দূরে অবস্থান করছে। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা রয়েছে যে, নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিপক্ষ গাদি আইজেনকট আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নতুন প্রশাসন গড়ে তুলতে পারেন। নির্বাচনের প্রচারণার শুরু থেকেই নেতানিয়াহু ও তার দল এমন যেকোনো উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে লিকুদ পার্টি অভিযোগ তোলে, যেসব আরব দল সন্ত্রাসবাদ ও ইহুদি রাষ্ট্র ধ্বংসের পক্ষে, তারাই এই নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে। ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ লেনদেন, হুমকি, নাশকতা, জালিয়াতি এবং অননুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ এনে পুলিশ, শিন বেত ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) কাছে শত শত তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার কথা জানায় দলটি। এসব প্রমাণের মধ্যে অর্থভর্তি খাম, ভুয়া ভোট প্রদান এবং ভোটকেন্দ্রে গোলযোগের নথিপত্র রয়েছে বলে দাবি করা হয়। উত্তর ইসরায়েলের আরব শহর উম্ম আল-ফাহম ও তাইবে গ্রামসহ জেরুজালেমের বিভিন্ন কেন্দ্রে ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণের দিন থেকেই নানা চিত্র উঠে আসছিল, যেখানে খোদ নেতানিয়াহুও ভোট দেওয়ার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন।
তবে লিকুদ পার্টির এই অভিযোগের মুখে টেলিভিশনের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা ভোট জালিয়াতির দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। সিইসি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিধিমালার অংশ হিসেবেই দলগুলোর আনীত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে দেশটির হিব্রু সংবাদমাধ্যমগুলোতেও আভাস দেওয়া হয়েছিল যে, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মিললে লিকুদ পার্টি আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোট চুরির অভিযোগ তোলার ছক এঁকে রেখেছে। বুধবার সন্ধ্যা অবধি ৮৫ শতাংশেরও বেশি ভোট গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর দেখা যায়, জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং রাম ৭টি আসনে জয় পেতে চলেছে। অপরদিকে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি এবং আইজেনকট ও তার সহযোগীরা ৪৮টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। উদ্ভূত রাজনৈতিক জটিলতায় রাম দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়োভ সেগালোভিৎজ জানিয়েছেন, আরব জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করার শর্তে তারা পরবর্তী সরকারে যোগ দিতে প্রস্তুত। এদিকে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে বিরোধী বামপন্থি দল ডেমোক্র্যাটসের প্রধান ইয়ার গোলান ‘পরিবর্তনকামী জোটে’র প্রতি রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টকে নিয়ে ইহুদি-আরব যৌথ সরকার গঠনের এক বিরল আহ্বান জানিয়েছেন।





আপনার মতামত লিখুন