খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

পাপের প্রকৃত অর্থ, মানবজীবনে এর কুফল ও তা নির্ধারণের ইসলামি দর্শন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাপের প্রকৃত অর্থ, মানবজীবনে এর কুফল ও তা নির্ধারণের ইসলামি দর্শন

আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি ধারা রয়েছে, যেখানে শৈশবে শিশুদের অযৌক্তিক অপরাধবোধ ও আতঙ্কের আবহে বড় করা হয়। সামান্য ভুলের জন্যও বলা হয়ে থাকে যে আল্লাহ কষ্ট পাচ্ছেন কিংবা ফেরেশতারা লজ্জিত হচ্ছেন। এমনকি অনেক বক্তার কণ্ঠেও শোনা যায়, কোনো মানুষ অপরাধ করলে নাকি আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে। পাপ থেকে মানুষকে দূরে রাখার নিয়তে এমন কথা বলা হলেও তা বড় ধরনের দার্শনিক বিভ্রান্তি তৈরি করে; কারণ মহান আল্লাহ মানুষের ভুলে কষ্ট পাওয়ার মতো কোনো দুর্বল সত্তা নন। ইসলামের মূল বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ ‘আল-সামাদ’ ও ‘আল-গনি’—তিনি সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। মানুষের আনুগত্য বা ইবাদত তাঁর কোনো অভাব মেটায় না, আবার সৃষ্টির কোনো পাপ বা অমান্যতায় তাঁর বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয় না। সব মানুষ ধর্মপরায়ণ হলেও তাঁর সম্মান বাড়ে না, আবার সবাই অবাধ্য হলেও তাঁর ক্ষমতার কোনো হ্রাস ঘটে না। সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর সংরক্ষক; তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনের সবকিছুর তিনিই মালিক এবং তাঁর অনুমতি ব্যতীত কারও সুপারিশ করার ক্ষমতা নেই। তিনি সৃষ্টির অগ্র-পশ্চাত সবকিছু জানেন, অথচ তাঁর ইচ্ছার বাইরে তাঁর জ্ঞানের কিছুই মানুষ জানতে পারে না। তাঁর কুরসি আসমান-জমিন জুড়ে বিস্তৃত এবং এগুলোর সুরক্ষা তাঁর জন্য কঠিন নয়; তিনি পরম উচ্চ ও মহান। ইমাম গাজালি তাঁর ‘ইহয়াউ উলুমিদ্দিন’ গ্রন্থে (১/১৬৫, দারুল মারিফাহ, বৈরুত, ১৯৮২) উল্লেখ করেছেন, বিশ্বজগতের সমস্ত উপাসনার ঊর্ধ্বে আল্লাহর অবস্থান; মানুষের ইবাদতের কোনো প্রয়োজন তাঁর নেই, বরং তা মানুষের নিজের আত্মার শান্তি ও সুস্থতার মাধ্যম।

আল্লাহ যখন আমাদের কোনো আমলের মুখাপেক্ষী নন এবং আমাদের পাপে তাঁর ক্ষতি হয় না, তখন প্রশ্ন ওঠে—পাপ মূলত কী? পাপ কোনো আবেগপ্রবণ সত্তার অসন্তুষ্টি নয়, বরং তা এমন সব কর্ম যা মানুষের নিজের, পরিবারের কিংবা সমাজজীবনের মারাত্মক ক্ষতি ও বিনাশ ডেকে আনে। পরম করুণাময় আল্লাহ মানবজাতিকে এমন সব ধ্বংসাত্মক ফাঁদ সম্পর্কেই সতর্ক করেছেন। যেমন—মদপান, জুয়া, ব্যভিচার, চুরি কিংবা অন্যায়ভাবে হত্যার মতো মহাপাপগুলো শুরুতে ক্ষণস্থায়ী তৃপ্তি বা আনন্দ দিলেও পরিণামে শারীরিক ব্যাধি, পারিবারিক বিপর্যয়, আর্থিক নিঃস্বতা ও সামাজিক বিভেদ ডেকে আনে। নিজের ক্ষতি হলে অন্যের কী সমস্যা—এমন ধারণার বিপরীতে ইসলাম শেখায়, মানুষ নিজের দেহেরও চূড়ান্ত মালিক নয়, বরং তার স্রষ্টা আল্লাহ। সুরা তুরের ৩৫ নম্বর আয়াতে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, মানুষ কি কোনো কিছু ছাড়া এমনিতেই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের সৃষ্টিকর্তা? এ বিষয়ে ড. তারিক রমাদান তাঁর ‘ইন দ্য ফুটস্টেপস অব দ্য প্রফেট’ বইয়ে (পৃষ্ঠা ৪৫, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, নিউইয়র্ক, ২০০৭) লিখেছেন, নিজের সৃষ্টি ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে যেহেতু মানুষকে স্রষ্টার ওপর নির্ভর করতে হয়, সেহেতু নিজের শরীর বা আত্মাকে ক্ষতিকর কাজে নিয়োজিত করে ধ্বংসের অধিকার তার নেই। একইভাবে কুফর ও শিরক সরাসরি শারীরিক ক্ষতি না করলেও তা মানুষকে জীবনের মূল লক্ষ্য—স্রষ্টাকে জানার মাধ্যমে আত্মিক প্রশান্তি লাভ—থেকে পুরোপুরি বিচ্যুত করে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। তাই পরম সত্যকে অস্বীকার করা নিজের আত্মার প্রতি করা সবচেয়ে বড় অবিচার ও পাপ।

কোনো কাজ আসলেই পাপ কি না, তা যাচাইয়ের মূল মানদণ্ড হলো ‘মাসলাহা’ বা জনকল্যাণ। ইমাম আল-গাজালি তাঁর ‘আল-মুসতসফা মিন ইলম আল-উসুল’ গ্রন্থে (১/২৮৬-২৮৭, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়াহ, বৈরুত) উল্লেখ করেন, শরিয়তের সমস্ত নির্দেশনার উদ্দেশ্য পাঁচটি মৌলিক বিষয়ের হেফাজত নিশ্চিত করা—ধর্ম, জীবন, বংশধারা বা প্রজনন, সম্পদ এবং বিবেক বা বুদ্ধি। এই পাঁচটির যেকোনো একটির জন্য ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক প্রতিটি বিষয়ই ইসলামে পাপ হিসেবে গণ্য। বিখ্যাত ইসলামি আইনতাত্ত্বিক তাহির ইবনে আশুর তাঁর ‘মাকাসিদ আল-শরিয়াহ আল-ইসলামিয়াহ’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ২৫১, মিনহাজ আদ-দিরাসা, কায়রো) স্পষ্ট করেছেন, মানবজাতির ব্যক্তিগত ও যৌথ ক্ষতি রোধ করাই ইসলামি বিধানের লক্ষ্য। সুতরাং, সুস্থ বিবেক এবং কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনায় যা কিছু এই মৌলিক কল্যাণ বিনষ্ট করে, তা-ই নিশ্চিতভাবে পাপ। তবে ভুলপ্রবণ মানুষকে ইসলাম কখনো ফেরেশতাতুল্য ভাবেনি। জীবনে বিচ্যুতি ঘটলেও ইসলাম মানুষকে হতাশ হতে বারণ করে তওবার পথ উন্মুক্ত রেখেছে। সুরা বাকারার ২২২ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে, আল্লাহ তওবাকারীদের এবং যারা পবিত্র থাকে তাদের ভালোবাসেন। পাশাপাশি সহিহ বুখারির ৬৩০৮ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, কোনো বান্দা অনুতপ্ত হয়ে তওবা করলে আল্লাহ মরুপ্রান্তরে হারিয়ে যাওয়া বাহন ও খাদ্য-রসদ ফিরে পাওয়া মুসাফিরের চেয়েও অধিক আনন্দিত হন।

advertisement
advertisement

জার্মানির ফুলডা ইউনিভার্সিটিতে বিএসআইএফের নবীনবরণ ‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’ সম্পন্ন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জার্মানির ফুলডা ইউনিভার্সিটিতে বিএসআইএফের নবীনবরণ ‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’ সম্পন্ন

‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’-এ আগত নতুন শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই ও আয়োজকেরা

জার্মানির ফুলডা ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসে অধ্যয়নরত প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশি স্টুডেন্ট ইন ফুলডা’ (বিএসআইএফ)-এর উদ্যোগে উদযাপিত হয়েছে ‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’। গত ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগে সদ্য ভর্তি হওয়া প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়। উল্লেখ্য, নবাগত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিএসআইএফ প্রতিবছর গ্রীষ্ম ও শীত—এই দুই সেশনেই নিয়মিত ওরিয়েন্টেশন সভার আয়োজন করে থাকে।

দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকাল ১১টায় নিবন্ধন এবং আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা জানানোর মাধ্যমে। আয়োজনের শুরুতেই নতুন শিক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়। মূল পর্বে বিএসআইএফের পরিচিতি, লক্ষ্য ও বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি জার্মানিতে দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা সংক্রান্ত নানা জরুরি দিকনির্দেশনা নবাগতদের সামনে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ক্যারিয়ার বিষয়ক একটি অধিবেশন। এতে ফুলডা ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করে বর্তমানে জার্মানিতে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত চারজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী অনলাইন ও সরাসরি উপস্থিত হয়ে অংশ নেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণার পাশাপাশি জার্মানিতে পড়াশোনা শেষে পেশাগত জীবনের নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন।

আলোচনা পর্ব শেষে শিঙাড়া, সমুচা, চা, কুকিজ ও জুস সহযোগে একটি আড্ডা ও স্ন্যাক্স পর্বের আয়োজন করা হয়। এই নেটওয়ার্কিং সেশনে নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তনদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাববিনিময় ঘটে। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি টানা হয়। বিএসআইএফের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয় যে, প্রবাসে স্বদেশি সংস্কৃতির সেতুবন্ধন রক্ষা করা এবং নবাগত শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করতে সংগঠনটি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।

না ফেরার দেশে সাবেক বিসিবি পরিচালক ও ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদ জামাল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
না ফেরার দেশে সাবেক বিসিবি পরিচালক ও ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদ জামাল

মাহমুদ জামাল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদ জামাল আর নেই। শনিবার রাজশাহীতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। গত কয়েক বছর যাবৎ তিনি বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ মাহমুদ জামাল চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্রীড়া উন্নয়ন ও প্রসারে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) নির্বাহী সদস্য হিসেবেও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাহমুদ জামাল ২০০৫ ও ২০০৮ সালে দুই মেয়াদে বিসিবির পরিচালকের দায়িত্ব সামলান। সে সময় তাঁর সহকর্মী হিসেবে কাজ করা বর্তমান বিসিবি নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছেন। অনেক ভালো ভালো কাজ করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য উনার অনেক অবদান আছে। এককথায় বললে উনি অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। রাজশাহীর ক্রিকেটের জন্যও অনেক কাজ করেছেন। আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসীব করেন।’ বর্ষীয়ান এই ক্রীড়া সংগঠকের মৃত্যুতে বিসিবি গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। এদিকে ক্যানসারে আক্রান্ত পেসার হৃদয়ও মারা গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকির মুখে রণকৌশল বদলাচ্ছে ইরান, নতুন সংঘাতের শঙ্কা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকির মুখে রণকৌশল বদলাচ্ছে ইরান, নতুন সংঘাতের শঙ্কা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির প্রতিকৃতির নিচে দাঁড়িয়ে যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ইরানের রাজধানী তেহরান, ২১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালালে শুধু পাল্টা জবাব দিয়েই শান্ত থাকবে না তেহরান; বরং প্রয়োজনে আশপাশের দেশগুলোতে অভিযান পরিচালনা এবং মার্কিন অভিযানে ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোতেও আক্রমণ করা হবে। নিজেদের প্রতিরক্ষানীতি পরিবর্তনের কথা জানিয়ে এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। গত বুধবার ঘোষিত এই নতুন নীতিকে তারা ‘আক্রমণাত্মক ও অসমতাভিত্তিক’ আখ্যা দিয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি জানান, অতীতে তাদের নীতি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক ছিল এবং আক্রমণের শিকার হলেই কেবল জবাব দেওয়া হতো। তবে বর্তমান নীতি অনুযায়ী তারা শুধু জবাবই দেবে না, পাল্টা আক্রমণও শুরু করবে। মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সংখ্যা প্রকাশ না করলেও তা দেড় গুণ বাড়ানো হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পরিধি, বিধ্বংসী ক্ষমতা এবং নির্ভুলতা বহুলাংশে বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘ফাদার অব অল বম্বস’ বা সব বোমার জনক নামের অভিনব এক মারণাস্ত্র প্রকাশ্যে আনার প্রস্তুতিও চলছে।

এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এল, যখন সংঘাত নিরসনে আট মাসব্যাপী কূটনৈতিক উদ্যোগ থমকে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে ফের আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন খবরে জানা যাচ্ছে। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জাহাজে হামলার ঘটনা নতুন করে তীব্র হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আইআরজিসির নৌবাহিনী দাবি করে, উত্তর পারস্য উপসাগরে অবৈধভাবে জ্বালানি স্থানান্তরে লিপ্ত চারটি জাহাজে আঘাত হানা হলে সেগুলোতে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া হরমুজের পশ্চিমে আরও তিনটি জাহাজ সামুদ্রিক মাইনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর জানায় তারা। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। পরে বিকল্প উপায়ে তা যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরলেও সাম্প্রতিক সহিংসতায় নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর লড়াই এবং সৌদি আরবে হুতিদের অব্যাহত হামলা।

চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত বুধবার সৌদি আরবে কর্মরত তাদের অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কর্মী ও তাঁদের স্বজনদের দেশটি ত্যাগের নির্দেশ জারি করে। মুখপাত্র টমি পিগট স্পষ্ট করেন যে এটি উপসাগরীয় সব অঞ্চলের জন্য নয়, কেবল সৌদি আরবের মিশনের জন্য প্রযোজ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাউথ ক্যারোলাইনার এক নির্বাচনী জমায়েতে সাংবাদিকদের জানান, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রয়েছে এবং খুব দ্রুত কোনো না কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না করার বিষয়ে আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, হরমুজে বাণিজ্যিক নৌযানে হামলা বন্ধ না হলে চুক্তি অসম্ভব এবং উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথ করে দেয়, এমন কোনো সমঝোতা ওয়াশিংটন মানবে না। বিপরীত পক্ষে এনপিটি চুক্তির আওতায় সমৃদ্ধকরণের অধিকার দাবি করে সাত দিনের একটি জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকীকরণ পরিকল্পনা দিয়েছে ইরান, যার বিনিময়ে মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ অর্থ ছাড়ের শর্ত রাখা হয়েছে। এদিকে আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের মুখে থাকা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রোববার ইরানের সরকার পতনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি ও ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

বিশ্লেষকদের অভিমত, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে তেহরান নিশ্চিত করতে চাইছে যেন যেকোনো আক্রমণের জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে চরম মূল্য দিতে হয়। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোর্তাজাভি জানান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও হরমুজের ভূকৌশলগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে অসম যুদ্ধের মাধ্যমে ইরান মার্কিন প্রশাসনের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে চায়, যা ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর কারণ হতে পারে। আরব সেন্টারের ফেলো রামি খুরি মন্তব্য করেন, ইরান এই সংঘাতের বিস্তার নিজ সীমানার বাইরে নিয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ও সহযোগী দেশগুলোকেও ক্ষতির অংশীদার করতে চায়, যার আঁচ পড়বে জ্বালানি, পরিবহন ও বিশ্ব অর্থনীতিতে। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ি স্পষ্ট করে বলেছেন, যেকোনো পদক্ষেপের চড়া মূল্য দিতে হবে; তবে তেহরান কূটনীতিকে প্রাধান্য দিলেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।