খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

জ্ঞানেশ কুমারের পর নিশানায় মোদি ও অমিত শাহ, লড়াই চলবে: শীর্ষ আদালতমুখী মিছিলে রাহুল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জ্ঞানেশ কুমারের পর নিশানায় মোদি ও অমিত শাহ, লড়াই চলবে: শীর্ষ আদালতমুখী মিছিলে রাহুল

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদলে তৈরি একটি পুতুল হাতে নিয়ে হাঁটছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। বিরোধী দলের নেতাদের নিয়ে তিনি বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল করেন। নয়াদিল্লি

ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা। একই ইস্যুতে এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে শীর্ষ আদালত অভিমুখে এক বিশাল পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে অংশ নেন কয়েক হাজার মানুষ। ওই মিছিলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের দাবি জানান। শীর্ষ আদালতে দায়ের করা আবেদনে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে নালিশ জানানো হয় যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম অবৈধভাবে কর্তনসহ নানা অসংগতি তৈরি করা হয়েছে।

তিলক মার্গ ধরে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে রওনা হওয়া বিক্ষোভকারীদের মিছিলটি ভগবান দাস রোডে পৌঁছালে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের পথরোধ করে। এর ফলে মিছিলটি শীর্ষ আদালত চত্বরে যেতে পারেনি এবং কয়েক হাজার মানুষ ভগবান দাস রোড ও এর আশপাশের রাস্তায় জড়ো হয়ে থাকেন। কর্মসূচি শুরুর পূর্বে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আলাদা কোনো প্রতিবাদ নেই। জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর জন্য একটিই প্রতিবাদ চলছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহের পালা। আমরা থামব না।’ কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতার দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের নির্দেশে ও চাপে দায়িত্ব পালন করছেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বিতর্কিত এই ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ আদালতমুখী এ জমায়েত হয়।

এর আগে গত রবিবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উদ্দেশ্যে নতুন তারিখ চেয়ে দিল্লি পুলিশকে চিঠি পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড—এই তিনটি বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে আজ সোমবার বিকেল চারটা পর্যন্ত দিল্লির ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। এই স্টেশনগুলো হলো—জনপথ, মান্ডি হাউস, বারাখাম্বা রোড, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক এবং প্যাটেল চক। তবে দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন নিশ্চিত করেছে যে স্টেশনগুলোতে এক লাইন থেকে অন্য লাইনে যাওয়ার ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা সচল ছিল। সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দেয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। উল্লেখ্য, গতকালই সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন দিল্লির মেট্রো পরিষেবা ও ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখা হয় এবং যেকোনো বিধিনিষেধ যেন সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদে বর্ণিত জনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।

advertisement
advertisement

জার্মানির ফুলডা ইউনিভার্সিটিতে বিএসআইএফের নবীনবরণ ‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’ সম্পন্ন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জার্মানির ফুলডা ইউনিভার্সিটিতে বিএসআইএফের নবীনবরণ ‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’ সম্পন্ন

‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’-এ আগত নতুন শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই ও আয়োজকেরা

জার্মানির ফুলডা ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসে অধ্যয়নরত প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশি স্টুডেন্ট ইন ফুলডা’ (বিএসআইএফ)-এর উদ্যোগে উদযাপিত হয়েছে ‘উইন্টার ওরিয়েন্টেশন ২০২৬’। গত ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগে সদ্য ভর্তি হওয়া প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়। উল্লেখ্য, নবাগত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিএসআইএফ প্রতিবছর গ্রীষ্ম ও শীত—এই দুই সেশনেই নিয়মিত ওরিয়েন্টেশন সভার আয়োজন করে থাকে।

দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকাল ১১টায় নিবন্ধন এবং আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা জানানোর মাধ্যমে। আয়োজনের শুরুতেই নতুন শিক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়। মূল পর্বে বিএসআইএফের পরিচিতি, লক্ষ্য ও বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি জার্মানিতে দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা সংক্রান্ত নানা জরুরি দিকনির্দেশনা নবাগতদের সামনে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ক্যারিয়ার বিষয়ক একটি অধিবেশন। এতে ফুলডা ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করে বর্তমানে জার্মানিতে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত চারজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী অনলাইন ও সরাসরি উপস্থিত হয়ে অংশ নেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণার পাশাপাশি জার্মানিতে পড়াশোনা শেষে পেশাগত জীবনের নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন।

আলোচনা পর্ব শেষে শিঙাড়া, সমুচা, চা, কুকিজ ও জুস সহযোগে একটি আড্ডা ও স্ন্যাক্স পর্বের আয়োজন করা হয়। এই নেটওয়ার্কিং সেশনে নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তনদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাববিনিময় ঘটে। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি টানা হয়। বিএসআইএফের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয় যে, প্রবাসে স্বদেশি সংস্কৃতির সেতুবন্ধন রক্ষা করা এবং নবাগত শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করতে সংগঠনটি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।

না ফেরার দেশে সাবেক বিসিবি পরিচালক ও ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদ জামাল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
না ফেরার দেশে সাবেক বিসিবি পরিচালক ও ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদ জামাল

মাহমুদ জামাল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদ জামাল আর নেই। শনিবার রাজশাহীতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। গত কয়েক বছর যাবৎ তিনি বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ মাহমুদ জামাল চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্রীড়া উন্নয়ন ও প্রসারে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) নির্বাহী সদস্য হিসেবেও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাহমুদ জামাল ২০০৫ ও ২০০৮ সালে দুই মেয়াদে বিসিবির পরিচালকের দায়িত্ব সামলান। সে সময় তাঁর সহকর্মী হিসেবে কাজ করা বর্তমান বিসিবি নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছেন। অনেক ভালো ভালো কাজ করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য উনার অনেক অবদান আছে। এককথায় বললে উনি অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। রাজশাহীর ক্রিকেটের জন্যও অনেক কাজ করেছেন। আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসীব করেন।’ বর্ষীয়ান এই ক্রীড়া সংগঠকের মৃত্যুতে বিসিবি গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। এদিকে ক্যানসারে আক্রান্ত পেসার হৃদয়ও মারা গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকির মুখে রণকৌশল বদলাচ্ছে ইরান, নতুন সংঘাতের শঙ্কা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকির মুখে রণকৌশল বদলাচ্ছে ইরান, নতুন সংঘাতের শঙ্কা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির প্রতিকৃতির নিচে দাঁড়িয়ে যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ইরানের রাজধানী তেহরান, ২১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালালে শুধু পাল্টা জবাব দিয়েই শান্ত থাকবে না তেহরান; বরং প্রয়োজনে আশপাশের দেশগুলোতে অভিযান পরিচালনা এবং মার্কিন অভিযানে ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোতেও আক্রমণ করা হবে। নিজেদের প্রতিরক্ষানীতি পরিবর্তনের কথা জানিয়ে এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। গত বুধবার ঘোষিত এই নতুন নীতিকে তারা ‘আক্রমণাত্মক ও অসমতাভিত্তিক’ আখ্যা দিয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি জানান, অতীতে তাদের নীতি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক ছিল এবং আক্রমণের শিকার হলেই কেবল জবাব দেওয়া হতো। তবে বর্তমান নীতি অনুযায়ী তারা শুধু জবাবই দেবে না, পাল্টা আক্রমণও শুরু করবে। মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সংখ্যা প্রকাশ না করলেও তা দেড় গুণ বাড়ানো হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পরিধি, বিধ্বংসী ক্ষমতা এবং নির্ভুলতা বহুলাংশে বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘ফাদার অব অল বম্বস’ বা সব বোমার জনক নামের অভিনব এক মারণাস্ত্র প্রকাশ্যে আনার প্রস্তুতিও চলছে।

এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এল, যখন সংঘাত নিরসনে আট মাসব্যাপী কূটনৈতিক উদ্যোগ থমকে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে ফের আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন খবরে জানা যাচ্ছে। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জাহাজে হামলার ঘটনা নতুন করে তীব্র হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আইআরজিসির নৌবাহিনী দাবি করে, উত্তর পারস্য উপসাগরে অবৈধভাবে জ্বালানি স্থানান্তরে লিপ্ত চারটি জাহাজে আঘাত হানা হলে সেগুলোতে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া হরমুজের পশ্চিমে আরও তিনটি জাহাজ সামুদ্রিক মাইনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর জানায় তারা। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। পরে বিকল্প উপায়ে তা যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরলেও সাম্প্রতিক সহিংসতায় নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর লড়াই এবং সৌদি আরবে হুতিদের অব্যাহত হামলা।

চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত বুধবার সৌদি আরবে কর্মরত তাদের অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কর্মী ও তাঁদের স্বজনদের দেশটি ত্যাগের নির্দেশ জারি করে। মুখপাত্র টমি পিগট স্পষ্ট করেন যে এটি উপসাগরীয় সব অঞ্চলের জন্য নয়, কেবল সৌদি আরবের মিশনের জন্য প্রযোজ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাউথ ক্যারোলাইনার এক নির্বাচনী জমায়েতে সাংবাদিকদের জানান, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রয়েছে এবং খুব দ্রুত কোনো না কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না করার বিষয়ে আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, হরমুজে বাণিজ্যিক নৌযানে হামলা বন্ধ না হলে চুক্তি অসম্ভব এবং উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথ করে দেয়, এমন কোনো সমঝোতা ওয়াশিংটন মানবে না। বিপরীত পক্ষে এনপিটি চুক্তির আওতায় সমৃদ্ধকরণের অধিকার দাবি করে সাত দিনের একটি জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকীকরণ পরিকল্পনা দিয়েছে ইরান, যার বিনিময়ে মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ অর্থ ছাড়ের শর্ত রাখা হয়েছে। এদিকে আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের মুখে থাকা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রোববার ইরানের সরকার পতনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি ও ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

বিশ্লেষকদের অভিমত, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে তেহরান নিশ্চিত করতে চাইছে যেন যেকোনো আক্রমণের জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে চরম মূল্য দিতে হয়। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোর্তাজাভি জানান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও হরমুজের ভূকৌশলগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে অসম যুদ্ধের মাধ্যমে ইরান মার্কিন প্রশাসনের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে চায়, যা ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর কারণ হতে পারে। আরব সেন্টারের ফেলো রামি খুরি মন্তব্য করেন, ইরান এই সংঘাতের বিস্তার নিজ সীমানার বাইরে নিয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ও সহযোগী দেশগুলোকেও ক্ষতির অংশীদার করতে চায়, যার আঁচ পড়বে জ্বালানি, পরিবহন ও বিশ্ব অর্থনীতিতে। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ি স্পষ্ট করে বলেছেন, যেকোনো পদক্ষেপের চড়া মূল্য দিতে হবে; তবে তেহরান কূটনীতিকে প্রাধান্য দিলেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।