খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

একতরফা সংবাদ প্রকাশ না করায় সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িতে রাতভর হামলা-ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
একতরফা সংবাদ প্রকাশ না করায় সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িতে রাতভর হামলা-ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ

মাদকবিরোধী ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি।

স্টাফ রিপোর্টার :
মাদকবিরোধী ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং
ময়মনসিংহ নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আকুয়া, হাজীবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় কথিত মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উত্তেজনাকে কেন্দ্র  করে দুই কথিত মাদক আস্তানায় এলাকাবাসীর হামলার ঘটনা নিয়ে একতরফা সংবাদ প্রকাশ না করায় সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িঘরে একাধিকবার চুরি ও সর্বশেষ রাতভর হামলা, ভাঙচুর এবং মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিক মারুফ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মাদকবিরোধী স্থানীয় ক্ষোভ ও দুই কথিত মাদক আস্তানায় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে তার বাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ সময় সাংবাদিক মারুফ হোসেনের  বাড়িঘরে হামলা ও হত্যার উদ্দেশ্য ব্যাপক গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং আশেপাশের বাড়ীঘর ও দোকানে ভাঙচুরের হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাতভর আতঙ্কের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে গুলিবর্ষণ, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফল এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মাদকবিরোধী ক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা বিরাজমান। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মিলনবাগ, সাতঘরিয়াপাড়া, হাজীবাড়ীসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের বেচাকেনার অভিযোগের পাশাপাশি কয়েকটি বাসাবাড়িতে চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও একটি চক্র জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের দাবি, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষের আনাগোনা দেখা যায় কথিত মাদক স্পটগুলোতে। এ কারণে এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক ব্যবসার অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত ব্যবস্থা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কথিত মাদক আস্তানায় স্থানীয়দের হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে হামলা, ভাঙচুর কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কথিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিষয়টি আড়াল করে পরবর্তী হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাকে সামনে এনে মূল বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।এলাকাবাসীর দাবি, মাদকবিরোধী ক্ষোভ কেন তৈরি হয়েছিল? কথিত মাদক স্পটগুলোতে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চলত? এবং স্থানীয়রা কেন সেখানে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন? এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইভাবে কোনো সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর বা গুলিবর্ষণের অভিযোগ থাকলেও সেটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেপা দিয়েছে। 
একজন সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, কোনো সংবাদ প্রকাশ বা কোনো ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকের অবস্থান পছন্দ না হলে তার জবাব হতে পারে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবাদ কিংবা আইনি প্রক্রিয়া; কিন্তু কোনোভাবেই হামলা, ভয়ভীতি বা সহিংসতার মাধ্যমে সংবাদকর্মীকে চাপে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।সাংবাদিক মারুফ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। 
সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্হানীয়রা এলাকাবাসী বলছেন, মাদক ব্যবসা কিংবা কথিত মাদক আস্তানার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্ত করতে পারেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা, অভিযোগের স্থানগুলো পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।তাদের দাবি, আকুয়া সহ আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হোক। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি হলেও কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই কার্যকর ও টেকসই পথ।একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি, সাংবাদিক কিংবা পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর বা গুলিবর্ষণের অভিযোগ থাকলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।এদিকে সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ এবং এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ উভয় বিষয়েই দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িতে রাতভর হামলার ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং মাদকসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
advertisement
advertisement

আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন ও শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা লাফ, শীর্ষে ব্যবধান বাড়ালেন রশিদ

তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ১৭ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করে ওয়ানডে বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করেছেন আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান। তার রেটিং পয়েন্ট ৭১৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪২-এ। বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের আবরার আহমেদের চেয়ে তিনি ৮০ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। শুধু বোলিং নয়, একদিনের ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও দুই ধাপ উন্নতি করে ষষ্ঠ স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন এই আফগান তারকা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও বিশ্বের এক নম্বর বোলার হিসেবে থাকা রশিদের মুখোমুখি হয়েই আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল।

এদিকে আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামার পূর্বে সুখবর এসেছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ থেকেও। আইসিসির হালনাগাদ করা ওয়ানডে বোলিং তালিকায় দুই ধাপ উন্নতি ঘটিয়ে ১১ নম্বরে উঠে এসেছেন বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম। অন্যদিকে এক লাফে ৯ ধাপ এগিয়ে ১২তম স্থান দখল করেছেন তাসকিন আহমেদ। এটিই এই দুই টাইগার বোলারের ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থান।

ব্যাটসম্যানদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে আফগানিস্তানের উদীয়মান ব্যাটার সেদিকউল্লাহ আতালের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত পরশু ১১০ বলে খেলা ১০২ রানের ইনিংসটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর সুবাদে র‍্যাঙ্কিংয়ের ৩২তম অবস্থান থেকে এক লাফে ২০ নম্বরে পৌঁছে গেছেন তিনি। এ ছাড়া রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচের পর পাকিস্তানের সালমান আগা এক ধাপ এগিয়ে ১২ নম্বরে এবং ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট দুই ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বরে জায়গা পেয়েছেন।

ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রভাব পড়েছে কুড়ি ওভারের র‍্যাঙ্কিংয়েও। সেখানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা। টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলনেতা শাই হোপ। পাশাপাশি তাঁর সতীর্থ শেরফান রাদারফোর্ড ছয় ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ১৮ নম্বরে।

সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাভারে থাইল্যান্ড থেকে আনা অদ্ভুত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’: ফুটেছে পাপড়িহীন গ্রেভিলিয়া

গ্রেভিলিয়ার ফুল ও ফল

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের এক সকালে ঢাকার সাভারের বরিশাল নার্সারিতে দেখা মেলে এক ব্যতিক্রমী ফুলের, যাতে প্রচলিত কোনো পাপড়ির অস্তিত্ব নেই। মাকড়সার পায়ের বিন্যাসের মতো সাজানো পুষ্পমঞ্জরি দেখে নার্সারির ব্যবস্থাপক এটিকে ‘বোতলব্রাশ’ বলে উল্লেখ করলেও চেনা বোতলব্রাশের সঙ্গে এর মিল ছিল না। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, এটি প্রোটিয়েসি গোত্রের অন্তর্গত ‘গ্রেভিলিয়া’ গণের উদ্ভিদ। উল্লেখ্য, এই গোত্রে প্রায় ৮০টি গণ এবং ২ হাজার প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত। প্রোটিয়েসি গোত্রের উদ্ভিদে স্বতন্ত্র কোনো বৃতি বা পাপড়ি থাকে না; বরং টেপাল নামের চারটি পাপড়িসদৃশ অংশের একটিমাত্র চক্র গঠিত হয়।

বরিশাল নার্সারির মালিক মো. ইব্রাহিমের ভাষ্যমতে, থাইল্যান্ড থেকে আনা স্বল্প কিছু চারা মাতৃগাছ হিসেবে সেখানে বড় করা হচ্ছে। অদ্ভুত গড়নের কারণে আকৃষ্ট হয়ে তিনি গ্রেভিলিয়ার একাধিক জাত সংগ্রহ করেন, যেগুলোতে প্রায় সারা বছরই ফুল ফুটতে দেখা যায়। মূলত গ্রেভিলিয়া গণে ৩৮০টি প্রজাতি রয়েছে, যেগুলো পরিচিত ‘স্পাইডার ফ্লাওয়ার’ নামে। আঠারো শতকের বিশিষ্ট উদ্ভিদবিদ এবং রয়্যাল হর্টিকালচার সোসাইটির সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লস ফ্রান্সিস গ্রেভিলির নামানুসারে এই গণের নামকরণ করা হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে সাভারের গাছটির পুষ্পমঞ্জরি ‘Grevillea acanthifolia’ প্রজাতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যার তিনটি উপপ্রজাতি বিদ্যমান এবং পাতার গঠনে সেগুলোর ভিন্নতা স্পষ্ট।

ইংরেজিতে ‘অ্যাকান্থাস-লিভড গ্রেভিলিয়া’ নামে পরিচিত বহুবর্ষজীবী এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের বাংলা কোনো নাম পাওয়া যায়নি। ১৮১৭ সালে পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অভিযানকালে ইংরেজ উদ্ভিদবিজ্ঞানী অ্যালান কানিংহাম (১৭৯১-১৮৩৯) নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্লু মাউন্টেনস অঞ্চলের পিটযুক্ত জলাভূমি ও কক্স নদীর তীরে এর সন্ধান পান। পরবর্তীতে ব্যারন ফিল্ড সম্পাদিত ‘জিওগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার্স অন নিউ সাউথ ওয়েলস’ (১৮২৫) গ্রন্থে তিনি এর প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করেন। নার্সারিতে দেখা যায়, সোয়া মিটারের মতো দীর্ঘ দুটি গাছের কাণ্ড সোজা হলেও ডালপালা এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। উজ্জ্বল সবুজ, শক্ত ও কাঁটাযুক্ত পাতার ফলক ৯ থেকে ১৪টি খণ্ডে গভীরভাবে বিভক্ত। প্রতিটি পাতা ৪ থেকে ৯ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ও ৩ থেকে ৭ সেন্টিমিটার চওড়া; উপখণ্ডের অগ্রভাগ সূচালো ও রৈখিক, কীলকাকার বা ত্রিভুজাকৃতির।

গোলাপি থেকে বেগুনি রঙের ফুলগুলো একপাশে বিন্যস্ত হয়ে টুথব্রাশের মতো রূপ নেয়, যার মঞ্জরির দৈর্ঘ্য ৩ থেকে ১০ সেন্টিমিটার। এর ক্ষুদ্র বৃত্যংশ বা পাপড়ি হালকা সবুজ থেকে ধূসর রঙের, যা বাইরে রোমশ এবং ভেতরে মসৃণ। লাল রঙের দীর্ঘ গর্ভদণ্ডের শীর্ষে থাকে সবুজ পরাগ ধারণকারী অংশ। মূলত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে বেশি ফুটলেও সারা বছরই ফুল ফোটে এবং ফুল ঝরে যাওয়ার পর তৈরি হয় লালচে দাগযুক্ত রোমশ ফল বা ফলিকল। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের জলাভূমি ও উঁচু স্থানের এই স্থানীয় উদ্ভিদটি বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে বাগানের শোভাবর্ধক হিসেবে রোপণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সরকারিভাবে এর নথিভুক্ত তথ্য না থাকলেও পূর্বে ‘সিলভার ওক’ (Grevillea robusta)-এর উপস্থিতির তথ্য রয়েছে এবং সাম্প্রতিককালে এই প্রজাতির বিস্তারও ঘটছে।

হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা: কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা?

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা: কতটা নিরাপদ আপনার ব্যক্তিগত বার্তা?

হোয়াটসঅ্যাপ কি তথ্য সংগ্রহ করে?

মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান ও ভয়েস-ভিডিও কলে ব্যবহৃত হয় ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ প্রযুক্তি। এই বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থার ফলে প্রেরক ও প্রাপক ব্যতীত তৃতীয় কোনো পক্ষ, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ বা মূল প্রতিষ্ঠান মেটাও যোগাযোগের মূল বিষয়বস্তু জানতে পারে না। তবুও প্ল্যাটফর্মটি বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের কিছু ব্যক্তিগত ও কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। তাছাড়া মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনেও নির্দিষ্ট কিছু ডেটা আদান-প্রদান করা হয়। তবে ডেটা সংগ্রহ বা শেয়ার করার অর্থ এই নয় যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করছে।

অ্যাপ সচল রাখা ও সার্বিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপ মূলত তিনটি মাধ্যম থেকে তথ্য পায়। প্রথমত, ব্যবহারকারী নিজে যখন অ্যাকাউন্ট খোলেন, তখন ফোন নম্বর ও নামের মতো তথ্য প্রদান করেন। দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে অ্যাপটি ব্যবহারের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশ কিছু কারিগরি উপাত্ত সংগৃহীত হয়। তৃতীয়ত, অন্যান্য ব্যবহারকারীর মাধ্যমেও তথ্য আসে; যেমন পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কারও মুঠোফোনের কন্ট্যাক্ট তালিকায় আপনার নম্বর সেভ থাকলে তা পৌঁছায়। তবে এসব উপাত্ত জমা হলেও এনক্রিপশন প্রযুক্তির কারণে ব্যক্তিগত টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও কিংবা সংযুক্ত নথির ভেতরের অংশে কারো প্রবেশাধিকার থাকে না। মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সাথে হোয়াটসঅ্যাপের ফিচার যুক্ত করলে—যেমন হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস ফেসবুকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে—কিছু তথ্য উভয় সেবার মধ্যে আদান-প্রদান হতে পারে।

নিজস্ব তথ্যের সুরক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ সুবিধা রয়েছে, যার সাহায্যে সেটিংস পর্যালোচনা ও পরিবর্তন করা যায়। সেটিংসের প্রাইভেসি বিভাগে গিয়ে প্রোফাইল ছবি কিংবা ‘লাস্ট সিন’ বা সর্বশেষ সক্রিয় থাকার সময় কারা দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণের বিকল্প মেলে। সেখানে ‘সবাই’, ‘সংরক্ষিত পরিচিতি’, ‘নির্দিষ্ট কিছু পরিচিতি’ অথবা ‘কেউ নন’—পছন্দমাফিক অপশন বেছে নেওয়া যায়। পাশাপাশি কে গ্রুপে যোগ করতে পারবে তা নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেসেজ মুছে যাওয়া, বিশেষ আলাপের গোপনীয়তায় ‘চ্যাট লক’ এবং সম্পূর্ণ অ্যাপ সুরক্ষায় ‘অ্যাপ লক’ ব্যবহারের সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।

মুঠোফোন পরিবর্তন বা হারিয়ে যাওয়ার পর পুরোনো বার্তা ফিরে পেতে চ্যাট ব্যাকআপ খুবই সহায়ক। গুগল অ্যাকাউন্ট অথবা আইক্লাউডে সংরক্ষিত এই ব্যাকআপকে নিরাপদ রাখতে আলাদাভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সক্রিয় করার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড কিংবা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি (key) ব্যবহার করে ব্যাকআপ সুরক্ষিত রাখা হয়। তবে কোনো কারণে এই কোড বা পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে সংরক্ষিত আলাপ উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, কারণ হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও তা ফিরিয়ে দিতে পারে না। তাই ব্যক্তিগত তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখতে ব্যাকআপের সুরক্ষাসহ সার্বিক প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত তদারকি করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে।