জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় সম্প্রতি উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প জায়গার সন্ধান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি এই পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সিটি করপোরেশন। উপযুক্ত স্থান পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে হকারদের নিয়মিত ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানান, হকারদের পুনর্বাসনের জন্য সংস্থার নিজস্ব জমি কিংবা প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে জায়গা নির্ধারণ করা হবে। মিরপুরের হকারদের জন্য শাহ আলী কাঁচাবাজারের আড়ত কমপ্লেক্সের আশপাশের একটি ফাঁকা জায়গা এবং উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকার জন্য দিয়াবাড়ির সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শন করা হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই মূল সড়ক বা ফুটপাত দখল করে আর ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুনর্বাসিত এলাকায় হকারদের কাছ থেকে বাইরের কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী যাতে অবৈধভাবে চাঁদা তুলতে না পারে, সেজন্য পুরো বিষয়টি সিটি করপোরেশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় হকারদের কাছ থেকে সামান্য ফি নেওয়া হতে পারে এবং এর বিনিময়ে ওই এলাকার বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব নেবে সিটি করপোরেশন। এছাড়া হকারদের পূর্বের তালিকা যাচাই-বাছাই করে বর্তমান বাস্তবতার আলোকে নতুন করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে।
এর আগে মিরপুর ও উত্তরা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সাঁড়াশি অভিযান চালায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। উচ্ছেদের পর এসব এলাকার সড়ক ও ফুটপাত ফাঁকা হওয়ায় সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরেছে। এখন হকারদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখা—উভয় বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই ডিএনসিসির সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।