টানা পাঁচ মাস তিন বিলিয়নের নিচে প্রবাসী আয়, ঊর্ধ্বমুখী ডলারের দর
মার্কিন ডলার
চলতি বছরের মে মাসের পর থেকে টানা পাঁচ মাস ধরে দেশে আসা রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলারের কোটা ছুঁতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৮৪ কোটি ডলার। এর আগের মাস সেপ্টেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার, অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আয় সামান্য বেড়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় ছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার এবং আগস্টে তা বেড়ে হয়েছিল ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এদিকে গত বছরের অক্টোবরে যেখানে ২৫৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, সেই তুলনায় সদ্য বিদায়ী অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকিং সুবিধার প্রসার ও ডলারের আনুষ্ঠানিক রেট স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসী আয়ের ধারা বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়েনি। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা সত্ত্বেও এতে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। সেপ্টেম্বরে কিছুটা কমলেও অক্টোবরে তা ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ও রিজার্ভ গঠনে ইতিবাচক সহায়তা করছে। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো আয় সব ইতিহাস ভেঙে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়, যার মধ্যে ছয় মাসেই ৩০০ কোটি ডলারের বেশি করে রেমিট্যান্স এসেছিল। এছাড়া দুই বছর আগের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ এবং সেবারই প্রথমবারের মতো তা ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই শক্তিশালী প্রবাহ ডলার বাজারে স্থিতি ধরে রেখেছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।
তবে প্রবাসী আয় ইতিবাচক থাকলেও ব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত ১৯ অক্টোবর আন্তব্যাংক লেনদেনে আমদানির জন্য ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা, যা গত বৃহস্পতিবার উন্নীত হয় ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায়। এ সময়ে প্রতিদিন দর বেড়েছে ৫ থেকে ২০ পয়সা পর্যন্ত। গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলোর ঘোষিত হার অনুযায়ী, বিদেশফেরতদের কাছ থেকে সিটি ব্যাংক নগদ ডলার সংগ্রহ করেছে ১২৪ টাকা ৭৫ পয়সায় এবং বিক্রি করেছে ১২৬ টাকায়। ব্র্যাক ব্যাংক কিনেছে ১২৫ টাকা ৫০ পয়সা দরে আর বিক্রি করেছে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায়। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ক্রয় করেছে ১২৫ টাকায় ও বিক্রি করেছে ১২৬ টাকা ২৫ পয়সায়। অপরদিকে অগ্রণী ব্যাংক নগদ ডলার ১২৩ টাকায় কিনে ১২৪ টাকায় বিক্রি করে। ব্যাংকে ডলারের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা হলেও মতিঝিলের খোলাবাজার ও মানি চেঞ্জারে বৃহস্পতিবার তা সর্বোচ্চ ১২৮ টাকায় কিনে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়েছে।





আপনার মতামত লিখুন