খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

কিশোরী বয়সেই শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী, রাজপুত্রকে চুম্বন থেকে প্রেমে গৃহত্যাগ: পদ্মিনী কোলহাপুরের বর্ণময় জীবন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কিশোরী বয়সেই শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী, রাজপুত্রকে চুম্বন থেকে প্রেমে গৃহত্যাগ: পদ্মিনী কোলহাপুরের বর্ণময় জীবন

পদ্মিনী কোলহাপুরে। এক্স থেকে

ভারতের হিন্দি চলচ্চিত্রের আশির দশকের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ পদ্মিনী কোলহাপুরের আজ ১ নভেম্বর জন্মদিন। ১৯৬৫ সালের ১ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের এক সাঙ্গীতিক পরিবারে জন্ম নেন তিনি। তাঁর পিতা পণ্ডিত পণ্ডরীনাথ কোলহাপুরে ছিলেন বিশিষ্ট সুরসাধক। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোসলে সম্পর্কে তাঁর আত্মীয়। তিন বোনের মধ্যে মেজ পদ্মিনী শৈশবে গায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং দুই প্রখ্যাত পিসির দলের সঙ্গে কোরাসেও অংশ নেন; এমনকি নিজের কয়েকটি চলচ্চিত্রে কণ্ঠদানও করেন। তবে ভাগ্য তাঁকে টেনে নিয়ে যায় রূপালি পর্দায়। তাঁর বড় বোন শিবাঙ্গী কোলহাপুরের স্বামী অভিনেতা শক্তি কাপুর এবং তাঁদের মেয়ে অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর; কনিষ্ঠ বোন তেজস্বিনীও অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাত্র সাত বছর বয়সে ১৯৭২ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের খাতায় নাম লেখান পদ্মিনী। ‘ইশক ইশক ইশক’, ‘জিন্দেগি’ ও ‘ড্রিম গার্ল’-এ ছোট চরিত্রে রূপদানের পর ১৯৭৮ সালে রাজ কাপুরের ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ চলচ্চিত্রে জিনাত আমান অভিনীত চরিত্র রূপার বাল্যকালের ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি প্রভূত খ্যাতি লাভ করেন।

এরপর ১৯৮০ সালে ‘ইনসাফ কা তারাজু’ সিনেমায় ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর জটিল যন্ত্রণাদায়ক চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় উপহার দেন তিনি। এই অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে মাত্র ১৫ বছর বয়সে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতে তাক লাগিয়ে দেন। ১৯৮১ সালে ‘আহিস্তা আহিস্তা’ ছবিতে বিশেষ প্রশংসা কুড়োনোর পর ১৯৮২ সালে রাজ কাপুর নির্মিত ‘প্রেম রোগ’-এ ঋষি কাপুরের বিপরীতে উচ্চবর্ণের এক তরুণ বিধবার ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। কুসংস্কার ও সামাজিক বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে করা সেই বলিষ্ঠ অভিনয়ের সুবাদে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর খেতাব অর্জন করেন পদ্মিনী। পরবর্তী সময়ে ‘বিধাতা’, ‘ওহ সাত দিন’, ‘পেয়ার ঝুকতা নেহি’, ‘স্বর্গ সে সুন্দর’, ‘মুদ্দত’ ও ‘দাতা’র মতো অজস্র ব্যবসাসফল ছবি উপহার দেন তিনি। মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর রসায়ন বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।

সাফল্যের পাশাপাশি কিছু হাতছাড়া হয়ে যাওয়া কাজের আক্ষেপও রয়েছে তাঁর ক্যারিয়ারে। ‘সিলসিলা’, ‘তোহফা’ ও ‘এক দুজে কে লিয়ে’র মতো ছবিগুলো ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাঁকে, যে চরিত্রগুলোতে পরবর্তী সময়ে যথাক্রমে রেখা, শ্রীদেবী ও রতি অগ্নিহোত্রী অভিনয় করেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় আক্ষেপ রাজ কাপুরের ‘রাম তেরি গঙ্গা মেইলি’। পর্দায় চুম্বনদৃশ্যে আপত্তি থাকায় তিনি মুখ্য চরিত্রটির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন, যা পরবর্তীতে মন্দাকিনীকে খ্যাতি এনে দেয়। পরিচালক মন্দাকিনীকে নিয়ে ৪৫ দিন চিত্রগ্রহণের পরও পদ্মিনীকে নেওয়ার কথা ভাবলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। পর্দার বাইরে ১৯৮১ সালে মুম্বাইয়ের রাজকমল স্টুডিওতে ‘আহিস্তা আহিস্তা’র সেটে ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লস (বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লস) উপস্থিত হলে তাঁকে স্বাগত জানাতে গিয়ে অভিনেত্রী শশীকলা আরতি করার পর পদ্মিনী সরল আনন্দ ও সৌজন্যবশত চার্লসের গালে একটি চুম্বন আঁকেন। সেই দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শোরগোল ফেলে দেয় এবং পদ্মিনীকে নিয়ে প্রবল বিতর্কের সৃষ্টি হয়, এমনকি তাঁর আইনজীবী চাচাকে নোটিশের জবাব দিতে হয়। ২০২২ সালে চার্লসের সিংহাসনে আরোহণের পরও এই স্মৃতি ফিরে আসে; যুক্তরাজ্যে একবার অভিবাসন কর্মকর্তাও পদ্মিনীর পরিচয় পেয়ে এই প্রসঙ্গ তোলেন।

ব্যক্তিজীবনে পর্দার সহশিল্পী ঋষি কাপুরের ঘোর ভক্ত ছিলেন পদ্মিনী; বাল্যকালে স্কুল ফাঁকি দিয়ে এবং মা-বাবাকে মিথ্যা বলেও ঋষির ছবি দেখতে যেতেন। পরে তাঁর সঙ্গেই ‘জামানে কো দিখানা হ্যায়’ ছবির ‘পুছো না ইয়ার ক্যায়া হুয়া’ গানের দৃশ্যে অভিনয়ের স্মৃতি তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। ২০২০ সালে ঋষি কাপুরের মৃত্যুতে তিনি গভীর শোকাহত হন। এদিকে তাঁর বাস্তব জীবনের প্রণয়কাহিনীও কোনো চিত্রনাট্যের চেয়ে কম রোমাঞ্চকর ছিল না। ১৯৮৬ সালে ‘আইসা পেয়ার কাহাঁ’ ছবির শুটিং চলাকালে প্রযোজক প্রদীপ শর্মা ওরফে টুটু শর্মার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেম গড়ে ওঠে। কিন্তু রক্ষণশীল মারাঠি পরিবারের আপত্তির মুখে পদ্মিনী নিজের ভালোবাসাকে ত্যাগ করেননি। বড় বোন শিবাঙ্গী, দুলাভাই শক্তি কাপুর এবং অন্তরঙ্গ বান্ধবী পুনম ধিল্লনের সহযোগিতায় বাড়ির পেছনের প্রাচীর টপকে পালিয়ে গিয়ে ১৯৮৬ সালে প্রদীপকে বিয়ে করেন তিনি। এরপর নবদম্পতি জয়পুরে পাড়ি জমান এবং ওই ছবির কিছু দৃশ্য পুনরায় ধারণ করতে হয়। পরবর্তীতে তাঁদের একমাত্র সন্তান প্রিয়াঙ্ক শর্মা ২০২১ সালে প্রযোজক করিম মোরানির কন্যা শাজা মোরানিকে বিয়ে করেন। দীর্ঘ দাম্পত্যে পদ্মিনী ও টুটু শর্মা আজও একসঙ্গেই রয়েছেন।

টানা অভিনয়ের ক্লান্তি এবং দাম্পত্য ও মাতৃত্বকে প্রাধান্য দিতে ১৯৮৯ সালের দিকে অভিনয়জীবন থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন পদ্মিনী। দীর্ঘ ব্যবধানের পর ২০০৩ সালে ‘চিমানি পাখর’ নামক মারাঠি ছবির মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। পরবর্তীতে ‘মাই’, ‘দ্য ডটার’, ‘ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো’ ও ২০১৯ সালের ‘পানিপথ’-এ তিনি কাজ করেন। ছোট পর্দায় ‘এক নায়ি পেহচান’ ধারাবাহিক, ওটিটিতে ‘দিল বেকারার’ এবং মঞ্চে ‘বাপ কা বাপ’ নাটকে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে। ২০২৪ সালে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে পাঁচ দশকের পথচলায় থিয়েটার তাঁকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার নতুন স্বাদ দিয়েছে। প্রায় ১২ বছর পর ২০২৫ সালে ঐতিহাসিক মেগা ধারাবাহিক ‘চক্রবর্তী সম্রাট পৃথ্বীরাজ চৌহান’-এ রাজমাতার চরিত্রে ছোট পর্দায় প্রত্যাবর্তন ঘটে তাঁর। তবে সুবিশাল ক্যারিয়ারে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে না পারার খামতি আজও তাঁর মনে আক্ষেপ হয়ে রয়ে গেছে।

advertisement
advertisement

৩৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য চায় সদর দপ্তর

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
৩৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য চায় সদর দপ্তর

৩৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য চায় সদর দপ্তর

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের পুলিশ ক্যাডারের ৩০তম ও ৩১তম ব্যাচের মোট তিনশ সাতান্ন জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাজনিত বিভিন্ন তথ্য জরুরি ভিত্তিতে চেয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে পাঠানো এক বিশেষ নির্দেশনায় আগামী মঙ্গলবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। তালিকাভুক্ত এই বিশাল বহরের কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩০তম ব্যাচের একশ ঊনআশি জন এবং ৩১তম ব্যাচের একশ আঠারো জন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই তথ্য তলব করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে পাঠানো এই নির্দেশনামূলক চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তালিকাভুক্ত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বে বা বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। যদি কোনো মামলা থেকে থাকে তবে সেটির বর্তমান আইনি অবস্থা এবং সর্বশেষ আপডেট কী, তা বিস্তারিতভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই সমস্ত সংবেদনশীল তথ্য কাগজের কপি এবং ডিজিটাল ফাইল বা সফট কপি—উভয় মাধ্যমেই পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠাতে হবে। মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দ্রুততার সঙ্গে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এই চিঠিটি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক এবং বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত অক্টোবরের শেষ দিকে পারসোনেল ম্যানেজমেন্ট শাখা থেকেও একই ধরনের কর্মকর্তাদের বিভাগীয় শৃঙ্খলা এবং ফৌজদারি মামলার তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং তথ্যের সঠিকতা যাচাই করার জন্যই মূলত ক্রাইম অ্যানালাইসিস শাখা থেকে নতুন করে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান তালিকায় থাকা এই তিনশ সাতান্ন জন কর্মকর্তা সবাই বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অথবা অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার পদমর্যাদায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, হাইওয়ে পুলিশ, শিল্পাঞ্চল পুলিশ এবং বিভিন্ন জেলা পুলিশের পাশাপাশি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত রয়েছেন। তালিকার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ কর্মকর্তার বর্তমান কর্মস্থলের বিবরণীর পাশাপাশি কয়েকজনের বিশেষ পেশাগত অবস্থার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন এই তালিকায় থাকা একজন কর্মকর্তা বর্তমানে সাময়িকভাবে বরখাস্ত অবস্থায় আছেন এবং অন্য আরেকজন বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে তালিকাভুক্ত সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই যে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। মূলত এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা রয়েছে কি না, থেকে থাকলে সেগুলোর আইনি অগ্রগতি কী এবং কোনো বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। মাঠপর্যায় থেকে সংগৃহীত এই সমস্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার পর পুলিশ প্রশাসন পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী

দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের কৃষি খাতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেশের কৃষি উৎপাদন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই তথ্য অনুযায়ী এক বছরের ব্যবধানে দেশে পেঁয়াজ ও আমন ধানসহ বেশ কিছু কৃষিপণ্যের উৎপাদন সন্তোষজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একই সময়ে প্রধান খাদ্যপণ্য আলুর উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে যা কৃষিমহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন প্রায় ছয় লাখ টন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের অর্থবছরে পেঁয়াজের মোট উৎপাদনের পরিমাণ যা ছিল তা পরবর্তী সময়ে শতকরা হিসাবে আঠারো ভাগের বেশি বেড়ে গেছে। কৃষকরা পর্যাপ্ত দাম পাওয়ায় এবং সংরক্ষণের সুবিধা উন্নত হওয়ায় পেঁয়াজ চাষে ব্যাপকভাবে ঝুঁকেছেন। পাশাপাশি রসুন এবং শীতকালীন মরিচের আবাদ ও ফলনও আগের তুলনায় সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপরীত চিত্র দেখা গেছে আলুর ক্ষেত্রে যেখানে ফলন প্রায় তিন লাখ টন কমেছে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে বিগত বছরগুলোতে কৃষকরা আলুর আশানুরূপ বাজারমূল্য না পাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। হিমাগারে রেখেও সঠিক দাম না পাওয়ায় চাষিরা পরবর্তীতে আলু চাষের জমি কমিয়ে দিয়েছেন। শুধু আলু নয় বরং গম উৎপাদনের ক্ষেত্রেও সামান্য নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।

ধানের বাজারে স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে আমন ধানের উৎপাদন যা আগের তুলনায় প্রায় আট লাখ টন বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সময়মতো বৃষ্টিপাত এই উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এছাড়া শীতকালীন ভুট্টা এবং সয়াবিনের উৎপাদনও বেশ ভালো পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করতে সাহায্য করবে।

কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিশ্রমিকদের দৈনিক মজুরির একটি চিত্রও উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। অঞ্চলভেদে পুরুষ ও নারী কৃষিশ্রমিকদের মজুরিতে তারতম্য রয়েছে এবং কাজের ধরন ও খাবারের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে এই মজুরি নির্ধারিত হয়। দেশের বিভিন্ন উপজেলার নমুনা সংগ্রহ করে এই মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে যা সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

ক্যারিয়ার যখন ব্যারিয়ার

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ক্যারিয়ার যখন ব্যারিয়ার

ক্যারিয়ার যখন ব্যারিয়ার

লাইফস্টাইল ডেস্ক: বাংলাদেশে আধুনিক কর্মজীবনে সাফল্যের সংজ্ঞা দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমান প্রজন্মের পেশাজীবীদের কাছে ক্যারিয়ারে সফলতার অর্থ কেবল একটি বড় পদ কিংবা মোটা অঙ্কের বেতন অর্জন নয়। এর পাশাপাশি কাজের পরিবেশ, মানসিক শান্তি এবং ব্যক্তিগত আত্মোন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই এখন পেশাগত অর্জনের চেয়ে নিজের ভালো থাকাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

দেশের প্রতিটি পেশার নিজস্ব কিছু সুবিধা এবং নানামুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একজন কর্মীর কাজের ধরন ও চাপের ওপর নির্ভর করে তার অভিজ্ঞতার ভিন্নতা তৈরি হয়। তবে সামাজিক ও পেশাগত ক্ষেত্রে অন্যের সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ারের তুলনা করার প্রবণতা প্রায়ই তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়িয়ে দেয়। এই মানসিক চাপ তাদের কাজের উৎসাহ কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মক্ষমতা নষ্ট করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পেশাগত জীবনে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত কাজের চাপ কিংবা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হলে অনেকেই হতাশায় ভুগে থাকেন, যা তাদের ব্যক্তিগত জীবনকেও প্রভাবিত করে। তাই অন্যের সফলতার পেছনে না ছুটে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী কাজের গতি নির্ধারণ করা উচিত।

পেশাজীবীদের মতে, ক্যারিয়ারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজের দক্ষতার পূর্ণ বিকাশ ঘটানো এবং কাজের মাধ্যমে আত্মতৃপ্তি লাভ করা। সামাজিক তুলনা বন্ধ করে নিজের প্রবৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিলে কর্মজীবনে যেমন দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য আসে, তেমনই মানসিক শান্তিও বজায় থাকে।