খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসছে বিদেশি শ্রমিক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসছে বিদেশি শ্রমিক

রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসছে বিদেশি শ্রমিক

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার এবং কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধ করতে একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত সব বিদেশি নাগরিককে এবার কিউআর কোড সংবলিত নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে পুলিশ প্রশাসন। সম্প্রতি রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পুলিশ সদর দপ্তরের আয়োজিত এক কনফারেন্সে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এরপর থেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ, পুলিশের বিশেষ শাখাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর বিষয়টি নিয়ে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। তবে বর্তমানে এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি অসাধু চক্র নানা কৌশলে বাংলাদেশে এসে সাইবার প্রতারণা, অনলাইন জুয়া ও স্ক্যামিংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এর আগে কক্সবাজারের একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ একাধিক বিদেশি নাগরিককে আটক করে। পর্যটক বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় প্রবেশ করে অবৈধভাবে কাজ করার পাশাপাশি এই চক্রের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করছে। সমন্বিত কোনো তথ্যভাণ্ডার না থাকায় এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছিল না, যার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা।

বর্তমানে বাংলাদেশে কত সংখ্যক বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন, তার সুনির্দিষ্ট ও হালনাগাদ পরিসংখ্যান নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকদের আয়কর দেওয়া ও কাজের বৈধ অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও জরিমানা কম থাকায় অনেকে তা উপেক্ষা করছেন। বিশেষ করে এ-থ্রি ভিসাধারী বা মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসায় থাকা ব্যক্তিরা সহজে দেশত্যাগ করতে পারায় কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। পুলিশের বিশেষ শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, কিউআর কোডভিত্তিক নিবন্ধনের কাজটি সফল হলে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং অপরাধী শনাক্তকরণ অনেক সহজ হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমতি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড, বেপজা ও বেজা সহ একাধিক কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালন করে আসছে। সম্প্রতি এই প্রক্রিয়াটি আরও কার্যকর করতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ নামের একটি নতুন দপ্তর গঠন করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকে পুরোনো পাসপোর্ট পরিবর্তন করে পুনরায় দেশে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এই নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জানান যে, বিদেশি শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণের কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব ক্ষতি রোধ এবং অপরাধ দমন কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

advertisement
advertisement

হুমকির মুখে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হুমকির মুখে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা

হুমকির মুখে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা

জাতীয় ডেস্ক: দেশের সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত পার্বত্য অঞ্চলের সাজেক উপত্যকা এলাকাটি সম্প্রতি নতুন করে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই জনপদের অস্থিরতা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। অথচ ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার জোরালো প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। দেশের মোট ভূখণ্ডের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলে তুলনামূলক কম জনসংখ্যা বসবাস করলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পেছনের পটভূমি এবং এর বিভিন্ন শর্ত নিয়ে শুরু থেকেই নানা মহলে বিতর্ক ও সমালোচনা রয়েছে। ওই সময়ে স্থানীয় বাস্তবতার গভীর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সামরিক বাহিনীর সুনির্দিষ্ট পরামর্শ উপেক্ষা করেই চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন সময়ে শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র তৎপরতা কোণঠাসা হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে তাড়াহুড়ো করে এই চুক্তি সম্পাদন করা হয়। এর ফলে চুক্তির বিভিন্ন ধারায় এমন কিছু শর্ত যুক্ত করা হয় যা পরবর্তীতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য নানা জটিলতা তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে মোতায়েন করা সামরিক বাহিনীর অধিকাংশ অস্থায়ী ক্যাম্প পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে মাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট গ্যারিসন রেখে বাকি ক্যাম্পগুলো গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে অথবা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চুক্তির বিধান অনুযায়ী কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতে বা বেসামরিক প্রশাসনের অনুরোধে সেনা মোতায়েনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিষদ এবং জেলা পরিষদগুলোর শীর্ষ পদ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত করায় স্থানীয় প্রশাসনের ওপর তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এ ছাড়া ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন এবং ভূমি মালিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে যা বহু বাঙালি পরিবারকে প্রান্তিক করে তুলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আঞ্চলিক পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের জন্য নতুন কোনো আইন বা বিধি প্রণয়ন করা যাবে না এমন বিধানও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় পুলিশ নিয়োগ ও প্রশাসনিক বদলির ক্ষমতা জেলা পরিষদের হাতে ন্যস্ত করায় সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শাসনব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সব মিলিয়ে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যকার ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং আইনগত জটিলতা পার্বত্য চট্টগ্রামকে পুনরায় একটি সংঘাতের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ অঞ্চলের মর্যাদা এবং ভূমির অধিকার সংক্রান্ত বিতর্কিত ধারাগুলোর কারণে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে

শিক্ষা ডেস্ক: দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার পর অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ সুগম হয়েছে। বহু বছর ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত থাকার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক শুধু পদমর্যাদা থেকেই বঞ্চিত হননি, বরং এর সঙ্গে জড়িত আর্থিক সুবিধা থেকেও দূরে ছিলেন। আদালতের রায় আসার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এখন শূন্য পদগুলোতে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। তবে আইনি বাধা কাটলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে শিক্ষকদের মনে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি আসেনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক শূন্য পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য প্রথমে জেলাভিত্তিক জ্যেষ্ঠতার তালিকা বা গ্রেডেশন প্রস্তুত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের চাকরির নথি, সার্ভিস বুক এবং অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন যে কোনো যোগ্য শিক্ষক যাতে ভুল তথ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ে কিছুটা সময় ব্যয় হচ্ছে।

শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে থাকার মূল কারণ ছিল ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইনি বিরোধ। তৎকালীন বিধিমালার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে আপিল বিভাগ সরকারের পক্ষে রায় প্রদান করেন। আদালতের সেই নির্দেশনায় বলা হয় যে ২০১২ সাল পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতায় অগ্রাধিকার পাবেন এবং জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের আগের চাকরির অর্ধেক সময় কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে। এই আইনি মারপ্যাঁচ এবং আদালতের রায়ের অনুলিপি পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম থমকে ছিল।

এদিকে আইনি বাধা দূর হওয়ার পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফাইল চালাচালির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেক শিক্ষক। বিশেষ করে যেসব শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ শেষের পথে, তাঁরা দ্রুত জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করে পদোন্নতি দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, বছরের পর বছর আইনি লড়াইয়ের পেছনে সময় নষ্ট হওয়ার পর এখন আর কোনোভাবেই কালক্ষেপণ কাম্য নয়।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে একটি বড় পরিবর্তন আসবে। ৩৬ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হলে বিদ্যালয়গুলোর দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব সংকট অনেকাংশে দূর হবে। একই সঙ্গে পদোন্নতির ফলে সৃষ্ট খালি পদগুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগের পথও উন্মুক্ত হবে, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর: সূর্যোদয়ের দেশ থেকে আমাদের প্রত্যাশা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর সফর: সূর্যোদয়ের দেশ থেকে আমাদের প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রীর সফর: সূর্যোদয়ের দেশ থেকে আমাদের প্রত্যাশা

অর্থনীতি ডেস্ক: বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিধি ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগের জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ও সেবাখাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

জাপানের সঙ্গে চলমান এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চলতি বছরের শুরুর দিকে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএর কার্যকর বাস্তবায়ন। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং, সেমিকন্ডাক্টর, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ শিল্প এবং জ্বালানি খাতের মতো প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে অংশীদারত্ব জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিগ বি বা বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট উদ্যোগের আওতায় গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বড় অবকাঠামো নির্মাণেও দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

তবে এই বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল পেতে হলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং কাঠামোগত সমস্যাগুলো দূর করতে না পারলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। বন্দর ও কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষ জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসার অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে জাপানি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী রপ্তানি পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নতুন বাজার ধরতে সুনির্দিষ্ট বিপণন কৌশল প্রণয়ন করা আবশ্যক।

বাণিজ্য ও অবকাঠামোর পাশাপাশি জাপանի শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট সুযোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বয়স্ক জনসংখ্যার দেশটিতে শ্রমসংকট মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ থাকলেও পূর্বের বিভিন্ন সমন্বয়হীনতার কারণে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তাই জাপানি ভাষার পাশাপাশি যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য রোধ করে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী অভিবাসন নিশ্চিত করতে একটি স্বচ্ছ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।