খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

দুর্নীতি-লুটপাট-দখলদারত্বের পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসেছেন: নাহিদ ইসলাম

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দুর্নীতি-লুটপাট-দখলদারত্বের পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসেছেন: নাহিদ ইসলাম

দুর্নীতি-লুটপাট-দখলদারত্বের পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসেছেন: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশ পরিচালনার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক গণবিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে বর্তমান সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশ থেকে দুর্নীতি, লুটপাট এবং দখলদারত্ব টিকিয়ে রাখা এবং এই পরিকল্পনা নিয়েই প্রধানমন্ত্রী লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন। সমাবেশটি ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলটির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শাহবাগ চত্বরে সমবেত হন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

সমাবেশে সাধারণ মানুষের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম জানান যে তাঁর দলের নেতারা সম্প্রতি রাজধানী ঘুরে মানুষের দুরবস্থার চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমান প্রশাসন দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকার সম্পূর্ণ উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে।

সরকারের এই সার্বিক ব্যর্থতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধানত দায়ী করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন এনসিপি নেতা। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান সংস্কার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন, যা জনগণের সঙ্গে একপ্রকার প্রতারণা। এছাড়া জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনার কারণে জ্বালানিমন্ত্রীরও নিজ পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। অবিলম্বে এই দুই মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তা না হলে তাদের আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুংকার দেন তিনি। একতরফা সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ বাতিল করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই জুলাই সনদ ও নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে ভঙ্গ করে চলেছে। হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল আজ নস্যাৎ হতে বসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশের সীমান্তে অব্যাহত হত্যা, পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি এবং প্রতিবেশী দেশের নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। ফেলানি হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশকে ভারতের জন্য করিডর হিসেবে ব্যবহারের যেকোনো অপচেষ্টা এ দেশের জনগণ প্রতিহত করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠিত এই গণবিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে চার দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করা, স্বাধীনতাবিরোধী সব কালাকানুন বাতিলসহ সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী না করা এবং জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করা। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ, নুসরাত তাবাসসুম, সারজিস আলমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। অবিলম্বে দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে বলে সমাবেশে শেষ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

advertisement
advertisement

ই-টায়ারে রানার্সআপ বাংলাদেশ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ই-টায়ারে রানার্সআপ বাংলাদেশ

ই-টায়ারে রানার্সআপ বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক: ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ই-টায়ার প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ দল। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে পঞ্চম স্থানে থাকা দলগুলোকে নিয়ে গঠিত এই বিশেষ ই-টায়ার পর্বে লাল-সবুজের কিশোর ফুটবলাররা দারুণ লড়াই চালিয়ে ফাইনালে নিজেদের জায়গা করে নেয়। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের কাছে পরাজিত হলেও তাদের এই সাফল্য দেশের ফুটবলের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফাইনাল ম্যাচে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যের কাছে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশি কিশোরদের। ম্যাচের প্রথমার্ধেই প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ড মোহি দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে দলকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন, যেখানে তিনি ১৪, ২৬ ও ৩৯ মিনিটে গোলগুলো করেন। এছাড়া ১৬ মিনিটের মাথায় পেনেলের করা আরও একটি গোল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রতিপক্ষের হাতে পুরোপুরি তুলে দেয়।

বাংলাদেশ দলের পক্ষে ম্যাচের ২৩ মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন তাকিব, যা ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। এই একটিমাত্র গোলের সুবাদে বাংলাদেশ লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের চাপ সামলে উঠতে পারেনি। এর ফলে ই-টায়ারের রানার্সআপ ট্রফি নিয়েই তাদের এবারের বিশ্বকাপ মিশনের সফল সমাপ্তি ঘটে।

এর আগে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বেশ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ফাইনালে পৌঁছায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দল। ওয়েলসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ মিশন শুরুর পর পর্তুগালের কাছে হার এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ড্রয়ের মুখ দেখে দলটি। তবে পরের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফিজিকে পরাজিত করা এবং টাইব্রেকারে সিশেলস ও সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে নকআউট পর্বে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দেয় তারা। পরবর্তীতে কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে এবং সেমিফাইনালে গ্যাবনকে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠার টিকিট নিশ্চিত করেছিল উদীয়মান এই ফুটবলাররা।

দেশের সব চিনিকল নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দেশের সব চিনিকল নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

দেশের সব চিনিকল নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

অর্থনীতি ডেস্ক: নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে বর্তমান সরকার এরই মধ্যে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেছে। সম্প্রতি নাটোরের লালপুরে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী চিনিকলের ৯৪তম আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের বন্ধ থাকা সব চিনিকল পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে দেশের নিজস্ব সম্পদ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে কেবল সরকারি প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আখচাষিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, মিলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং প্রণোদনার অর্থ বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে পুরোপুরি পরিশোধ করেছে। এখন থেকে প্রত্যেক কর্মীকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে কাজের মাধ্যমে দক্ষতা ও আন্তরিকতার প্রমাণ দেখাতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল খুব দ্রুতই আবার একটি সফল ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। বর্তমান প্রশাসন প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অন্তরায় সৃষ্টি করা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বসে সার্বিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ সবার জন্য এবং সবার আগে—এই মূল মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে তিনি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। আলোচনা সভা শেষে মিলের কেইন ক্যারিয়ার প্রাঙ্গণে ডোঙায় আখ ফেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ১১৩ কার্যদিবসে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আখচাষিদের আর্থিক সুরক্ষা ও উৎসাহ দিতে এবার আখের দাম প্রতি কুইন্টাল ৬২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের হাতে আখের মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত কৃষি উপকরণ ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চিনিকলের সঙ্গে বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার আখচাষি পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে।

সাঁতারে এক যুগ পুরোনো রেকর্ড ভাঙলেন ইরফানা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাঁতারে এক যুগ পুরোনো রেকর্ড ভাঙলেন ইরফানা

সাঁতারে এক যুগ পুরোনো রেকর্ড ভাঙলেন ইরফানা

খেলা ডেস্ক: জাতীয় সাঁতারে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে একে একে তিনটি ইভেন্টে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিভাবান সাঁতারু ইরফানা খাতুন। এর আগে প্রতিযোগিতার প্রথম দিকে ২০০ ও ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে চমক দেখানোর পর, এবার তিনি ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকেও নিজের নাম লিখিয়েছেন রেকর্ডের পাতায়। মিরপুরের জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এই সাঁতার প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে। তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্য দেশের সাঁতার অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং ক্রীড়ামোদীদের নজর কেড়েছে।

সর্বশেষ ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ইভেন্টটি সম্পন্ন করতে ইরফানার সময় লেগেছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৫৭ সেকেন্ড। এর আগে ২০১৪ সালে মাহফুজা খাতুন শিলা এই দূরত্ব অতিক্রম করেছিলেন ৩৪ দশমিক ৮৫ সেকেন্ডে। দীর্ঘ বারো বছর পর শিলার সেই পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করলেন এই সেনা সাঁতারু। এর আগে ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে দুই মিনিট ৪৫ দশমিক ৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে রোমানা আক্তারের গত বছরের রেকর্ডও ভেঙেছিলেন তিনি। পাশাপাশি ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকেও রোমানার আগের রেকর্ড পেছনে ফেলে নতুন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন ইরফানা।

ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলগত ইভেন্টেও দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রতিযোগিতার তৃতীয় দিনে মেয়েদের ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতে নতুন রেকর্ড গড়েছে সেনাবাহিনীর সাঁতারুরা। তারা নয় মিনিট ৪৭ দশমিক ৯৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে গত বছর নৌবাহিনীর গড়া নয় মিনিট ৫০ দশমিক শূন্য এক সেকেন্ডের রেকর্ডটি ভেঙে দেয়। এই রেকর্ড গড়া রিলে দলে ইরফানা খাতুনের সঙ্গে আরও অংশ নিয়েছিলেন মুক্তি খাতুন, ছুম্মা খাতুন ও জুঁই আক্তার। তাঁদের সম্মিলিত এই সাফল্যে দলটির শিবিরজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার।

এদিকে তিন দিনের এই প্রতিযোগিতায় সব মিলিয়ে নতুন জাতীয় রেকর্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ষোলোটিতে। পদক তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, যারা এখন পর্যন্ত ২৮টি সোনা, ১৮টি রুপা ও ১৩টি ব্রোঞ্জ জিতেছে। অন্যদিকে ১২টি সোনা, ১৮টি রুপা ও ২২টি ব্রোঞ্জ অর্জন করে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এছাড়া দুটি রুপা ও ছয়টি ব্রোঞ্জ পদক নিজেদের ঝুলিতে পুরে তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিকেএসপি। অবশিষ্ট দিনগুলোতে সাঁতারুদের আরও রোমাঞ্চকর লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রীড়াভক্তরা।