খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

শনিবার খুলনা বিভাগে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, অংশ নেবে ১৯ জেলার নেতাকর্মী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শনিবার খুলনা বিভাগে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, অংশ নেবে ১৯ জেলার নেতাকর্মী

শনিবার খুলনা বিভাগে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, অংশ নেবে ১৯ জেলার নেতাকর্মী

রাজনীতি ডেস্ক: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের মতো সাত দফা দাবিতে বড় ধরনের লংমার্চ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দেশের সমমনা কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত ১১ দলীয় ঐক্য। সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, প্রায় চারশো কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথপরিক্রমা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের বর্তমান বিভিন্ন নীতি এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদ জানাতে এই লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। আগের বিভিন্ন কর্মসূচির তুলনায় এই লংমার্চের পরিসর অনেক বড় এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন যে, জনগণের প্রকৃত প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই মাসের গণআন্দোলনে হাজারো মানুষ হতাহত হলেও এখনো অনেক দোষী ব্যক্তি আইনের আওতার বাইরে রয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এছাড়া দেশে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তোলা মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধানের দাবি জানান এই রাজনৈতিক নেতা। রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য জনগণের মতামতকে সম্মান জানানোর ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে শুরু হয়ে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ পেরিয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই লংমার্চে প্রায় ১৯ জেলার রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকেরা অংশ নেবেন। বিশাল এই বহরে দেড় হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছে। কর্মসূচিটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সম্পন্ন করা হয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রার কারণে মহাসড়কে চলাফেরা করা সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য জোটের পক্ষ থেকে আগে থেকেই দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। যাত্রাপথে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ কমাতে গাড়ির বহর সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল করবে এবং মহাসড়কের নির্দিষ্ট অংশ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে একটি সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে এই লংমার্চের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। এরপর রাজধানী থেকে শুরু হওয়া গাড়ির বহরটি বিভিন্ন জেলা ও জনপদ অতিক্রম করে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে গিয়ে সমাপনী জনসভার মধ্য দিয়ে শেষ হবে। যাত্রাপথে শরীয়তপুর, বাগেরহাট, খুলনা, ফুলতলা, যশোর ও ঝিনাইদহসহ মোট ছয়টি স্থানে পথসভার আয়োজন করা হয়েছে যেখানে জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন। লংমার্চে অংশ নেওয়া সব নেতাকর্মীকে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, যাত্রাপথে কোনো ধরনের উসকানিমূলক স্লোগান বা প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে এমন কোনো আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।

advertisement
advertisement

চাকরি হারালেন ডিবির হারুন-অর রশিদসহ ৭ পুলিশ কর্মকর্তা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চাকরি হারালেন ডিবির হারুন-অর রশিদসহ ৭ পুলিশ কর্মকর্তা

চাকরি হারালেন ডিবির হারুন-অর রশিদসহ ৭ পুলিশ কর্মকর্তা

জাতীয় ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার গুরুতর অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যেখানে তাঁর বরখাস্তের আদেশ গত বছরের আগস্ট মাস থেকে কার্যকর বলে গণ্য করার কথা জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কর্মস্থল ত্যাগ ও পলায়নের অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতদিন তিনি সাময়িক বরখাস্তের দায়িত্বে থাকলেও এবার তাঁকে সরাসরি চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হলো। দায়িত্ব পালনকালে তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই কর্মক্ষেত্র ত্যাগ করেছিলেন এবং বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও তিনি আর চাকরিতে ফিরে আসেননি।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিষয়টি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হলে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে কোনো লিখিত জবাব প্রদান করেননি এবং বাড়তি কোনো সময়ও প্রার্থনা করেননি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা মেলে। পরবর্তীতে তাঁকে পুনরায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি সেটিরও কোনো উত্তর দেননি। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত চাওয়া হলে তারাও তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করে।

সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিভাগীয় মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং পিএসসির ইতিবাচক মতামত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার পর তাঁর বিরুদ্ধে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উল্লেখ্য, একই ধরনের অপরাধ অর্থাৎ কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, অসদাচরণ এবং বিনা অনুমতিতে বিদেশে গিয়ে আর কাজে যোগ না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আরও ছয়জন উচ্চপদস্থ ও মাঝারি সারির পুলিশ কর্মকর্তাকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই তালিকায় রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী এবং লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় আরও বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আলাদাভাবে শাস্তিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার কাজী মিজানুর রহমানকে সুনির্দিষ্ট একটি অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রজ্ঞাপনে এটিকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পেশাগত দায়িত্বহীনতা রোধ করতেই এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

খেলাপি ঋণের জালে আটকা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ কী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
খেলাপি ঋণের জালে আটকা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ কী

খেলাপি ঋণের জালে আটকা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ কী

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক ভিত্তি দিন দিন দুর্বল করে তুলছে পাহাড়সম খেলাপি ঋণ। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেশের আর্থিক খাতের এই ভয়ঙ্কর চিত্র উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ঋণগ্রহীতারা কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা অর্থের বড় একটি অংশ আটকে গেছে। এই বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং সাধারণ আমানতকারীদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে তাদের ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংকগুলো নতুন বিনিয়োগ বা ঋণ বিতরণে হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাপি ঋণের এই সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে পুরো আর্থিক খাত একসময় স্থবির হয়ে পড়তে পারে।

এই সংকট উত্তরণে ব্যাংক খাতের নীতিনির্ধারক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নানা ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। বিশেষ করে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। তবে শুধু আইনি প্রক্রিয়াই যথেষ্ট নয়, বরং ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতি দূর করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

দেশের ব্যাংক খাতের এই দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত সারাতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও কার্যকর দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাপি ঋণ আদায়ের বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে যেতে পারে এবং সাধারণ মানুষের ওপর মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না: চিফ হুইপ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না: চিফ হুইপ

আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না: চিফ হুইপ

রাজনীতি ডেস্ক: আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। সম্প্রতি রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে কেবল আন্দোলনের মাধ্যমে কখনো সরকার গঠন করা সম্ভব নয়, কারণ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা পরিবর্তনের একমাত্র বৈধ ও গণতান্ত্রিক পথ হলো নির্বাচন। বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে তারা বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, যদি কোনো কারণে দেশের জনগণ বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট না হয়, তবে তারা আগামী নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন সরকার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। গণতান্ত্রিক ধারা ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সুপ্রতিষ্ঠিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক হলেও পারস্পরিক বিরোধ বা সংঘাতের পথ বেছে নিলে তা তৃতীয় পক্ষের সুবিধা করে দিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। নিজেদের গৃহবিবাদের সুযোগ বাইরের কেউ যেন নিতে না পারে, সে বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকে অত্যন্ত সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন জাতীয় সংসদের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, গত বাহান্ন বছরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে অনেক মূল্যবান সময় অপচয় হয়েছে, যা এখন আর কাম্য নয়। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এখন হানাহানি ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। বর্তমান প্রজন্মকে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার দায়িত্ব দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন মহলের আন্দোলন ও জ্বালানি খাতের নানা প্রসঙ্গ টেনে চিফ হুইপ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে সরকার সাধ্যমতো ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি অনুকূলে রাখার চেষ্টা করছে। অথচ একটি কুচক্রী মহল কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলার পাঁয়তারা করছে। এই ধরনের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশের সব স্তরের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, দেশের অবহেলিত উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন এবং সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।